হাফ প্যান্ট বেলার কথা। আল্লাহ দিলে সেসময় যা যা ইতরামি করার করসি

ক্লাস থ্রিতে যখন পড়িতাম তখন স্কুলে নতুন প্রিন্সিপ্যাল স্যার আসিলেন। সঙ্গে আনিলেন আমার সমবয়সী কন্যাকে।

তখন আমার রোল ছিল দুই, কতদিনের স্বপ্ন ছিল যে এইবার প্রথম হইবাম

কিন্তু বেটি আসিয়া সব উলট পালট করিয়া দিলো

স্কুলের তাবৎ মাস্টার আর ম্যাডামরা গুনমুগ্ধ হইয়া সারাদিন তাহার নামে ভজন গাইতে লাগিলো। ফাইনাল পরিক্ষার ফলাফলেও তার প্রতিফলন হইলো

তিনি প্রথম হইলেন

। যাকগে, আগেরবার উনি অন্য সেকশানে থাকিলেও এইবার চলিয়া আসিলেন আমার সেকশানে। আমি থোড়াই তাহারে কেয়ার করিতাম। মাস্টারদের তারে তেল মারার স্টাইল দেখিয়া মনে মনে গজর গজর করিতাম। ৭ মাস কাটিয়া গেলো । একদিন আমি আমার জিগরি দোস্তদের সাথে পেছনের বেঞ্চে বসিয়া আগেরদিনের বিতিভিতে দেখা কোন এক নাটকের পোস্ট মরটেম করিতেসিলাম, হঠাত সামনে তাহার আবির্ভাব

পাশে আরও দুইজন। আমি পরিলাম টেনশনে, বহুতখন কিছুই বলিতেসেনা, শুধু দাড়ায়ে কি জানি বলিব বলিব করিেতসে। বহুত চেষ্টা চরিতার্থের পর উনি যাহা বলিলেন শুদ্ধ বাংলায় তাহার অর্থ দাড়ায় যে তিনি আমার প্রেমে পরিয়াছেন


আমি শুনিয়া প্রায় হার্ট এটাক খাইলাম। কি বলে এই মাইয়া

আম্মু বলিয়াছে প্রেম যারা করে তারা খুবই খারাপ, ইহা মস্ত পাপের কাজ। তারপর থেকে পাপি সেই রমণী থেকে পালাইয়া বেরাইতে লাগিলাম। আরও এক বছর পর, আমার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হইতেসে, (সব ডিসি আঙ্কেল এর কন্নাদের অবদান) আমি তাহার সাথে ঈষৎ খেলাধুলা করিতে লাগিয়াছি । একদিন ক্লাশের মদ্ধে ডাস্টার দিয়ে ক্যাচ ক্যাচ খেলিতেসিলাম, পিলে চমকাইয়া দিয়া তিনি আমার ঐ স্থানে হামলা করিলেন উহা দিয়া

ব্যাথায় আমি ককাইয়া উঠিতে গিয়াও থামিয়া গেলাম। ভাব নিলাম কিছুই হয়নি। ছেলেমানুষের কথাও কোন ব্যাথা লাগেনা

। আবার উনাকে ডাস্টারখানা ফেরত দিলাম। উনি বোধকরি মজা পাইলেন, এইবার উহা সজোরে আবার একই স্থানে মারিলেন


কোন মতে উহা থেকে বাচিয়া আমি বলিলাম, আজকের মত খেলা শেষ, আগামীকল্য আবার খেলা হইবেক।

মাইয়ারে ক্যামনে বুঝাইতাম যে আল্লাহ চোখ কান হাত পা দুখানা করিয়া দিলেও উহা একখানাই দিয়াছেন, আর ঐখানে একটা টোকা লাগিলেও মহাবীর আলেক্সেন্ডারও লাফাইয়া উঠিয়া বসিয়া পরিতেন।

আজ বহুদিন পর কথাখানা মনে পড়িয়া হাসি পাইতেসে, না জানি মাইয়ার বয়ফ্রেন্ডের কি অবস্থা
