কবি সিকান্দার আবু জাফরের এই কবিতা টি আমার অসম্ভব প্রিয় একটি কবিতা। আমার কেন জানি কবিতা পড়ার চেয়ে আবৃত্তি শুনতে বেশী ভালো লাগে, আবৃত্তিটা যদি হয় মনের মত। এমন একটা সময় গেছে যখন আমি গানের চেয়ে কবিতা বেশী শুনতাম। কবিতা আবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে শুয়ে পড়তাম, কবিতা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যেতাম। নিজেও কিছু চেষ্টা করি আজকাল, কিন্তু হয় না। স্বাধীনতা বিরোধীদের জন্য এর থেকে ভালো কবিতা মনেহয় আর নেই।
কবিতাটি আমার সবচেয়ে ভালো লাগে প্রয়াত আবৃত্তিকার ও অভিনেতা গোলাম মোস্তফার কন্ঠে। শুনলে যেন শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়।তাঁর কন্ঠে কবিতাটি শুনতে চাইলে ক্লিক করুন নীচের লিংকে।
রক্তচোখের আগুন মেখে ঝলসে যাওয়া আমার বছরগুলো
আজকে যখন হাতের মুঠোয় কণ্ঠনালীর খুন পিয়াসী ছুরি,
কাজ কি তবে আগলে রেখে বুকের কাছে কেউটে সাপের ঝাপি
আমার হাতেই নিলাম আমার নির্ভরতার চাবি;
তুমি আমার আকাশ থেকে সরাও তোমার ছায়া,
তুমি বাংলা ছাড়ো।
অনেক মাপের অনেক জুতোর দামে তোমার হাতে
দিয়েছি ফুল হৃদয়-সুরভিত
সে ফুল খুঁজে পায়নি তোমার চিত্তরসের ছোঁয়া,
পেয়েছে শুধু কঠিন জুতোর তলা।
আজকে যখন তাদের স্মৃতি অসন্মানের বিষে
তিক্ত প্রানে শ্বাপদ নখের জ্বালা
কাজ কি চোখের প্রসন্নতায় লুকিয়ে রেখে প্রেতের অট্টহাসি!
আমার কাঁধেই নিলাম তুলে আমার যত বোঝা;
তুমি আমার বাতাস থেকে মুছো তোমার ধূলো,
তুমি বাংলা ছাড়ো।
একাগ্নতার স্বপ্ন বিনিময়ে মেঘ চেয়েছি
ভিজিয়ে নিতে যখন পোড়া মাটি
বারে বারেই তোমার খরা আমার খেতে বসিয়ে গেছে ঘাঁটি।
আমার প্রীতি তোমার প্রতারনা
যোগ বিয়োগে মিলিয়ে
নিলে তোমার লাভের জটিল অন্কগুলো,
আমার কেবল হাড় জুড়ালো হতাশ শ্বাসের ধূলো।
আজকে যখন খুঁড়তে গিয়ে নিজের কবরখানা
আপন খুলির কোদাল দেখে সর্বনাশা বজ্র দিয়ে গড়া,
কাজ কি দ্বিধায় বিষন্নতায় বন্দী রেখে ঘৃনার অগ্নিগিরি!
আমার বুকেই ফিরিয়ে নেব ক্ষীপ্ত বাঘের থাবা;
তুমি আমার জল স্থলের মাদুর থেকে নামো
তুমি বাংলা ছাড়ো।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২৩ রাত ১০:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



