somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশে খাবারের দুর্ভিক্ষ নেই, দুর্ভিক্ষ হচ্ছে রুচির।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"সম্মানিত সুধী সমাজ, কখোনো কি ভেবে দেখেছেন?
ট্রল করতে গিয়ে কত সুন্দরভাবে নিজেদের
নিম্ন মানের রুচিবোধ প্রকাশ করছেন।"


আমাদের দর্শক মূলত দুই ধরনের। একদল যারা তথাকথিত কমার্শিয়াল/বাণিজ্যিক বস্তাপচা নাটক/মুভি পছন্দ করে আর একদল যারা নিজেদের কে রুচিশীল পরিচয় দিয়ে ভিন্ন ধারার ভালো গল্প খুঁজে দেখেন। সমস্যা হল যারা বস্তাপচা কাজগুলো পছন্দ করে তারা সেগুলো শেয়ারদেয়, লাইক- কমেন্ট তো আছেই আর যারা নিজেদের রুচিশীল বলে পরিচয় দেয় তারা ভালো গল্প খুঁজে বের করে দেখে চুপচাপ থেকে যায়। অন্তত আশার দুই একটা কমেন্টও তারা সেসব কাজের নিচে করতে অলস্য বোধ করে। সেই সাথে নিম্নমানের লজিক বিহীন গুল্পগুলো ট্রল করে শেয়ার দিয়ে উড়াইয়া দেয়। এভাবে ট্রল করতে করতে নাটকের ভিউ বেড়ে যায়, হিট হয়ে যায়। ভিউয়ের কথা কেন বললাম? আসলে প্রযোজকরা গল্প পড়েও দেখে না। তারা ঐ ভিউ চায়। ভিউ বেশী মানে নাটকটা বেশী লোক দেখছে, বেশী লোক দেখছে মেনে; বেশী বেশী এড, বেশী বেশী টাকা। নাটক আর্টের জায়গা হলেও তারা ব্যবসাটাই বোঝে। একজন ধর্ষক যেমন নারীর রূপ না দেখে মাংস পিণ্ড দেখে, একজন কসাই যেমন ছাগলের মাংস যাচাই করে তারাও তেমনি ভিউ দেখে আর এই ট্রলের চাপে ভিউয়ের জোয়ার আসে। জোয়ারে আমরা একজন হিরো আলম পাই, একজন প্রত্যয় হিরোন পাই, জন্তুদের মত প্রকাশ্যে চাটাচাটির সালমান মুক্তাদির পাই। কাকের থেকেও কর্কশ গায়ক পাই। তাদের কে কিছুতেই বোঝানো যায় না যে, কোকিলের মত দেখতে হলেই গাওয়া যায় না কারণ ঐযে, ভিউ বাড়তেছে, প্রযোজকরা লাইন দিয়ে দাঁড়াইয়া আছে। তারা তাদের ছাগলের সাস্থের মত ভিউ দেখে। এই সব প্রযোজকদের ভালো গল্প দিলেও এরা গল্প না পড়েই ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মত বলে দেয়, এসব নাটক মানুষ দেখে না। তাদের কে কিছু বলাও যায় না কারণ মানুষ কি দেখে? তার প্রমাণ তো হাতের কাছেই। দেখেন কোনটার কেমন ভিউ? ভিউয়ের গ্যড়াকলে পড়ে ব্যচালার পয়েন্ট, বড় ছেলে, বুকের বা পাশে হিট হয়ে যায় । বস্তাপচা ভালোবাসার গল্প, সস্তার মানবতার গল্প আর ভাঁড়ামির নিচে চাপা পড়ে থাকে প্রজন্ম টকিজের মত ভালো গল্পগুলো। এখন অনেকেই বলবেন আয়নাবাজি, মনপুরার কথা, আরে ভাই মাঝে মাঝে প্রকৃতিতে কিছু বিরূপ প্রক্রিয়া ঘটে কিন্তু তার মানে এই না যে কিছু একটা বিল্পপ ঘটে গেছে। তা না হলে ঋত্বিক ঘটক জীবনে মাত্র একটা সাফ্যলের মুখ দেখতেন না। এসব বস্তাপচা নাটকের, সিনেমার দর্শক আগেও ছিলো- এখনো আছে- ভবিষ্যতেও থাকবে। আমি তাদের দোষ দিচ্ছি না, কারণ যে যার প্রয়োজন মত বিনোদন খুঁজবে সেটাই স্বাভাবিক। আপনারা যারা শিয়ালের মত গর্তে লুকিয়ে থেকে আত্ততৃপ্তিতে ভালো কাজ গুলো দেখেন আর বুক চেতিয়ে নিজেদের রুচিশীল দর্শক বলেন। যারা হায় হায় করেন এমন মুভি কিভাবে ফ্লপ যায়। আপনারা এবার বেড়িয়ে আসুন। ভালো কাজ দেখার পাশাপাশি সেগুলো শেয়ার করুন আর বাজে নাটক গুলো এড়িয়ে চলুন আর খুব যদি ট্রল করতে ইচ্ছা করে তাহেলে সেই ভালো নাটক, মুভির সিন গুলো নিয়ে Sarcasm করুন কিন্তু দোহায় আপনাদের ট্রলের নামে ঐ বস্তাপচা গুলোর মুখ খুলে দূরগন্ধ ছড়াবেন না, আপনাদের নিম্ন রুচির পরিচয় দিবেন না; নইতো মিডিয়া ছেরে একটা ভালো মানের জব করে খাওয়ার যোগত্যা নাই যাদের- এমন ডিরেক্টদের ভাঁড়ামি হজম করেতে শিখুন, শুধু শুধু গালি দিয়ে নিজেদের বংশ পরিচয় দিবেন না। কোনটা মহৎ সৃষ্টকর্ম, কোনটা সৃষ্টকর্ম আর কোনটা নিতান্তই আবর্জনা সেটা তারা বোঝে না, তাই বলে তাদের কে আঙ্গুল দিয়ে আবর্জনা দেখাতে যাবেন না তাতে হিতে বিপরীত হবে আর আমরা রিপন ভিডিও পাবো, আপনারা নাকে গন্ধ পাবেন তারচেয়ে বরং মহৎ সৃষ্টকর্ম আঙ্গুল দিয়ে দেখান একদিন তারা এমনিতেই নাকে গন্ধ পাবে। নাটক নিয়ে অনেকতো নাটক-ফাটক হল, এবার আমার দর্শকরা এগিয়ে আসি। টেবিলটা আমাদের পছন্দমত সুস্বাদু খাবার দিয়ে সাজাই আর পচাগুলো ডাস্টবিনে ফেলি। আসুন না এবার আমারা একটা আন্দোলন করি ইউটিউবে ভালো কাজ গুলো শেয়ার করি, লাইক, কমেন্টতো অবশ্যই আর বস্তাপচা গুলো এড়িয়ে যাই। টিভি চ্যানেল এবং অন্যান প্লাটফর্মে বাজে কাজ দেখলে সেসব কাজের বিরুদ্ধে অন্তত তাদের একটা মেইল করি। চলুন না একটা নিরব প্রতিবাদ করেই দেখি। ভিউয়ের অভাবে এবং কমপ্লিন পেতে পেতে বাজে কাজ গুলো একদিন ঠিক হারিয়ে যাবে এখন যেমন ভালো কাজ গুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এখন যদি বলেন কার ঠেকা পড়ছে তাহলে বলতেই হয় সুন্দর বনে বাঘ থাকে না সিংহ থাকে, এসব যুক্তিতর্ক ছেরে নির্মম বিনোদন নিন আর তৃপ্তির ঢেকুর তুলুন। যে দেশের মন্ত্রীরা কচুরিপানা খায়; সে দেশে খাবারের দুর্ভিক্ষ নেই, দুর্ভিক্ষ হচ্ছে রুচির।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের চীন সফর, অশ্বডিম্ব।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৭

বাংলাদেশী মিডিয়া সোসাল মিডিয়াতে তোলপার
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত উদ্বিগ্ন।
এখন তো দেখলাম অশ্বডিম্ব।
কোন অর্থায়ন চুক্তি নেই, নতুন কোন ঋন দিবে না
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি বা মামুলি সমঝোতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌর বিদুৎ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৮


আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×