somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বড় গল্পঃ ফ্রি বিয়ার ইফেক্ট (শেষ অংশ)

১৭ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রথম অংশ

ছয়
তন্বীর যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন বেশ সকাল হয়ে গেছে । বাইরের রোদ ওর মুখে এসে লাগছে । ঘুম ভাঙ্গার পর বেশ কিছুটা সময় ও বিছানাতেই শুয়ে রইলো । মাথাটা এখনও খানিকটা ভার ভার ঠেকছে । কিছু সময় বুঝতে পারলো না কেন এমন হচ্ছে।
চোখ বন্ধ করে আরও কিছুটা সময় শুয়ে রইলো ও । এক কাপ গরম চা খেতে ইচ্ছে করছে খুব । বিছানা থেকে জোরে ডাক দিলে ওর আম্মু হয়তো চা দিয়ে যাবে । কিন্তু ডাক দিতে ইচ্ছে হল না । মনে হল আরও কিছু সময় বিছানাতেই পড়ে থাকে । আজকে ওর অফিসেও যেতে ইচ্ছে করছে না ।
অফিসের কথা মনে হতেই গতকালকের সব কথা মনে পড়ে গেল ।
তন্বী একলাফে বিছানায় উঠে বসলো । এক ঝটকাতেই সবকিছু মনে পড়ে গেল । ও যে বারে ঢুকেছিলো এইটুকু মনে আছে, কিন্তু তারপর ? তারপর কি হয়েছিলো? এক ক্যান বিয়ার খেয়েছিলো এটাও একটু ভাসা ভাসা মনে আছে ! কিন্তু এরপরে আর কিছুই মনে পড়ছে না !
কি হয়েছিলো?
ও বাসায় কিভাবে এল রাতের বেলা ?

যখনই বাসার কথা মনে হল তন্বী ঘরটার দিকে তাকিয়ে দেখলো ।
ঘরটা ওর অপরিচিত ! এটা ওর নিজের ঘর না ।
এটা কার ঘর !
ওকে এখানে কে নিয়ে এসেছে ।
মনের ভেতরে একটা ভয় পেয়ে বসলো । বিছানার ঠিক ডানদিকে একটা বড় আয়না রয়েছে । সেখানে পুরো বিছানাটা দেখা যাচ্ছে । তন্বী নিজেকে দেখতে পেল সেখানে । দেখার সাথে সাথেই আরেকবার চমকে উঠলো । ওর পরনে গতকালের পোশাক নেই । একটা কালো টিশার্ট পরা রয়েছে । নিচে একটা টাইটস রয়েছে । অনুভব করতে পারলো ওর ভেতরে কোন আন্ডারগার্মেন্স পরা নেই ।

তন্বীর পুরো শরীর কাঁপতে লাগলো । কি হয়েছে গতরাতে ওর সাথে ?
কে ওকে নিয়ে এসেছে?
নিয়ে এসে আবার ওর পোশাকও বদলে দিয়েছে । তারপর কি করেছে ওর সাথে ?
ওর হুশ ছিল না তার মানে ওর সাথে যা ইচ্ছে করতে পারে । কথাটা ভাবতেই ওর পুরো শরীরটা কেঁপে উঠলো । কি করবে ও !

তন্বী বিছানা থেকে নেমে এল ! আগে দেখা দরকার ও এখন কোথায় আছে । দরজা খুলে বের হয়ে আসতেই জায়গাটা চিনতে পারলো । ফারিজের বাসা এটা । গতদিন পার্টিতে যাওয়ার আগে ওকে এখানে নিয়ে এসেছিলো ফারিজ । নিচের একটা ঘরে ওকে সাজানো হয়েছিলো । সেদিন ও উপরে ওঠে নি । তন্বী সিঁড়ি দিয়ে আস্তে ধীরে নিচে নেমে এল । ওর মনে হল যেন বাসায় কেউ নেই । ফারিজ কোথায় ?
সে ওকে কিভাবে এখানে নিয়ে এল ? আর রাতে সে কি করেছে ওর সাথে ?

যখন তন্বীর মনে হল যে বাসায় কেউ নেই তখনই একজন মেইড বের হয়ে এল । ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
-ম্যাম আপনি উঠেছেন ! কিছু খাবেন কি ?

খাওয়ার কথা মনে হতেই তন্বীর মনে হল ওর খুব ক্ষুধা লেগেছে । ওকে মুখ দিয়ে কিছু বলতে হল না । মেইড খাবার টেবিল সাজাতে শুরু করলো । কাছের বেসিন থেকে হাত মুখ নিল ও । সাথে সাথেই একটা তোয়ালে নিয়ে হাজির হল মেয়েটা । তন্বী আগে কিছু খেয়ে নিতে চাইলো । ওর সত্যিই খুব বেশি ক্ষুধা লেগেছে । এই সময়ে অন্যকিছু ভাবার সময় নেই ।

খাওয়া শেষ করতে না করতেই আবারও মেইড এসে হাজির হল । তন্বীর দিকে তাকিয়ে বলল,
-আপনার ঘরে আপনার জন্য পোশাক রেডি করা আছে । ড্রাইভার রওয়ানা দিয়েছে । কিছু সময়ের ভেতরেই চলে আসবে ।
এই বলে মেইড চলে যাচ্ছিলো । তন্বী বলল,
-শুনো
-জি ম্যাডাম !
-কাল রাতে আমি কখন এসেছি বাসায় ?
-ম্যাডাম আমি তো বলতে পারবো না । দারোয়ান বলতে পারবে !
-কেন ? তুমি ছিলে না ?
-জি না ম্যাডাম । আমি রাতে থাকি না এখানে । সকালে আসি আর সন্ধ্যার একটু পরেই চলে যাই । স্যার তো এখানে সবসময় থাকেন না । মাঝে মাঝে আসেন । যেদিন থাকেন সেদিন আমাকে আগে থেকে বলে যান । আমি তার জন্য রান্না করি । নয়তো কেবল ঘরদোর পরিস্কার করে চলে যাই । দারোয়ান থাকে সবসময় ।
-আচ্ছা, ঠিক আছে !

খুব সময় নিয়ে তন্বী গোসল সারলো । একটু আগে ও নিজের ফোনটা চেক করেছে । সেখানে দেখা যাচ্ছে গতরাতে ওর মাকে এই ফোন থেকে ফোন করা হয়েছিলো । কে করেছিলো সেটা বুঝতে কষ্ট হল না । ফারিজ ফোন করে কি বলেছে কে জানে ! সবচেয়ে বড় কথা ওর শরীর থেকে পোশাক খুলেছে সে । ওর কোন হুশ ছিল না । সে ওর সাথে কি করেছে ?
অনেক কিছু করতে পারে ! কথাটা ভাবতেই তন্বীর শরীরের ভেতরে একটা রাগ দেখা দিল । গতকাল ঐ এলাইনা নামের মেয়েটার কথায় ও খুব বিরক্ত হয়েছিলো । মেয়েটার সাহস তো কম না ! আর এই দিকে ফারিজ !

তন্বী গোসল শেষ করে জামা কাপড় পড়ে নিল । গাড়িতে উঠতেই ড্রাইভার মনজুর বলল,
-কোনদিকে যাবো ম্যাডাম ? আপনার অফিস ?
-না । তোমার স্যারের অফিসের দিকে যাও !

মনজুর কোন কথা না বলে গাড়ি স্টার্ট দিল ।

রিসিপশনের মেয়েটা কিছু বলতেই যাচ্ছিলো কিন্তু পেছন থেকে মনজুর এসে বলল,
-ইনাকে ভেতরে যেতে দেন ।
রিসিপশনের মেয়েটা আর কিছু জানতে চাইলো না । ভাগ্য ভাল বুদ্ধি করে তন্বী মনজুরকে সাথে নিয়ে এসেছে । নয়তো এই বিশাল অফিসের ভেতরে ও ঢুকতে পারতো না এতো সহজে !

মনজুর ওকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেল । একেবারে ফরিজের ক্যাবিনের সামনে গিয়ে থামলো । ওদেরকে থামতে হল । আরও একজন মানুষ ওদের পথ রোধ করে দাঁড়িয়েছে । ছেলেটা সম্ভবত পিএস টাইপের কিছু হবে । একেবারে ফারিজের কেবিনের সামনে তার ডেস্ক ! তন্বীর দিকে তাকিয়ে বলল,
-এখন স্যার মিটিংয়ে আছেন । আপনি ভেতরে যেতে পারবেন না ।
মনজুর কিছু বলতে গেল তবে তন্বী তাকে হাত ইশারা করে থামিয়ে দিল । তারপর লোকটার দিকে তাকিয়ে বলল,
-তুমি কি পোস্টে চাকরি কর ? ফারিজের পিএস ?

তন্বী দেখলো সামনে দাঁড়ানো স্যুট পরা মানুষটার চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে । সম্ভবত তন্বী যে তাকে তুমি করে বলছে এটা সে খানিকটা মেনে নিতে পারছে না । কিন্তু তন্বীর ঔদ্ধত্য দেখে কিছু বলতেও পারছে না । তন্বী তার বসের নাম ধরে ডাকছে । তার উপর পেছনে বসের ড্রাইভার দাঁড়িয়ে রয়েছে ।
তন্বী কিছু সময় ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকলো । বুঝতে কষ্ট হল না যে ছেলেটা দ্বিধান্তিত হয়েছে । তন্বী আর কিছু চিন্তা করলো না । সোজা কেবিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে গেল । পেছনে থেকে ছেলেটা ওকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলো কিন্তু তন্বী সেটা শুনলো না ।
কেবিনের ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেল ফারিজের সাথে আরও তিন মানুষ রয়েছে । কোন বিষয় নিয়ে তারা কথা বলছিলো । ওকে ঢুকতে দেখে ওর দিকে ফিরে তাকালো । ফারিজের চোখে খানিকটা কৌতূহল । অন্য তিনজন তাকিয়ে আছে ওর দিকে । তন্বী সেদিকে মন দিল না । ফারিজের দিকে তাকিয়ে বলল,
-উই নিড টু টক !

ফারিজ বলল,
-এখন ? কাজ করছি তো !

সামনে থেকে একজন বলল,
-ফারিজ সাহেব, মনে হয় অনেক কাজ করা হয়েছে আপাতত । আমরা অনেক সময় ধরেই কথা বলছি । একটু ব্রেক দরকার । লাঞ্চ আওয়ারের পরে আবার শুরু করি !
ফারিজ সেই লোকটার দিকে তাকিয়ে বলল,
-আর ইউ শিওর ?
-হ্যা হ্যা অবশ্যই । কোন সমস্যা নেই । আমাদের মূল আলোচনা তো হয়েই গেছে । এখন কেবল কিছু মাইনর আলোচনা বাকি ! আপনারা বরং নিজেদের মাঝে কথা শেষ করে নিন ।

ফারিজ হাতের ডানদিকে একটা সুইচে চাপ দিল । সাথে সাথে দরজা খুলে সেই পিএস ছেলেটা ঘুরে ঢুকলো ।
-জি স্যার ?
-ইনাদের ভিআইপি গেস্টরুমে নিয়ে যাও, তারপর লাঞ্চের ব্যবস্থা কর । দেখো কি খেতে চান ওনারা ! ঠিক আছে ?
-জি স্যার ।
-আর আমাদের জন্য কফি দাও দুই কাপ ।

তন্বী ফারিজের সামনে বেশ কিছু সময় বসে রইলো । তাকিয়ে আছে ফারিজের দিকে । মনে মনে যে রাগটা ও নিয়ে এসেছিলো, এমনকি কেবিনে ঢুকেও যে রাগ নিয়ে কথাটা বলেছিলো, সেটা কেন যেন এখন আর ধরে রাখতে পারছে না । তারপরেও তন্বী বলল,
-কাল রাতে আমাদের মাঝে কি হয়েছে ?
ফারিজ প্রশ্নটা শুনে যেন খুব কৌতুকবোধ করলো । তারপর বলল, কি হবে ?
-আমি কিভাবে জানবো?

ফারিজ হাসলো । তারপর বলল,
-আমি কেন বলবো শুনি? বিয়ার খেয়ে মাতাল হয়েছিলে তুমি । কি করেছো সেটার জন্য তো অন্য কেউ দায়ী হতে পারে না । সহ্য হয় না তো খেতে বলেছে কে?
তন্বী ক্ষুদ্ধ চোখে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো ফারিজের দিকে । তারপর বলল,
-আমার যদি কিছু হয় তাহলে তোমাকে আমি দেখে নিবো বললাম ! সত্যিই দেখে নিবো । তুমি আমাকে পেয়েছো কি ? তোমার একটা উপকার করেছি কি করি নি, তাই বলে এই সুযোগ তো তোমাকে দেই নি আমি ।
তন্বী ফারিজকে উঠে দাঁড়াতে দেখলো। ফারিজ আস্তে আস্তে এগিয়ে এল ওর দিকে । তন্বী কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না । ওর মনে আবারও সেদিনের সেই ভয়টা জেঁকে বসলো । ছেলেটার চোখে কি যেন আছে । তন্বী কিছুতেই সেটা সহ্য করতে পারে না ।

ফারিজ তন্বীকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো খানিকটা । তন্বীর সব হাত পা অবশ হয়ে এল মুহূর্তেই । ফারিজ ওর মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলল,
-গতরাতে কি হয়েছিলো বলবো? তুমি এতোটাই ড্রাংঙ্ক হয়েছিলে যে বমি করে ভাসিয়ে দিয়েছিলে । তোমাকে তুলে নিয়ে ঘরে আসি । তারপর ওয়াশরুমে নিয়ে যাই । তোমার শরীর থেকে সব জামাকাপড় আমি নিজে খুলেছি ।

কথাটা বলে তন্বীর চোখের দিকে একভাবে তাকালো ফারিজ । তন্বীর বুকটা কেমন কেঁপে উঠলো । সামনে দাঁড়ানো মানুষটা কালকে ওকে কাপড় ছাড়া দেখেছে । তন্বী কোনমতে বলল,
-তারপর?
ফারিজ যেন খুব মজা পেল । তারপর বলল,
-আরও শুনতে চাও ? আচ্ছা শুনো তাহলে । যখন ঐ অবস্থাতে তোমাকে বিছানাতে শুইয়ে দিয়ে ফিরে যাচ্ছিলাম তখন তুমি হঠাৎ আমার হাত চেপে ধরলে । বললে, 'কোথায় যাও বয়ফ্রেন্ড ! তুমি কেমন বয়ফ্রেন্ড শুনি ? নিজের গার্লফ্রেন্ডকে এভাবে একা ফেলে যাচ্ছো !' তারপর আমাকে টেনে নিয়ে গেল বিছানাতে .... আরও শুনবে ?

তন্বী চোখ বন্ধ করে ফেলল । খনিকটা কল্পনা করার চেষ্টা করলো গত রাতের ঘটনাটা । আর ভাবতে পারলো না । ওর পা টা যেন আরও একটু কাঁপতে লাগলো । ফারিজ ওর আরও খানিকটা কাছে চলে এসেছে । এমন সময় খুট করে দরজা খুলে গেল । ফারিজের পিএস ছেলেটা হাতে দুইটা কাপ নিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে । ওদেরকে ওভাবে দেখে খানিকটা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো । ফারিজ বলল,
-জাকির, নক করে ঢোক ।
-স্যরি স্যার । দুই হাতেই কফি তো ...
-যাও কফি রাখো টেবিলে । গেস্টদের খাবার দেওয়া হয়েছে ?
-জি স্যার ।
-আচ্ছা যাও !

জাকির নামের ছেলেটা দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল দ্রুত । ফারিজ এবার তন্বীকে ছেড়ে টেবিলের কাছে চলে গেল । সেখান থেকে একটা কাপ এনে তন্বীর হাতে তুলে দিল । তারপর আবারও নিজের ডেস্কের দিকে এগিয়ে গেল । বলল,
-কৌতূহল মিটেছে ?
তন্বী কোন কথা বলল না ।
-এবার থেকে আর একা একা বিয়ার খেতে যেও না। যদি বিয়ার খেতেই ইচ্ছে হয় তাহলে আমাকে বলবে । আমার বাসাতেই আছে । ভাগ্য ভাল যে আমি তোমাকে আনতে মনজুরকে পাঠিয়েছিলাম । ও তোমার খোঁজ পেয়ে আমাকে ফোন দিয়েছিলো । নয়তো কাল কি হত একবার ভেবেছো কি ?

তন্বী মনে মনে বলল,
-আর হওয়ার বাকি আছে কি !
মুখে বলল,
-আমি বাসায় যাবো ।
-কফি খেয়ে যাও ।
-না কফি খাবো না। বাসায় গিয়ে বিয়ার খাবো । তারপর আবারও মাতাল হব । তোমার কোন সমস্যা ?

ফারিজ কফিতে একটা চুমুক দিয়ে হা হা করে হেসে ফেলল । তারপর,
-মনজুর আছে । ওকে নিয়ে যাও ।
-লাগবে না । আমি একাই যেতে পারবো । আজকের পর থেকে আমাদের মধ্যে আর কোন সম্পর্ক নেই । বুঝতে পারছো । যে ডিলটা হয়েছিলো সেটা অফ ! টাটা ।

ফারিজকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তন্বী বের হয়ে গেল । দরজা দিয়ে বের হতেই লক্ষ্য করলো যে অফিসের প্রতিটা চোখ ওর দিকে নিবদ্ধ । এতো সময় সবাই!যে কান খাড়া করে ওদের দিকেই তাকিয়ে ছিলো সেটা বুঝতে বাকি রইলো না ।

তন্বী কোনদিকে না তাকিয়ে দ্রুত লিফটের দিকে হাঁটতে শুরু করলো । ওর নিজেকে কষে একটা চড় মারতে ইচ্ছে করছে । কেন এমন একটা পাগলামো করতে গেল কালকে । কি দরকার ছিল বারের ভেতরে ঢোকার । এমনিতেও একটা বিয়ার খেয়ে কত বড় ঝামেলাতে পড়েছিলো । আর গতদিন কতগুলো খেয়েছে সেটা ওর মনেও নেই । ফারিজ যা বলল তা যদি সত্যি হয় !!
তন্বী আর কিছু ভাবতে পারলো না । আর কিছু ভাবতে চায় না ও । সবকিছু ভুলে যেতে চায় !


সাত

তন্বীর অফিসে দম ফেলার মত সময় এখন নেই । যে কোন অফিসের প্রধান হওয়াটা যে কত প্যারার একটা কাজ সেটা তন্বী এই কদিনের হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে । এখন অফিসের সব কিছু তন্বীর নজরদারীতে হচ্ছে । হতে হচ্ছে । অনেক কিছুই বদলে গেছে । তন্বী নিজের মত করে সামলে নিচ্ছে । প্রথমে একবার মনে হচ্ছিলো যে পারবে না । তবে এখন মনে হচ্ছে পারবে ।
আগের ম্যানেজার যে কোন প্রজেক্টের কাজ অন্যের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজে বসে বসে হাওয়া খেত তার ভুল ভ্রান্তি বের করতো । কিন্তু তন্বী এই কাজটা করে নি । যে কোন প্রজেক্টের সাথে তন্বী একেবারে প্রথম থেকে যুক্ত থাকছে । নিজে কাজ করছে । এই কারনটা সম্ভবত তন্বীকে অফিসে জনপ্রিয় করে তুলল ।
আগে তো তন্বী কেবল একটা প্রেজেক্ট নিয়েই ব্যস্ত থাকতো এখন নিজের একটা প্রধান প্রজেক্ট বাদ দিয়েও প্রায় প্রতিটি প্রজেক্টে ওর সংযুক্তি রয়েছে । তন্বীর এই ব্যস্ততা ভাল লাগছে । প্রথম প্রথম একটু কষ্ট যে হয় নি সেটা না তবে সামলে নিয়েছে সে । সব চেয়ে বড় কথা রাতে ভাল ঘুম হচ্ছে ওর । প্রতিদিন কঠিন পরিশ্রম করে বাসায় গিয়ে যখন হাজির হয় তখন ক্লান্তিতে শরীর ভেঙ্গে পড়ে । খেয়েই ঘুম দেয় । এক ঘুমিে রাত পার । আবিদের সাথে ওর ব্রেকআপের পর ঘুমে বেশ সমস্যা হচ্ছিলো । তবে সেটা এখন একেবারে চলে গেছে ।

আজকে প্রায় এক মাস পরে তন্বী একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলল । যে বড় প্রেজেক্টটা নিয়ে ওরা কাজ করছিলো সেটা আজকে শেষ হয়েছে । ক্লান্ত খুবই পছন্দ করেছে ওদের কাজ । আগামী এক বছরের জন্য ওদের সাথে এক ডিল ফাইনাল হয়ে যাবে খুব জলদি । বস ফোন দিয়েছিলো তন্বীক । ওর খুব প্রসংশা করলো ।
অফিস ছুটি পর আরও কিছু সময় সে নিজের কেবিনে বসে রইলো । সামনে কদিন একটু কাজের চাপ কম । কটা দিন একটু আরাম করে ঘুমানো যাবে । কিন্তু তন্বী জানেও না যে তার জন্য তার নিজের বাসাতে কি অপেক্ষা করছে ।

আজকে একটুঅফিস থেকে বের হয়ে বেশ কিছু সময় সে হাটাহাটি করলো । এদিক ওদিক আগে আগের মত । আগে প্রায়ও অফিস শেষ করে সে এদিক ওদিক হাটাহাটি করতো । আজকেও বেশ কিছুটা সময় সে হাটাহাটি করলো একা একা । তারপর বাসার দিকে রওয়ানা দিল । বাসায় পৌছাতে পৌছাতে আজকে একটু রাত হয়ে গেল। বাসায় ঢুকতেই বড় সর একটা ধাক্কা খেল সে । ওর মনে হল যেন ও অন্য কারো বাসায় ঢুকে পড়েছে । ভাসা ভর্তি মানুষ জন । বেশির ভাগ মানুষদেরই ও চিনে না । কোন দিন দেখে নি । ও বাসার ভেতরে ঢুকতেই সবাই ওর দিকে ঘুরে তাকালো । তন্বী ঠিক বুঝতে পারছিলো না যে কি করবে !
এরা কারা ! এদের তো আগে কোন দিন দেখে নি ?
ওর মা কিংবা বাবার পরিচিত মানুস হতে পারে না । কারণ ওদের যা আত্মীয় স্বজন আছে সবাইকেই মোটামুটি সে চিনে । এতো গুলো অপরিচিত মানুষের মাঝে হঠাৎ করেই একজন পরিচিত মুখ সে দেখতে পেল !
মনের ভেতরে একটা ধাক্কা দিলো সাথে সাথে !
একটা প্রশ্নই মাথার ভেতরে এল !
এই মহিলা এখানে কি করছে ?
তার তো এখানে কোন ভাবেই থাকার কথা না । এখানে কি করছে ?

ওর বিস্ময় আরও একটু বাড়িয়ে দিতে দেখতে পেল ভেতরের ঘর থেকে এক বদ্ধা বের হয়ে এল হাসি মুখে । বৃদ্ধা তন্বীকে দেখে আরও একটু বিস্তৃত হাসি দিলেন ! বললেন, হেয়ার ইউ আর মাই চাইল্ড ! কাম হিয়ার !

তন্বী ধীরে ধীরে ফারিজের দিম্মার দিকে এগিয়ে এল । তিনি তন্বীর মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন । তারপর তার কপালে একটু ছোট্ট চুমু খেয়ে বললেন, তুমি তো সেই গেলে আমাদের একেবারে ভুলেই গেলে । তাই চলে এলাম তোমার সাথেই দেখা করতে !

এমন যে কিছু হতে পারে সেটা তন্বী মোটেও ভাবতে পারে নি । ফারিজের সাথে শেষ দেখা হয়েছিলো সেই মাস খানেক আগে । এরপর সে কি করেছে কিংবা কোথায় গিয়েছে সেই ব্যাপারে তন্বীর কোন ধারনা নেই । সে সব কিছু শেষ করে দিয়ে এসেছিলো । তার আর কিছু ভাবার ছিলও না । আর নিজের কাজ নিয়েই সে ব্যস্ত ছিল বিধায় অন্য কিছু ভাবার সময়ও ছিল না ।

তন্বীর এবার তাকালো ফারিজের মায়ের দিকে । তিনি তন্বীর দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমাকে আমি কি বলেছিলাম ?
তন্বী ঠিক কিছু মনে করতে পারলো না যে কি বলেছিলেন উনি । খানিকটা মনে করার চেষ্টা করলো ।
-এসো আমার সাথে !

এই বলে তন্বীকে নিয়ে তন্বীর নিজের ঘরের দিকে হাটা দিল । যাওয়ার পথে রান্না ঘরে উকি দিয়ে দেখলো ওর মা রান্নাতে ব্যস্ত । তাকে দুজন অপরিচিত মহিলা সাহায্য করছে । তাদের সাথেই গল্প করছে । ফারিজের দিম্মও এসে যোগ দিল তাদের সাথে । তন্বীর দিকে তাকিয়ে ওর মা একটু হাসলো । বুঝতে কষ্ট হল না যে পুরো বাড়িটা ফারিজের আত্মীয় স্বজন দখল নিয়ে নিয়েছে । তন্বী ফাজির মায়ের সাথে নিজের ঘরে ঢুকলো । ফারিজের মা ওর দিকে তাকিয়ে বলল, আমি কি তোমাকে বলেছিলাম না যে কোন ঝামেলা হলে আমার কাছে আসবে । হঠাৎ করেই কিছু সিদ্ধান্ত নিবে না !

তন্বী কিছু বলতে গিয়েও যেন বলতে পারলো না ।
-তোমরা যে ঝগড়া করে ব্রেক আপ করেছো এটা না তুমি বলেছো না ফারিজ ! কেউ বলে নি আমাকে ! কদিন ধরেই ফারিজের মুড অফ ! ঠিক মত খায় না, ঘুমায় না। সারারাত বাড়িময় পায়চারি করেছে ! বাড়ির সবাই এটা নিয়ে খুব চিন্তিত ! তারপর সেই যে ইউএসতে গেল আর আসার নাম নেই । ঠিক মত ফোনটোন দেয় না । তারপর জাকিরের কাছ থেকে শুনতে পেলাম যে তুমি অফিসে গিয়েছিলে । ব্রেক আপ করে এসেছো !

জাকির টা কে?
তন্বী মনে করার চেষ্টা করলো । তারপর মনে পড়লো । ফারিজের সেই পিএস টাইপের ছেলেটা !
তন্বীর মা বলল, ফারিজ আর তোমার মাঝে সেদিন রাতে কি হয়েছে সেটাও জাকির শুনেছে । প্রথমে বলতে চাইছিলো না তবে আমি ধকম দেওয়াতে বলেছে !
কথাটা শোনার সাথে সাথে তন্বীর বুকটা কেঁপে উঠলো । একটা তীব্র লজ্জার অনুভূতি পুরো শরীর জুড়ে বয়ে গেল । নিচের দিকে তাকিয়ে ফেলল । ইচ্ছে হচ্ছিলো এখনই মাটির সাথে মিশে যায় সে ।
-এতো বড় সাহস বেয়াদপ টার । ওর বাবা কিংবা দাদু যদি এই কথা জানতে পারে তাহলে ওর পিঠের ছাপ তুলে ফেলবে একেবারে ! তুমি যে রাগ করে ব্রেক করেছো সেটা আমি বুঝতে পারছি ! কিন্তু মা এভাবে কিছু করা তো ঠিকনা । তুমি এভাবে ছেড়ে দিবে ?
তন্বী মুখ তুলে তাকালো ! সে কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না ।

ফারিজের মা বলল, শুনো মেয়ে নিজের অধিকার নিজে আদায় করে নিতে হয় । বুঝেছো ? এভাবে ছেড়ে দিতে নেই ।
-মানে ?
-বোকা মেয়ে বলে কি ! মানে আবার কি কথা ! তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে খুব । কেবল আমারই না পরিবারের সবাই । আমরা কোন ভাবেই চাই না তোমাকে যেতে দিতে । অন্তত এখন আরও না ।
এখন তো আরও না বলতে ফারিজের আম্মু কি বোঝাতে চেয়েছে সেটা তন্বীর বুঝতে মোটেও কষ্ট হল না ।

-আমি তো সারা জীবন ফারিজের বাবা কথা মত চলে এসেছি । আমার শ্বাশুড়িও তাই । কোন দিন তাদের ছেড়ে যাওয়ার কথা মনেও আনি নি । কিন্তু তোমার ভেতরে একটা অন্য ভাব আছে । এই যে একটা ড্যাম কেয়ার ভাব এটা আছে ! এটা ফারিজকে সোজা করবে ! আর ফারিজ এই কটা দিন খুবই টেনশনে ছিল । বলাই বাহুল্য তোমাকে নিয়ে ! ফারিজের ইগো বেশি তো এই জন্য তোমার কাছে যে আসছে না নয়তো চলে আসতো । যাই হোক এই সব ভেবে এখন লাভ নেই । আজকেই সব সমাধান হয়ে যাবে !
-মানে?
-মানে তুমি বুঝবে একটু পরেই । ফারিজ ল্যান্ড করে ফেলেছে । একটু পরেই সে এখানে চলে আসবে । তাকে যদিও কিছু বলি নি । ওর দাদু আর তোমার বাবা গিয়েছে ফারিজকে আনতে । দাদুর সামনে কিছু বলতে পারবে না ও । ফারিজের বাবা অবশ্য বেশ ব্যস্ত । সে আজকে হয়তো আসতে পারবে না এখানে । তাকে আমি সব বলেছি । সে আপত্তি করে নি ।

তন্বীর মুখ দিয়ে একটা কথাও বের হল না । কেবল সে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো । সে যেন কিছুই বুঝতে পারছে না । এসব কি হচ্ছে ওর সাথে আর কেন হচ্ছে ! সামনে দাড়ালো এই মহিলা কি বলছে !

ঘন্টা খানেক পরে যা ঘটতে শুরু করলো তার জন্য তন্বী মোটেই প্রস্তুত ছিল না । ফারিজ তীব্র বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে ছিল তন্বীর দিকে ঠিক একই ভাবে তন্বীও তাকিয়ে রয়েছে ফারিজের দিকে । কি হচ্ছে দুজনের কেউ বুঝতে পারছে না । কেউ বাঁধাও দিতে পারছে না । ফারিজের দুই পাশে ওর বাবা আর দাদু বসে আছে । একেবারে শেষ মুহুর্তে সে চলে এসেছে ছেলের বিয়েছে !

হ্যা । ওর দাদু ঠিক করেছে অনেক হয়েছে । এখনই ওদের বিয়ে হয়ে যাবে । পরে একটা সময় সুযোগ বুঝে অনুষ্ঠান করা হবে । ফারিজ গত একমাস যে খুব কষ্ঠে থেকেছে এটা সে দাদু হিসাবে দেখতে পারছে না । সবার ধারনা হয়েছে ফারিজের এই অবস্থা হয়েছে কারন তন্বী ওর সাথে ব্রেক আপ করেছে । তাই এখন এমন ব্যবস্থা করা হবে যেন আর ব্রেক আপ না হতে পারে !
তন্বীর এক পাশে ওর মা বসেছে আর অন্য পাশে ফারিজের দিম্মা বসেছে । তন্বী মা খুশি । এতোদিন সে তন্বীর বিয়ে নিয়ে কত চিন্তা করছিলো পরে ফারিজদের মত পরিবারে তন্বীর বিয়ে হচ্ছে এটা জানতে পেরে সে আর কোন আপত্তি করে নি । তন্বীর বাবা একটু বলতে চেয়েছিলো যে এতো তাড়াহুড়ার দরকার কি ছিল । তবে সবার সামনে সেই আপত্তি টেকে নি ।

রাত এগারোটার ভেতরে তন্বী আর ফারিজের বিয়ে হয়ে গেল । ফারিজ কিংবা তন্বী কেউ তখনও ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে পারছে না । তাদের দুইজনেরই মনে হচ্ছে যেন তারা কোন স্বপ্ন দেখছে । এখনই সে ঘুম ভেঙ্গে যাবে । ঘুম ভেঙ্গে সব কিছু আগের মত হয়ে যাবে ।

রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে ফেরার আগে ফারিজের মা তন্বীকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো । তারপর বলল, এখন থেকে তুমি আমাদের পরিবারের অংশ । বুঝতে পেরেছো কি ? এখন থেকে বস কিছুর উপর তোমার অধিকার রয়েছে । বুঝেছো মেয়ে ?
তন্বী কেবল মাথা নাড়ালো ।
-খুব জলদি তোমাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবো । তার মানে এই না যে তুমি আমাদের বাসায় আসতে পারবে না । এখন থেকে তোমার দুইটা বাড়ি । দুই বাড়িতে নিয়মিত যাওয়া আসা করবে ।
তন্বী আবারও মাথা নাড়ালো ।

রাতে তন্বীর ঘুম এল না কিছুতেই । কি থেকে কি হয়ে গেল আর কিভাবে হিসাবে হয়ে কিছুই বুঝতে পারলো না সে ! কেবল একটা কথাই তার মনে হচ্ছে সেদিন যদি সেই এক ক্যান বিয়ার সে না খেত তাহলে আজকে তার ফারিজের সাথে বিয়ে হত !


আট

তন্বী কেন যে ফারিজের অফিসে এসে হাজির হল সেটা ও নিজেও বলতে পারবে না। বাসা থেকে সে বের হয়েছিলো অফিসের যাওয়ার উদ্দেশ্যেই । বের হওয়ার সময় তন্বীর মা ওর দিকে খানিকটা অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,
-তুই আজকেও অফিস যাবি ?
তন্বী তার থেকেও অবাক হয়ে বলল,
-অফিসে যাবো না কেন ?
-বাহ রে ! কাল না তোর বিয়ে হল !
ফারিজের সাথে বিয়ে হওয়াতে সবথেকে বেশি খুশি হয়েছে তন্বীর মা । সে সবসময়ই চাইতো তন্বীর যেন একটা ভাল জায়গাতে বিয়ে হয়। তার ইচ্ছে ছিল তন্বীর বাবার মতই একজন সরকারী কর্মকর্তার সাথে ওর বিয়ে হোক । সারাজীবন সে যেমন আর্থিকভাবে নিশ্চিত থেকেছে, তার মেয়েও যেন তেমনই থাকে সেটাই চেয়েছে । তবে ফারিজের সাথে বিয়ে হওয়াতে তন্বীর মা খুব বেশি খুশি হয়েছে ।

তন্বী মায়ের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বের হয়ে গেল ঘর থেকে । গেট দিয়ে বের হতেই দেখতে পেল মার্সিটিজ গাড়িটা ।
ও বের হওয়ার সাথে সাথে দরজা খুলে মনজুরকে বের হতে দেখলো ।
তন্বী বলল,
-তুমি এখানে ?
মনজুর হাসলো । তারপর বলল,
-জি, আজ থেকে আমার ডিউটি আপনার এখানে ।
-মানে ?
বলেই বুঝতে পারলো কারণটা । এখন তো সে আর সাধারণ কেউ নয় । মনজুর বলল,
-আপনার জন্য গাড়ির অর্ডার দেওয়া হয়েছে । সেটা যতদিন না আসছে ততদিন এইটা আপনার !
-তা আমি এটাতে চড়লে তোমার স্যার কোনটাতে চড়বে ?
-স্যারের আরেকটা গাড়ি আছে ।
মনজুর দরজা খুলে দিল । গাড়িতে উঠে বসতে বসতে তন্বীর মনে হল আজকে ও অফিস যাবে না । আপাতত অফিসে কাজের চাপ নেই । কালপরশু থেকে কাজ শুরু করা যাবে ।
-ম্যাডাম কোনদিকে যাবো । অফিসের দিকে ?
-না । তোমার স্যারের অফিসে চল !
-জি আচ্ছা ।

তন্বীর বিয়ের কথা বাইরে এখনও প্রকাশ পায় নি । তবে ফারিজের অফিসে পৌঁছানোর পরেই কেন জানি মনে হল যে অফিসের সবাই ব্যাপারটা জেনে গেছে । গতদিন সেই রিসিপশনের মেয়েটা ওকে দেখতেই দাঁড়িয়ে সালাম দিল । তারপর যতজনের সাথে দেখা হল প্রতিটা মানুষ উঠে দাঁড়ালো । তন্বী ঠিক বুঝতে পারলো না যে এই একদিনের ভেতরে ওকে সবাই চিনে ফেলল কিভাবে ?
আর খবরটা জানলোই বা কিভাবে ?

ফারিজের কেবিনের সামনে এসে গতদিনের মতই জাকিরকে ও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো । জাকিরের চেহারা দেখেই বুঝতে পারছে যে আজকে ওকে আটকানোর কোন চেষ্টা সে করবে না । তন্বী দাঁড়িয়ে পড়ে জাকিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
-আপনার স্যার কোথায় ?
জাকির বিগলিত হাসি দিয়ে বলল,
-স্যার ভেতরেই আছে । আপনি যে এসেছেন এই খবর তার কাছে পৌঁছে গিয়েছে ।
-আজকে আটকাবেন না আমাকে ?
-কি যে বলেন ম্যাডাম ! হে হে হে !

তন্বী আর কিছু জানতে না চেয়ে দরজাতে হাত রাখলো । নিজেই দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো । ওর মনে অদ্ভুত একটা অনুভুতি হচ্ছে । এই অনুভূতিটা ও ধরতে পারছে না । এমন কেন হচ্ছে সেটা ওর ধারণার বাইরে । দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পেল তাকে । আজকে সে টেবিলের উপরে খানিকটা হেলান দিয়ে বসে আছে । ঘরে ঢুকতেই প্রথমেই চোখাচোখি হল তন্বীর সাথে । তন্বী সেখানেই থেমে গেল ।
গতমাসে যখন এসেছিলো তখন ওর মাথার ভেতরে অন্যকিছু চলছিলো । তাই ফারিজকে ও ভাল করে লক্ষ্য করে নি । আজকে ভাল করেই লক্ষ্য করলো তাকে । আবারও ওর মাথার ভেতরে চক্কর দিয়ে উঠলো । তবে এইবার মাথার ভেতরের সেই অনুভূতিটার ভিন্ন একটা রূপ কাজ করছে । সামনে দাঁড়ানো এই মানুষটা ওর স্বামী ! কি আশ্চর্য একটা ব্যাপার !

ফারিজ তন্বীর দিকে তাকিয়ে বলল,
-কি ব্যাপার এখানে কেন ?
তন্বী খানিকটা সামলে নিল । ফারিজের কন্ঠটা কেমন যেন একটু রুক্ষ্ণ শোনাচ্ছে । তন্বী অবশ্য খুব একটা তোয়াক্কা করলো না । বলল,
-এমনি এলাম তোমাকে দেখতে !
-আমাকে দেখার কি আছে?
-কিছু নেই?
বলে আরেকবার ফারিজের দিকে ভাল করে তাকালো । এমনভাবেই তাকালো যে তন্বী অনুভব করলো ফারিজ যেন খানিকটা অস্বস্তিবোধ করছে । শেষে আর না থাকতে পেরে ফারিজ বলল,
-কি বেয়াদবের মত তাকিয়ে আছো তুমি ?
তন্বী বলল,
-বাহ তুমি আমাকে বেহুশ পেয়ে বেয়াদবের মত আচরণ করতে পারবে আর আমি আমার বিয়ে করা স্বামীর দিকে ভাল করে তাকাতেও পারবো না ?

ফারিজ কিছু বলতে গিয়েও আটকে গেল । কি বলবে সেটা সত্যিই বুঝতে পারলো না । কথাটা হজম করতে যেন ওর একটু সময় লাগছে । তন্বী বলল,
-আমি তোমার সাথে ব্রেকআপ করে গিয়েছিলাম বলে কি বিরহেই না তুমি পড়ে গিয়েছিলে । শুনলাম নাকি রাতে ঘুমাতেই পারো নি । তা কাল রাতে ঘুম হয়েছে তো ?

ফারিজ খানিকটা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তন্বীর দিকে । সত্যিই কিছু বুঝতে পারছে না । মেয়েটির আচরণ কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগছে । এমন কেন হচ্ছে সে নিজেও বুঝতে পারছে না । তবে অবাক করে দেওয়ার ব্যাপার হচ্ছে কাল রাতে সত্যিই তার ঘুম ভাল হয়েছে । বেশ ভালই হয়েছে । কেন ভাল হয়েছে সেটার কোন ব্যাখ্যা তার কাছে ছিল না । যেখানে গতরাতে এমনভাবে ওদের বিয়েটা হয়েছিলো ফারিজ ভেবেছিলো হয়তো সারারাত নির্ঘুম কাটাতে হবে ।
ফারিজ বলল,
-তোমার সাথে আমার সাথে কি ডিল হয়েছিলো মনে আছে তো তোমার?
তন্বী হাসলো । তারপর বলল,
-হাহ ! আসছে ! শুনো, সেই ডিল সেইদিনই শেষ ।

তারপর ফারিজকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তন্বী ঘর থেকে বের হয়ে গেল । ফারিজ কিছুটা সময় তন্বীর চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে রইলো একভাবে । ও এখনও ঠিক বুঝতে পারছে না আসলে কি হচ্ছে । এই মেয়ে এতো সাহস পেল কিভাবে !

কিন্তু ফারিজের সম্ভবত তন্বীর ব্যাপারে ভুল ধারণা জন্মেছিলো । সে ভেবেছিলো যে সে ঠিকই তার কাজ করিয়ে নিতে পারবে । তন্বীর ব্যাপার তার অনুভূতির কোন ব্যাখ্যা নেই । তবে মেয়েটা যে তার জীবনে অন্য সাধারণ কোন মেয়ের মত নয় সেটা বুঝতে পারলো আরও কয়েকদিন পরে । বিয়ের পর তন্বী প্রায়ই ফারিজদের বাসায় গিয়ে ঘুরে যেত । বিশেষ করে অফিস শেষ করে নিজের বাসায় ফেরার আগে ওদের বাসা হয়ে যেত । ফারিজের সাথে মাঝে মধ্যে দেখা হত । ফারিজ অন্তত এটা বুঝে গেল যে এই মেয়েটা তাদের পরিবারের ভেতরে আস্তে আস্তে একটা শক্ত আসন গেড়ে বসছে । অথচ সে কি চেয়েছিলো ?
সে চেয়েছিলো মেয়েটার সাথে একটু মেলামেশা শুরু করলেই এলাইনা সুরসুর করে তার কাছে ফিরে আসবে । কিন্তু এদিকে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল । পরিকল্পনামাফিক কোন কাজ হল না ।

বিয়ের ঠিক মাসখানেক পরে এলাইনা ফারিজের অফিসে এসে হাজির হল । এলাইনাকে দেখে ফারিজ খানিকটা অবাকই হল । ভেবেছিলো হয়তো এই মেয়ে ওকে ভুলেই গিয়েছে । এলাইনার চোখ দেখেই বুঝতে পারছিলো যে কিছু হয়েছে !
ফারিজকে সরাসরি জিজ্ঞেস করলো,
-ঐ মেয়েকে তুমি বিয়ে করেছো?
ফারিজ কি বলবে বুঝতে পারলো না । বিয়ে যে করেছে সেটা তো মিথ্যা না ।
এলাইনা এবার সরাসরি এসে ফারিজকে জড়িয়ে ধরলো । ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলল,
-আমি বুঝতে পারি নি । আমি ভেবেছি যে আমি হয়তো তোমাকে ভালবাসি না । আর মনে হয়েছে তুমি আমার কাছে ফিরে আসবে । আমি জানি ঐ মেয়েকে তুমি ভালবাসো না । তোমার বাসা থেকে জোর করে বিয়ে দিয়েছে !
ফারিজ কিছু বলতে যাবে তখনই ওর কেবিনের দরজা খুলে গেল । দেখতে পেল সেখানে তন্বী দাঁড়িয়ে আছে !

এই রে সর্বনাশ করেছে!
এই মেয়ে এখানে কেন!

ফারিজ ভেবেছিলো তন্বী বুঝি এবার রাগ করে চলে যাবে । আর ওর কাছে ফিরে আসবে না । ওর নামে কেস করবো । একটা বড় পরিমাণ টাকা কম্পেনসেশন দিতে হবে । কিন্তু এসবের কিছুই হল না । তন্বী রাগান্বিত চোখে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো । এলাইনা ততক্ষণে ফারিজকে ছেড়ে দিয়েছে । তন্বী সোজা এগিয়ে এল । তারপর এলাইনা আর ফারিজকে অবাক করে দিয়ে খপ করে এলাইনার চুল চেপে ধরলো ! তারপর এক প্রকার টানতে টানতে কেবিনের বাইরে নিয়ে গেল । এলাইনা কিছু বলা তো দূরে থাকুক তীব্র বিস্ময়ে কিছু সময় ফারিজের দিকে তাকিয়ে রইলো । আশা করেছিলো ফারিজ হয়তো কিছু বলবে কিন্তু ফারিজ কিছুই বলল না । ফারিজ বলবে কি ওর নিজেরই বিস্ময় কাটছে না । এমন কিছু যে হতে পারে, এই মেয়ে যে এমন কিছু করতে পারে সেটা সে ভাবতেই পারে নি !

মিনিটখানেক পরেই তন্বী আবারও ফিরে এল ওর কেবিনে । এসেই দরজা বন্ধ করে দিল ! ফারিজ তন্বীর চোখের দিকে তাকিয়ে জীবনে প্রথমবারের মত কোন মেয়েকে ভয় পেল । ওর বুকের ভেতরে একটা অদ্ভুত ভয় কাজ করতে শুরু করলো । যে মেয়ে এইভাবে আরেকটা মেয়েকে চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে যেতে পারে, সে মেয়ে যে কোন কিছু করতে পারে !
ফারিজ ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে রইলো তন্বীর দিকে । মেয়েটা কি করবে এখন ?




শেষ পর্ব


ফারিজ নিজের মায়ের দিকে বেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো । তার মা রেবেকা সুলতানা নিজের হাসি থামাতে পারছেন না । হাসতে হাসতে তার চোখে পানি চলে এসেছে । পাশে ফারিজের দিম্মা বসে আছেন, তিনিও হাসছেন । ফারিজ খানিকটা বিরক্ত হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
-ও, কাম আন মম । এভাবে হাসবে না তো !
রেবেকা সুলতানা আরও কিছু সময় হাসলেন প্রাণভরে । তারপর নিজের হাসি থামিয়ে বললেন,
-ও এমনটা করলো আর তুই সেটা মেনে নিলি ?
তারপর আবারও কিছু সময় হাসি !

ফারিজ কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল । সত্যিই তো । এই ব্যাপারটা তো সে মোটেও ভেবে দেখেনি । তাই তো ! সে তন্বীর ঐ আচরণটা কিভাবে মেনে নিলো ! তখন কিছু বলতে পারলো না কেন ! আর এখন এসে মায়ের কাছে কেন বলছে এইসব । ফারিজের নিজের কাছেই নিজের আচরণ কেমন যেন অবাক করা মনে হল । এমন তো হওয়ার কথা না ।

আচ্ছা সত্যিই সে তন্বীকে কিছু বলতে পারলো না কেন ?

মায়ের কাছে তো আসল কথা সে এখনও বলেই নি । তন্বী কেবল এলাইনাকে চুল ধরে অফিস থেকে বের করে দিয়ে আসে নি । রিসিপশনের মেয়েটার কাছ থেকে জাকির শুনে এসেছে তন্বী ঠিক কী করেছে । ফারিজ কেবল কেবিনে যা হয়েছে সেটা দেখেছে । বাইরে আসলে কি হয়েছে সেটা ফারিজ দেখে নি । অফিসে সবার সামনেই তন্বী একেবারে চুলের মুঠি ধরেই এলাইনাকে বাইরে গেটের কাছে নিয়ে যায় । তারপর ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে । আঙ্গুল তুলে এলাইনার দিকে শাসিয়ে বলে,
-এরপর থেকে আমার স্বামীর আশেপাশে যেন তোমাকে না দেখি । অন্যের স্বামীর দিকে নজর দাও, এতো বড় নির্লজ্জ কিভাবে হলে ? বাবা মা শেখায় নি কিছু তোমাকে !
তারপর রিসিপশনের মেয়েটা আর গার্ড লোকটার দিকে তাকিয়ে বলে,
-শুনো, এই মেয়ে যেন কোনভাবেই এই গেট দিয়ে না ঢুকতে পারে । যদি ঢোকে তাহলে তোমাদের চাকরি আমি খেয়ে ফেলবো । মনে থাকে যেন !

এই ঘটনা সবাই দেখেছে । কিন্তু এরপর তন্বী কেবিনে এসে কি করেছে সেটা কেউ দেখে নি । সেটা কেবল ফারিজ আর তন্বীর ভেতরেই সীমাবদ্ধ আছে । কথাটা সে মাকে বলবে কিনা বুঝতে পারছে না । বললে আরও একদফা অপদস্থ হতে হবে মা আর দিম্মার কাছে ।
ফারিজের দিম্মা বললেন,
-বল কেন কিছু বলতে পারিস নি ?
ফারিজ চুপ করে রইলো । দিম্মা বলল,
-তোর দাদা আর বাবা যেমন তুই তেমনই হয়েছিস ?
-মানে কি ?
-মানে হচ্ছে দুনিয়ার সবার সাথে বাহাদুরী করলেও তোরা বউয়ের কাছে একেবারে ভেজা বেড়াল । তোর দাদাকে বাড়ি আর অফিসের সবাই জমের মত ভয় পেত তখন কিন্তু আমার সামনে আসলেই তার জারিজুরি সব ঠান্ডা । তোর বাবার বেলাতেও তাই । আর এখন দেখছি তুইও তাই হয়েছিস !

এই বলে বউ শ্বাশুড়ি মিলে আরেক দফা হেসে নিল । ফারিজ বুঝলো যে এখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানে হচ্ছে হাসির পাত্র হওয়া । সে নিজের ঘরের দিকে হাটা দিল । মাথা ঠান্ডা করা দরকার । নিজের ঐ বাসাটায় এখন যেতে পারলে ভাল হত । হাতে ওয়াইনের গ্লাস নিয়ে সুইমিংপুলে কিছু সময় নিজের শরীর ডুবিয়ে রাখলে হয়তো মাথা ঠান্ডা হবে । সবকিছু মাথা থেকে দূর হবে ।

রাতে ডিনারের পরেই রেবেকা সুলতাকার ফোনটা বেজে উঠলো । মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার ভ্রু খানিকটা কুচকে উঠলো । এই মহিলাকে তিনি মোটেই পছন্দ করেন না । তবুও নিজেকে যথাযথভাবে শান্ত করে ফোনটা ধরলেন ।
-হ্যালো ।
-ভাবী এটা কি শুনছি ?
-কি শুনছেন ?
-আপনার ছেলের বউ নাকি এলাইনার গায়ে হাত তুলেছে !
-কই আমি তো এসব জানি না ।
-ভাবী, আপনার এর একটা বিচার করতে হবে । কোথাকার কোন দুই পয়সার মেয়ে আমার মেয়ের গায়ে হাত তোলে !
-ভাবী, তন্বী এখন এই বাড়ির বউ এটা মনে রাখবেন । আর নিজের স্বামীর দিকে যদি অন্য নারী চোখ দেয়, আমি হলে তো সেই চোখ কাঁটাচামচ দিয়ে তুলে নিতাম । তন্বী তো ভদ্র অনেক । কেবল চুল ধরে বের করে দিয়েছে । আপনার মেয়েকে বলবেন সে যেন ফারিজের উপর থেকে নিজের কুদৃষ্টি সরিয়ে নেয় । একসময় ওদের মাঝে যা ছিল সেটা এখন অতীত । এখন ফারিজ অন্য কারোর স্বামী । এটা তাকে মনে রাখতে বলবেন !

রেবেকা সুলতানা আর কিছু না বলে ফোনটা রেখে দিলেন । ফোন রাখার পরে হঠাৎই মনে হল তার অনেক বেশি ভাল লাগছে । মনে মনে ঠিক করে নিলেন তন্বীকে একটা পুরস্কার দিতে হবে এই কাজের জন্য । কি দিতে হবে সেটা এখন ভাবতে হবে ।
এই এলাইনা কিংবা তার মাকে তিনি পছন্দ না করলেও ফারিজের জন্যই একদিন কথা বলতে গিয়েছিলেন । ফারিজ নিজ থেকে কিছু না বললেও মা হিসাবে রেবেকা সুলতানা ঠিকই বুঝতে পারতেন যে তার ছেলেটা ভাল নেই । সেইজন্যই কথাবার্তা বলতে গিয়েছিলো এলাইনার মায়ের সাথে । এলাইনার বাবার সাথে ফারিজের বাবার অনেক দিনের চেনা জানা । সেই সুবাদেই দুই পরিবারের কাছাকাছি আসা, যদিও রেবেকা সুলতানা কেন জানি কোনদিনই এদেরকে পছন্দ করতে পারেন নি । ফারিজের সাথে যখন এলাইনার বন্ধুত্ব একটা সম্পর্কের ভেতরে চলে গিয়েছিলো তখনও রেবেকার পছন্দ হয় নি । তবে তিনি কিছুই বলেন নি । ছেলের পছন্দ বলে কথা । চুপচাপ মেনে নিয়েছিলেন । তারপর মেয়েটা যখন ইচ্ছে করে ফারিজের সাথে সব সম্পর্ক নষ্ট করে দিল তখন মেয়েটার উপর প্রচন্ড রাগ হয়েছিলো । তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছিলেন যে এলাইনা তখন কোন এক ব্রিটিশ বিজনেসম্যানের প্রেমে মজেছে । তারপরেও ছেলের জন্য এলাইনার মায়ের কাছে গিয়েছিলেন তিনি । এলাইনাকে যেন বুঝিয়ে শুনিয়ে কিছু একটা করা হয় । সেদিন সরাসরি রেবেকা সুলতানাকে অপমান না করলেও এলাইনার মা একটু সুক্ষ্ণভাবে বুঝাতে চেয়েছিলেন যে তার মেয়ে এমন ফেলনা না যে যাকে তাকে বিয়ে করে ফেলবে ।
আর আজকে !
তন্বীকে কাছে পেলে আজই একটা বড় রকমের গিফট দেওয়া যেত । তবে সেটা তিনি এখন করতে পারছেন না । মেয়েটা আজকে এদিকে আসে নি ।

রাত একটার দিকে ফারিজ তন্বীদের বাসার সামনে গিয়ে হাজির হল । কেন হাজির হল সেটা সে নিজেও জানে না । খাওয়াদাওয়া শেষ করে তার কিছুতেই ঘুম আসছিলো না । বারবার মনে হচ্ছিলো অফিসে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা । মেয়েটার সাহস দেখে সে সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিলো । এতো সাহস তন্বী কিভাবে পেল ?
আজও মনে আছে সেদিন সেই হোটেলে মেয়েটা কেমন কুকড়ে ছিল । ভয়ে একেবারে কাঠ হয়ে গিয়েছিলো। আর আজ এই মেয়েই কিনা ওর শরীর থেকে জামা খুলে নিল !
ব্যাপারটা সে মোটেই ভাবতে চায় না । তারপরেও দৃশ্যটা বারবার তার চোখের সামনে চলেই আসছে । এলাইনাকে অফিসের বাইরে রেখে এসে তন্বী আবার ফারিজের কেবিনে এসে হাজির হয়েছিলো । কোন কারণ নেই কিন্তু তন্বীর চোখের দিকে তাকিয়ে ফারিজের কেমন যেন ভয় করলো । সামনে দাঁড়ানো মেয়েটি এখন তার স্ত্রী এবং এই মেয়েটি তাকে একটু আগেই অন্য একটা মেয়ের সাথে দেখেছে ।
একটু তো ভয় পাওয়ারই কথা, তাই না ?

তন্বী একভাবে বেশ কিছু সময় কেবল ফারিজের দিকে তাকিয়ে রইলো । তারপর ঠান্ডা গলায় বলল,
-এই শার্টই তো জড়িয়ে ধরেছিলো, তাই না ? এটা খুলো !
-মানে ?
-মানে জামা খুলতে বলেছি ।
-পাগল নাকি !
-খুলবা না?

ফারিজ মনে মনে ঠিক করে ফেলল যে খুলবে না । এই মেয়ে কি করতে পারে ? কিছুই না । এটা তার অফিস । তার নিজের এলাকা ! এইখানে এই মেয়ে কিছুই করতে পারবে না । ফারিজ বলল,
-খুলবো না ।
তবে গলার স্বরে কেন জানি ঠিক বল পেল না । সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারছিলো না যে এই মেয়েকে সে ভয় কেন পাচ্ছে ! এই মেয়েকে ভয় পাওয়ার কি কোন কারণ আছে ?
নেই তো!
তবে ফারিজের ভুলটা ভাঙ্গলো একটু পরেই । ফারিজ তন্বীর দিকেই তাকিয়ে ছিল । মনে মনে ভাবছিলো মেয়েটা কি করবে এখন ?

তখনই দেখতে পেল তন্বী এদিক
ওদিক তাকাচ্ছে । একদিকে তাকিয়ে ওর চোখ স্থির হয়ে গেল । ফারিজের টেবিলের ঠিক ডানদিকে একটা বড় ফুলদানি রয়েছে । বেশ দামী সেটা । তন্বী সেটার কাছে গেল এবং ফারিজকে অবাক করে দিয়ে সেটা লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দিল । পড়ার সাথে সাথেই সেটা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেল । ফারিজ মুখ হা করে কেবল তাকিয়ে রইলো সেদিকে । সে সত্যিই ভাবতেও পারে নি যে তন্বী এই কাজটা করবে । তন্বী ফারিজের দিকে তাকিয়ে বলল,
-খুলবে না ? না ? দাঁড়াও !

তন্বীর চোখ আবার এদিকওদিক নড়তে শুরু করলো । সে নতুন কিছু খুঁজছে ! পেয়ে গেলে সাথে সাথেই । টেবিলের উপরে রাখা পিসির মনিটর ! ফারিজকে আরও অবাক করে দিয়ে তন্বী পিসির মনিটরটা টেনে নামালো । তারপর সর্বশক্তি দিয়ে মেঝেতে আছাড় মারলো । ফারিজ এতোই অবাক হয়ে গেল যে একটা কথা পর্যন্ত বলতে পারলো না । কেউ তার নিজের অফিসে এসে এমন কিছু করতে পারে সেটা ফারিজের ধারণর বাইরে ছিল । অবাক হয়ে একবার মনিটরের দিকে আরেকবার তন্বীর দিকে তাকাতে লাগলো । মনের ভেতরে কু ডেকে উঠলো । বুঝতে কষ্ট হল না যে এই মেয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত থামবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ফারিজ তার কথা শুনবে ।

এইবার তন্বী টেবিলের উপরে রাখা ল্যাপটপটার দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করলো ! সেদিকে এগোতে যাবে এমন সময় ফারিজ বলল,
-দাঁড়াও দাঁড়াও প্লিজ ! ওয়েট ! ওয়েট । ওর ভেতরে দরকার জিনিসপত্র রয়েছে ।
-লাইক আই কেয়ার !
-ওকে ওকে বাবা, ওকে ! আমি শার্ট খুলছি !

ফারিজ নিজের শার্ট খুলে তন্বীর হাতে দিল । তন্বী শার্টটার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কিছু সময় । তারপর সেটা পায়ের কাছে ফেলে বেশ কিছু সময় পা দিয়ে চটকালো । ফারিজের দিকে তাকিয়ে বলল,
-এই শার্টে ওই মেয়ের স্পর্শ রয়েছে । এটা এই দুনিয়াতে থাকবে না ! দিয়াশলাই দাও !
-দিয়াশলাই?
-হ্যা । কোথায়?
ফারিজ নিজের পকেট থেকেই একটা লাইটার বের করে দিল । তন্বীর লাইটারটা নিয়ে পা দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে শার্টটা নিয়ে গেল ওয়াশরুমের দিকে । এমন একটা ভাব যেন শার্টটার থেকে ঘৃণ্য বস্তু আর কিছু নেই দুনিয়াতে । এবং সত্যি সত্যিই ওয়াশরুমে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল সেটাতে । ওয়াশরুমের দরজাটা খোলাই ছিল সেখান থেকে পোড়া গন্ধ আসতে থাকলো । তন্বী বের হয়ে এল একটু পরে । ফারিজের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো ।

তারপর দরজার পাশে পড়ে থাকা একটা প্যাকেট ছুঁড়ে দিল ফারিজের দিকে । তন্বী যখন প্রথম ঘরে ঢুকেছিলো তখনই হাতে করে এটা এনেছিলো । তন্বী আর দাঁড়ালো না । দরজা দিয়ে বের হয়ে গেল ।

তন্বী চলে যাওয়ার পর কিছু সময় ফারিজ কেবল বোকার মত দাঁড়িয়ে রইলো । মেয়েটা ওর সাথে কি করলো সেটা এখনও ওর মাথায় ঢুকছে না ঠিকঠাক মত !
তবে প্যাকেটটা বের করে খানিকটা অবাক হল । একটা নীল রংয়ের শার্ট । পুরো ব্যাপারটা বুঝতে কষ্ট হল না । তন্বী ফারিজের জন্য এই শার্টটা কিনে এনেছিলো তাকে দেওয়ার জন্য । কেবিনে ঢুকেই এলাইনাকে দেখতে পায় তারপর ওর মাথা খারাপ হয়ে যায় !

তন্বীদের বাসার সামনে এসে ফারিজ আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করলো । কেন যে এখানে এসেছে সেটা ফারিজ নিজেও জানে না । বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে আবারও সামনে রাখা গাড়িটার দিকে পা বাড়ালো । গাড়ির দরজা খুলতে যাবে তখনই ফোন বেজে উঠলো । নাম্বারটা দেখেই চোখ খানিকটা কপালে উঠলো ।
তন্বী ফোন দিয়েছে ।
-হ্যালো !
-কি ব্যাপার, চলে যাচ্ছো কেন ?
-তুমি কোথায় ?
-আমি যেখানেই থাকি । আমার বাড়ির সামনে চলে এসে আবার চলে যাচ্ছো কেন ?

ফারিজ ঘুরে দাঁড়ালো । তন্বীদের ফ্লাটের দিকে তাকালো । সব রুমের আলোই বন্ধ । তন্বী ওকে দেখলো কিভাবে ?
ফারিজ কোন কিছু বলছে না দেখে তন্বী আবারও বলল,
-উপরে আসবা ?
-না ।
-আমি নিচে আসবো ?
ফারিজ কিছু সময় নিল প্রশ্নটার জবাব দিতে । তারপর বলল,
-আসো !

প্রায় সাথে সাথেই বাড়ির গেটটা খুলে গেল । তন্বী যেন গেটের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল । ফারিজ কি বলবে বুঝতে পারলো না । দেখতে পেল তন্বী একটা টিশার্ট পরে আছে । সাথে একটা লেগিংস । ঘরের পোশাক । ল্যাম্পপোস্টের আলোতে তন্বীর এলোমেলো চুল দেখতে বেশ চমৎকার লাগছে !

মেয়েটা এতো জলদি কিভাবে নেমে এল ?
সম্ভবত তন্বী যখন গাড়ি নিয়ে এসেছে তখনই তয়কে দেখতে পেয়েছে । তারপরই নেমে এসেছে । তন্বী কয়েক পা এগিয়ে এল ফারিজের দিকে । তার দিকে তাকিয়ে বলল,
-নীল শার্টে তোমাকে ভাল মানিয়েছে ।
ফারিজ অনেকটা সময় চুপ করে তাকিয়ে রইলো তন্বীর দিকে । তারপর বলল,
-সরি !
-সরি কেন ?
-এলাইনার ব্যাপারটার জন্য ! আমি আসলে বুঝতে পারি নি যে এলাইনা ওভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরবে ! আর কখনই হবে না !
-আচ্ছা ! আবারও হওয়ার সম্ভাবনা আছে নাকি ? শুনো, এবার যদি ঐ মেয়েকে তোমার আশেপাশে দেখি আগে ইট দিয়ে ঐ মেয়ের মাথা ফাটাবো তারপর তোমার মাথা ভেঙ্গে দিবো !

ফারিজ হেসে ফেলল । তন্বী এই কাজটা করতেই পারে । আজকে সে তন্বীর যে রূপ দেখেছে তাতে তন্বী যেকোন কিছু করতে পারে । কিন্তু মেয়েটা যে এতোটা পোজেসিভ হবে সেটা সে মোটেই ভাবতে পারে নি ।
-আচ্ছা আমি যাই!
-আচ্ছা !

ফারিজ গাড়ির দিকে ঘুরতে গিয়েও থেমে গেল । তারপর তন্বীর দিকে তাকিয়ে বলল,
-আমার সাথে যাবে ?
-কোথায় ?
-কোথাও না । কিছু সময় গাড়িতে করে ঘুরি । তারপর তুমি চাইলে এখানে নামিয়ে দিবো ।
-আর না চাইলে !

ফারিজ কি বলবে খুঁজে পেল না । এই মেয়েকে সে সত্যিই বুঝতে পারছে না । ফারিজ বলল,
-আমি আসলে আমার ঐ বেরিবাধের বাড়িতে যাচ্ছিলাম । যাবে তুমি ?
-তারপর ? আমাকে একা পেয়ে কি করবে শুনি ? ঐদিন কি করেছিলে মনে আছে ?

ফারিজ বলল,
-আমি ঐদিন কিছুই করি নি ! তোমার পোশাক বদলেছি কেবল । ভয়ানক অবস্থা ছিল পোশাকের ! বিলিভ মি !
তন্বী বলল,
-কিছু করবে না ? তাহলে আর গিয়ে লাভ কি বল ! বাসায় থাকি !

ফারিজ সত্যিই অবাক হয়ে গেল । এই মেয়েকে সে কোনদিন বুঝতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না । তার বাবা কোনদিন ঠিকঠাক মত তার মাকে বুঝতে পারে নি । এখনও সে দেখে যে মায়ের রাগ ভাঙ্গাতে কিংবা মন পেতে তার বাবাকে কত কিছু করতে হয় । তার তো অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে !

ফারিজকে আরও একটু অবাক করে দিয়ে তন্বী নিজেই ফারিজের গাড়িতে উঠে বসলো । ফারিজ এদিকওদিক তাকিয়ে নিজেও গাড়িতে উঠে বসলো । উঠে বসতেই দেখতে পেল তন্বীর হাতে বিয়ারের ক্যান । সিটের পেছনে ছিল । এক ক্রেন নিয়ে যাচ্ছিলো সে তার বাসায়।
ফারিজ বলল,
-আরে আরে কি কর !
-কেন ?
-না মানে তোমার তো সহ্য হয় না ।
তন্বী হাসলো আবার । ক্যানটা খুলতে খুলতে বলল,
-আজকে হুশ না থাকলে খুব একটা সমস্যা নেই ।
বলেই ক্যানে চুমুক দিল ! আজকে বিয়ারের ইফেক্ট নিয়ে ও চিন্তিত নয়
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:২২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৪৫ বছরের অপ-উন্নয়ন, ইহা ফিক্স করার মতো বাংগালী নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫



প্রথমে দেখুন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো; উইকিপেডিয়াতে দেখলাম, ১০৩ টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে; ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাঁরা যেই উদ্দেশ্যে করেছেন, নর্থ-সাউথ কি একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? ষ্টেমফোর্ড ইউনিভার্সিটি কি চট্টগ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগাররা সবাই কোথায় হারিয়ে গেল ?

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪

ইদানিং সামু ব্লগ ব্লগার ও পোস্ট শূন্যতায় ভুগছে। ব্লগ মাতানো হেভিওয়েট ব্লগাররা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন।কাজের ব্যস্ততায় নাকি ব্লগিং সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি কিছু ব্লগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৬৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫



সুরভি বাসায় নাই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে।
করোনা ভাইরাস তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তবে এবার সে অনেকদিন পর গেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর। আমি বলেছি, যতদিন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ অমঙ্গল প্রদীপ (পাঁচশততম পোস্ট)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১৪

প্রদীপের কাজ আলো জ্বালিয়ে রাখা।
কিন্তু টেকনাফের একটি ‘অমঙ্গল প্রদীপ’
ঘরে ঘরে গিয়ে আলো নিভিয়ে আসতো,
নারী শিশুর কান্না তাকে রুখতে পারতো না।

মাত্র বাইশ মাসে দুইশ চৌদ্দটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া দেশে চাকরি সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২০



গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া সরকার মন্ত্রী পরিষদে কতোজান বিসিএস অফিসার আছেন? তাছাড়া সততার সাথে সোমালিয়া সরকার চাইলেও সঠিক ও যোগ্য মন্ত্রীপদে কতোজন বিসিএস অফিসার দিতে পারবেন?

(ক) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×