somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমরা যারা মেধাবী এবং আন্দোলনে

২২ শে অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৫:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ সম্পূর্ণ নিজের উপলব্ধি থেকে লিখছি, অনেকরই দ্বিমত পোষণ করাটা স্বাভাবিক। ]
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামি ২০১৫ সাল থেকে দ্বিতীয়বারের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিবার সুযোগ বিলুপ্ত ঘোষণার প্রায় সাথে সাথে একদল পরীক্ষার্থী এর বিপক্ষে আন্দোলনে নেমেছে। গত কয়েকদিন আগে এবং আজ টিএসসিতে তারা স্লোগান দিয়ে দ্বিতীয়বার সুযোগ চেয়ে বিক্ষোভ করেছে। ইতোমধ্যে তারা আল্টিমেটাম দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। কয়েকজন ছাত্রকে আটক করে পুলিশ ছেড়েও দিয়েছেন দুপুরের দিকে। প্রক্টর স্যারের সাথে আমি এক্ষেত্রে একমত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এম আমজাদ আলী স্যার বলেছেন, "আন্দোলনকারীরা এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। সেই হিসেবে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলন করতে পারেন না। এ কারণে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিয়েছে। পুলিশের আহ্বান অগ্রাহ্য করায় পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।"

আমার ধারণা, পরীক্ষার্থীদের খুব বেশি কিছু করে ফেলাটা তাদের একাডেমিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পুলিশের আহ্বান অগ্রাহ্য করে যারা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হয়েও সেখানে গিয়ে আন্দোলনের নামে পরিবেশের বিঘ্ন ঘটায়, তারা নিজেরাই কীভাবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হবার স্বপ্ন দেখে, অবাক লাগে! তারা যদি কোনদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়, তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় মনে হয় অমূল্য কিছু রত্ন পাবে! আর এভাবে আন্দোলন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যত পারাপারি হচ্ছে, তাতে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সূক্ষ্ম অসম্মান করা হচ্ছে বটে! ভাবখানা এমন, এখানেই সবাই পড়বে। অন্যান্য কোথাও যেন আর পড়ালেখাই হয় না!
সে যাই হোক, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবে বেশ কয়েকটি কারণে আমার এই সিদ্ধান্তকে প্রথম থেকেই গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিসংগত মনে হয়েছে। #প্রথমত, প্রথমবার এবং দ্বিতীয়বারের পরীক্ষার্থীদের মাঝে যে ভর্তিযুদ্ধ হয়, তাতে প্রতিযোগিতার কোন সামঞ্জস্য নেই। দ্বিতীয়বারের পরীক্ষার্থী বেশ অভিগ্য এবং পড়াশোনার অনেক সময় পান। আমার নিজেরই কাছের অনেক আত্মীয়স্বজন, ভাই-বোন দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু সবসময় ব্যাপারটা আমার কাছে কেমন যেন অস্বস্তি ঠেকেছে। #দ্বিতীয়ত, প্রথমবারের প্রায় ৫০% ছাত্রছাত্রী চান্স পাবার সুযোগ হারান। #তৃতীয়ত, কোচিং সেন্টারগুলো দৌড়াত্ব বাড়ছিল। আমি নিজে দেখেছি, দ্বিতীয়বারের পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন ইউনিটের জন্য কোচিং সেন্টারগুলো বছরব্যাপী কি রমরমা ব্যবসাটাই না করেন। এখানে আমি কারও ভাত মারার কথা বলছি না। কোচিং সেন্টারগুলো জানার জন্য, শেখার জন্য কিছুই পড়ায় না। সম্পূর্ণ ভর্তির সিলেবাস ধরে ধরে সীমাবদ্ধ কিছু জিনিস পরীক্ষার্থীর মাথায় ঢুকিয়ে দেয় শুধু। #চতুর্থত, অনেকেই শুধু ভালো একটা বিষয় নিয়ে পড়ার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন একটা বিষয়ে ভর্তি হয়ে থাকে এবং দ্বিতীয়বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়। ফলাফল, উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগের সব মিলিয়ে শত শত আসন খালি পড়ে থাকে। একই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ঘটে। বিভিন্ন সমীক্ষায় প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার আসন নস্ট হয় দ্বিতীয়বারের পরীক্ষাপদ্ধতি চালু থাকার কারণে।

অনেক কারণ লিখলাম। অনেকের মনে হতে পারে, আমি ২০১৪ এইএসসি ব্যাচের ঘোর বিরোধী। আসলে আমি নিজেও মনে করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত ছিল এই ঘোষণাটি পরীক্ষার অনেক আগে দিয়ে দেওয়া। তবে যেকোনো একটা ব্যাচ ধরাটা যে খেত এটাও অনিবার্য। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের ১৯ অক্টোবর,২০১৪-এর দৈনিক প্রথম আলোর লেখাটা পড়লাম। স্যার বলেছেন, শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়মুখী না হয়ে, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ভালমত পড়াশোনা করা উচিত। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও উচিত শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা। আমি ধরেই নিতে পারি, স্যারের এ কথাগুলো আমার উপরোক্ত চতুর্থ কারণের একটা ভালো সমাধান। তিনি গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতির কথা বলেছেন। অনেকটা মেডিক্যালের পরীক্ষার মত। তবে গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতির বিপক্ষে আমি অন্য একটা কারণে, সেক্ষেত্রে দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস হাজারো গুণে বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্ত, মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষা।
আরেকটা বড় কারণ নিয়ে কিছু বলতে চাই। সেটা হচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। A+ নামক বস্তু এখন ছেলের হাতের মোয়া। এই বস্তুকে পাবার জন্য সবাই মরিয়া। আবার লক্ষণীয় যে, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির এক আশ্চর্য অমিল এখানে। একজন শিক্ষার্থী মোটামুটি পরীক্ষা দিয়ে এলেই জিপিএ-৫! যার প্রত্যাশাই ৪.৫ সে যখন গোল্ডেন ৫ পেয়ে বসে থাকে, তখন এই জিপিএ-৫ এর মূল্যায়নটা সেই শিক্ষার্থীর কাছে কি? আমার ধারণা, প্রত্যাশার থেকে বেশি কিছু পাওয়া সবসময় অমঙ্গলের। বিশেষ করে সেটা যদি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট হয়। এই যে হাজার হাজার জিপিএ-৫ ধারীরা আন্দোলন করছে, তাদের সামাজিক মূল্যবোধটা কোথায়? শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য কি কখনও এই অদ্ভুত শিক্ষা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে পেরেছে? হাজারো ডাবল(এসএসসি ও এইচএসসি) জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী একেকটা ভর্তি পরীক্ষাতেই পাশ করতে পারছে না। তাহলে আসলে সমস্যাটা কোথায়? গোড়াতে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও সেটা নিয়ে কেউ কিছু বলছেন না। যারা যতটা বলছেন, তাদের হেয় করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারী বলা হচ্ছে শিক্ষা ব্যাবস্থা নিয়ে কিছু বললেই, একটা ভুল ধরিয়ে দিলেই। এটা একটা জাতীয় সমস্যা, আমার স্বীকার করতে কোন আপত্তি নেই।
এতোগুলো সমস্যা নিয়েই শুধু কথা বলে গেলাম। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে অনেকবার লিখেছি, আজ আর নাই বা লিখলাম। তাহলে এতো সমস্যার সমাধান কি? সমাধান অবশ্যই আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই পরীক্ষা সিস্টেম এর পরেরবার অর্থাৎ ২০১৬ থেকে নিতে পারে(কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ২০১৫ সালের পরীক্ষার্থীদের সিলেবাস খানিকটা ভিন্ন!)। ছেলেরা যে আন্দোলন, আল্টিমেটাম, পুলিশি ঝামেলা করছে তা থেকে বিরত থেকে বাকি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো আছে সেগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। এটা আসলেই জরুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট যখন সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে, তখন এ থেকে সরে আসবে বলে মনে হয় না। পরীক্ষার্থীদের উচিত এবারেই যেন একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে সে চেষ্টা করা

সব থেকে বড় কথা হল, মানুষ হবার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাগে না! আমি নিজে অনেককে দেখেছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়েও অনেক বড় কিছু করছে। অনেকে এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ে সেখানকার প্রভাষক হয়ে গেছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ভালো করছে। সেগুলোতে পড়ে খুব ভালো করছেন অনেকেই। শিক্ষকতার সুযোগতো থাকছেই। যাদের ভালো টাকা পয়সা আছে, তারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে পার। আজকাল সেগুলোতেও অনেক ভালো পড়ালেখা হচ্ছে। তোমরা যারা মেধাবী, তাদের মেধাকে এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আঁটকে রাখতে পারবে না। তোমাদের জয় সুনিশ্চিত। নিজের মেধা বিকাশের জন্য একটা মাঠ দরকার, সেটা যেখানেই হোক না কেন।
শুভবুদ্ধির উদয় হোক সবার। মঙ্গল হোক সকলের।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×