somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক বার্নার চুলা

১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসাটা কেমন যেন ছিমছাম। অন্ধকার একটা ভাব। ভেতর থেকে বাইরে দেখা যায়। তবু কেমন যেন বন্দি মনে হয়। মনে হয়, ভেতরে শত চেঁচামেচি করলেও বাইরে কিছু শোনা যায় না। ঘরগুলো বড় আছে। এই তো, এখানে টেবিল টা মানাবে। জানালার পাশে। রান্না ঘর টাও বড় চাই। তাই আছে। বুঝলাম না, রান্নাঘরে কেন এক বার্নার চুলা ব্যবহার করতে হবে? এক বার্নার এ রান্না হয়? হটাৎ করে একটা ঘর উপরে উঠে গেছে। পরিধিটা ছোট। ডুপ্লেক্স না। একটু উঁচু। কিন্তু সিঁড়ি লাগে না। পা দিয়ে ওঠা যায়। উঠে দেখি। পেছনের দিকে ছোট একটা দরজা। খুলে দিলে দেখি রান্না ঘর। তাও ঠিক নিচে চুলা। রান্নাঘর থেকে এ দরজা টা স্টোররুম মনে হয়। বুঝেছি, আলমারিটা এখানে বসিয়ে দরজা টা বন্ধই করে দিতে হবে। বাসা টা এখনো খালি হয় নি। শেষ রুম টায় একটা ছোট মেয়ে কে দেখলাম বিছানায় বসে আছে। কাজের লোকটা, যে বাসা দেখাচ্ছিল, হটাৎ মেয়েটাকে বলে উঠলো: এই, অন্য ঘর এ যাও। মেয়ে টা অনেক টা গজ গজ করে বললো: এটা আমার বাবার ঘর। তুই যা! আমি অনেকটাই নিলিপ্ত ভাব দেখালাম। একবার শুধু মেয়েটার দিকে তাকাতে মেয়ে টা চোখ বড় করে আমাকে দেখলো। পরক্ষনেই হাসলো। আমি ঘর দেখায় মগ্ন।

:ঠিক আছে। আমি তাহলে পরে সিদ্ধান্ত জানাই। আমি অবশ্যই কাল পরশুর মধ্যেই জানাবো। আর মূল বাড়ি ওয়ালার সাথে আমি কথা বলতে চাই।
: ম্যাডাম কথা কইবো না। ভাড়ার চুক্তিনামা টা নিয়া যান। পরে দেইখেন। সই দিয়া পরে নিয়া আইসেন।
: না , এটা এখন কি দরকার। আমি তো আরও বাসা দেখছি। আমি সিদ্ধান্ত জানাবো।
: ভাইজান, এইটা আমার স্যারের অনেক শখ এর বাসা। অনেক শখ কইরা বানাইসিলো। অফিসে থেইকা প্রতিদিন আইসা আইসা কাজ দেখতো। পারলে তো নিজেই হাত দিয়া বানাইতো। বেশিদিন থাকতে পারে নাই। আল্লাহ নিয়া গেসে।

খারাপ লাগলো, আহা। নিচে নেমে মোবাইল ঘাটছি উবার ডাকবো। পাশে দেখি সিকিউরিটি ড্রেস পড়া গার্ড এসে দাঁড়িয়েছে।
: স্যার কি বাসা দেখলেন?
: হম্ম। তো! মোবাইলে ঘাটছি। একজন ট্রিপ নিয়েছে। কল দেই।
: স্যার, বাসা টায় সমস্যা আসে। বাসার মালিক এর সাথে উনার বউ এর বনতো না। প্রায় ই ঝগড়া ঝাটি হইতো।
: ও ভাই, আপনি যান তো। ঝগড়া দিয়ে আমার কাজ কি?
লোকটি ধমকে কিছুটা দূরে গিয়েও ফিসফিস করে বললো,
: ওই স্যার এ গলায় ফাঁস দিয়ে মোরসে। ওই ঘরটায়।
উপরে দেখাতে দেখতে চলে গেল। আমি শুধু উপরে তাকালাম। মনে মনে এবার চাপা উত্তেজনা আমার। কতো সিনেমায় দেখলাম এসব। এবার নিজেই যদি এমন কিছু পাই। haunted house. কি যেন ছবিটা, conjuring. বন্ধু বান্ধব নিয়ে গল্প জমবে। যাক, কর্মময় অফিস জীবনে একটু উত্তেজনা আর বৈচিত্র্য তো আসবে এটা নিয়ে। নিজের মনেই হাসলাম।
--------
: এই, তোমার ব্যাগ পকেট এ এটা কিসের চুক্তিনামা?
: অফিস এর দেরি হচ্ছে, চুক্তিনামা কোথায় পাচ্ছ। লাঞ্চ টা রেডি করে দাও।
: আরে,দেখো না, এটা তো মনে হয় সেদিন যে বাড়িভাড়া দেখে এলে বলছিলে সেটা। আমরা তো ওটা নিবো না বলছিলাম। তুমি আবার চুক্তিনামা নিয়েছো কেন?
: আমি তো আনি নি। ব্যাগ এ গুঁজে দিয়েছে মনে হয়। দাঁড়াও। ফোন নাম্বার আছে। পরে ফোন দিচ্ছি।
: প্লিজ, এখনই দাও। আমার কেমন যেন লাগছে।

: হ্যালো, আপনাকে না বলা সত্ত্বেও চুক্তিনামা টা ব্যাগ এ কখন ঢুকালেন আপনি? আমি বাসা নিব না। এটা আমি ফেরত দিয়ে যাচ্ছি আজ সন্ধায়।
: স্যার, আমি দেই নাই। আর ভুলেও এইটা ফেরত দিতে আইসেন না। ফেরত দিলে আপনার আব্বা রে মাইরা ফালাবে। পারলে অন্য কাউরে গোছায় দেন কাগজ টা।

সত্যি বুকটা কেঁপে উঠে আমার। ভেবে যাচ্ছি, অন্য কাউকে চুক্তিনামা টা দিয়ে বিপদে ফেলবো, কিভাবে দিবো। নাকি কাগজ টা পোড়াবো, এক বার্নার চুলায়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×