somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাপানে যাপিত জীবন- পর্ব ০১

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল রাতে মা বলছিল, “বাবা আজকে তো ২৪ তারিখ, তুমি আমাদের ছেড়ে গিয়েছ আজ এক মাস”। আসলেই, ভুলে গিয়েছিলাম। আর আজ ২৫ অক্টোবর, জাপানে আমার এক মাস পূর্ণ হল। ব্যস্ততা আমাদের এইসব দিনক্ষণ মনে রাখতে দেয়না, ছেড়ে আসার কষ্টটাও হয়ত সয়ে গিয়েছে। কিন্ত, মায়েরা মনে হয় আঙুলে গুনে রাখে, কতদিন হল, ছেলেকে আবার কবে চোখের সামনে দেখবে…!!
তবে প্রযুক্তির কল্যাণে দেখা অবশ্য প্রায়ই হয়। মা’কে আসার আগে স্মার্টফোন কিনে দিয়ে এসেছিলাম। আর ভাইয়া মোটামোটি শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যার নামাজ পড়েই আমাকে ফোন দেয় আর বলে, “বাবা, ভিডিওটা অন করতো… তোমাকে দেখি!” । তারপর কলটা কাটার ঠিক আগে স্ক্রিনে একটা চুমু দিয়ে রাখে। ছোট ছেলেটাকে একটু ছুঁয়ে দেয়ার চেষ্টা করে হয়ত……
মায়ের চিন্তার শেষ নেই, কেমন আছে ছেলে… দূরদেশে?
আমি অবশ্য ভালই আছি। আলহামদুলিল্লাহ্‌। আসার পর কোন সমস্যা হয়নি। আমাকে স্টেশন থেকে রিসিভ করে ডরমে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন, পোস্টঅফিস, ব্যাংক, ইনস্যুরেন্স, ল্যাব, শপিং সবসময় ছায়ার মত সাথে ছিল আমার চাইনিজ সাপোর্টার মিঃ হুয়াং। গুল্লগাল্লু দেখতে এই ভদ্রলোক আমার ল্যাবেরও সিনিয়র। আর ছিল বাংলাদেশী কমিনিটি। এই ক্ষেত্রে যার কথা না বললেই নয়, সে হল শাহজাহান ভাই। এই লোকটার সাথে আগে আমার কখনো দেখা হয়নি। পরিচয়ের মাধ্যম, আমার হলের রুমমেট। এতটুকুই। কিন্তু আসার পর থেকে কি পরিমাণ সাহায্য যে করছেন, তা বলে শেষ করা যাবে না। প্রথম দিনই উনাকে এক জায়গার কথা বলে ভুলে অন্য জায়গায় বসে ছিলাম... । বিশাল ক্যাম্পাস ঘুরে আমাকে উনি খুজে বের করেছেন। তারপর লাঞ্চ থেকে শুরু করে পরের দুই দিনের খাবার পর্যন্ত উনার দেয়া। আর, আমি আসার আগেই আমার জন্য সাইকেল থেকে শুরু করে ফ্রাইপ্যান পর্যন্ত ম্যানেজ করে রেখেছেন। আর কি লাগে... আবার আসার একদিন পরই বাংলাদেশী তিন ভাই খুজে খুজে আমার ডরমেটরীতে এসে হাজির। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে। অর্থাৎ, এখানে বাংলাদেশী ভাইদের সাহায্য মাত্র এক ম্যাসেজ দূরত্বে (এখনো সিম নেইনি)।
আসার পর অরিয়েন্টেশন হয়েছে তিনটা। ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি আর স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের। এখানের শিক্ষা ব্যবস্থা, জাপানি নিয়ম কানুন আর কালচার সম্পর্কে। আমাদের দেশ থেকে অনেক আলাদা। সব কিছুরই আইন আছে বটে, কিন্তু গুছানো, ঝামেলাহীন। আর কারো কাছে কিছু জানতে চাইলে, ও তার ভাঙ্গা ইংরেজীতে যতক্ষণ আপনাকে বুঝাতে বা সাহায্য করতে না পারবে ততক্ষণ ক্ষান্ত হবে না।
এবার আসি আমার ল্যাব সম্পর্কে। প্রথম দিন যখন প্রফেসরের সাথে দেখা করতে গেলাম, অনেকটা ভয়ে ছিলাম। কেমন জানি হয়। উনার সাথে কথা বলে এক নিমিষেই আমার সব ভয় দুর হয়ে গেল। অমায়িক একজন মানুষ। সদা হাস্যোজ্জল। দেখা হতেই আমাকে বলে... Mamudurrr… welcome,,, I was eagerly waiting for you, its been long we know each other। since 2016, right?? ওয়েলকাম পার্টিতে জিজ্ঞেস করে, অ্যালকোহল অর নো অ্যালকোহল? তারপর নিজ হাতে জুস সারভ করে। বিজনেস ট্রিপে গেলে ল্যাবের সবার জন্য কিছু না কিছু খাবার নিয়ে আসে। বাকিটা আল্লাহ জানে, ল্যাবের কাজতো এখনো শুরু করিনি। আমার কোন ক্লাসও নেই, শুধু জাপানিজ ভাষার ক্লাস। বিরক্তির ব্যাপার হল, ওদের অক্ষর তিন ধরণের, হিরাগানা, কাতাকানা আর কাঞ্জি। কাঞ্জির আবার আছে জাপানে ব্যবহৃত ৩০০০ শব্দ!! কৃতিত্বের সাথে ফেইল করব আশা করি। মজার ব্যাপার হল, ওদের বলার ধরণ তিন রকম। চলিত, ভদ্র আর অতিভদ্র ধরণ। এত ভদ্রতা যে ওরা কই পায়!!
তবে, এখানের সবচেয়ে ভাল বিষয় হল পরিবেশ। শান্ত, সুন্দর, গুছানো আর জ্যাম ছাড়া রাস্তা। রাস্তায় কোন ট্রাফিক পুলিশ নেই। লাল হলুদ আর সবুজ বাতিতেই যদি সব হয়, পুলিশের আর কি দরকার? রাস্তার পাশে কারা যেন ফুলের বাগান করে যায়, অদ্ভুত সব সুন্দর ফুল।
এখন অবশ্য কাঙ্ক্ষিত ফল সিজন চলছে। ক্যাম্পাস অসম্ভব সুন্দর এখন। মাঝে মধ্যে সাইকেল নিয়ে চক্কর দেই, হোক্কাইডোর অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র, এই ক্যাম্পাস। অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ এখনো হয় নাই। তবে, দেখতে যাব নিশ্চয়ই... অতি শীগ্রই...
চলবে..

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৪৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×