somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাপানে যাপিত জীবন- পর্ব ১০

১১ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রায় ৭০ শতাংশ জাপানী মানুষ কোন ধর্মে বিশ্বাসী না। ধর্মপালন না করার হিসেবে সংখ্যাটা হয়ত আরও বেশি। কিন্তু ঐতিহ্যগত ভাবে জাপানে দুটি ধর্মের প্রাধান্য রয়েছে। শিন্টো আর বৌদ্ধ। শিন্টো ধর্ম আসলে জাপানের প্রথাগত বা আচারনির্ভর ধর্ম। কিছু কিছু দলিলে খ্রিস্টের জন্মের ৬৬০ বছর পূর্বে শিন্টো ধর্ম উৎপত্তি লাভ করেছে বলে উল্লেখ আছে। যেখানে তারা মূলত তাদের পূর্বপুরুষ, প্রকৃতি (কামি) বা খোদার উপাসনা করে। আপনি জাপানের পথে পথে ছোট আকারের শিন্টো স্রাইন বা উপাসনালয় দেখতে পাবেন। যেখানে নেই কোন ভিড়। শান্ত নিস্তব্ধ পরিবেশ। তবে, ওরা নাকি বিশেষ করে পরীক্ষার আগে বা গাড়ি কেনার পর দুর্ঘটনা না হবার জন্য ঐখানে প্রার্থনা করতে যায়। আর ওদের প্রাত্যাহিক জীবনে ধর্মের তেমন কোন প্রভাব চোখে পড়ে না বললেই চলে। তারা তাতে আগ্রহীও না। এর মানে এই নয় যে তারা সবাই নাস্তিক, তারা আসলে ঐরকম ভাবে এই বিষয়টা নিয়ে মাথাই ঘামায় না। আমি আগেও বলেছি পূর্বপুরুষের উপাসনা বা সম্মানকে তারা অনেকটা ধার্মিক রুপ দিয়ে ফেলেছে। এমনি একটা সংস্কৃতি হল ওবোন। তারা বিশ্বাস করে এসময় তাদের পূর্বপুরুষরা পৃথিবীতে বেড়াতে আসে। সাথে করে ভালবাসাময় গরম নিয়ে আসে। তাই, অগাস্টের মাঝামাঝি সময়টা এত গরম থাকে। তাদেরকে পথ প্রদর্শনের জন্য দরজার বাইরে বাতি জ্বালানো হয়। খাবার পরিবেশন করা হয়। তাওফিক ভাই কি মনে করে যেন আমাদের মত ভুখা-ব্যাচেলর ছোটভাইদের বাসায় নিয়ে খাবার খাইয়েছে। ব্যাপারটা রহস্যজনক


জাপানিরা অন্য যা বিশ্বাস করে তা হল কামি। কামিরা স্বতন্ত্র ধরনের দেবতা নয়। তারা গাছের বৃদ্ধি, বৃষ্টি বা প্রকৃতির অন্যান্য দিকগুলি বা ঘটনার সাথে সংযুক্ত। এটি বিশ্বাস করা হয় যে, এই কামি প্রাকৃতিক জিনিসগুলিতে বাস করে। এক কথায় প্রকৃতির পূজা। এর জন্যই হয়ত তাদের জাতীয় বন্ধের দিনগুলার নাম সমুদ্র দিবস, পাহাড় দিবস ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো ছাড়া তাদের তেমন কোন ধর্মীয় বন্ধের দিন নেই। পুরো পৃথিবীতেই যখন বড়দিনের ছুটি থাকে, তখনও জাপানে ছুটি নেই।
তেমনি জাপানে যাপিত আমার দ্বিতীয় ঈদের দিনটিতেও কোন ছুটি ছিল না। মনে করেছিলাম প্রফেসরকে বলে ল্যাব থেকে ছুটি নিতে হবে। আমি গিয়ে বলতেই, উনি বললেন। “অবশ্যই, কোন সমস্যা নেই। তবে তুমি আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছ? তুমি নিজেই তোমার শিডিউল ম্যানেজ করবে। আমি কি জানি।” অর্থাৎ কোন নিয়ম নেই, কিন্তু দিনশেষে আমাকেই কাজের জন্য রেস্পন্সিবল হতে হবে। উনার কাজ শুধু আমাকে পর্যবেক্ষণ করা... ফলস্বরূপ এখন মাঝে মাঝে ভোর হয়ে যায় বাসায় ফিরতে ফিরতে ☹।কোন নির্দেশ ছাড়াই।
তো, এবার ঈদে পার্কে ঈদের জামাত পড়ার অনুমতি ছিল। তারপর ল্যাবেই ছিলাম বেশীরভাগ সময়। বিকেলে ল্যাবমেটদের সেমাই রান্না করে খাইয়েছি। পরদিন ছিল বাংলাদেশের ঈদ আর আমাদের ছুটি। আমরাও প্ল্যান করে বেরিয়ে পড়েছিলাম ঘুরতে। প্রথমে তাকিনো সুযুরান হিলসাইড পার্ক। ঐখানে খাওয়া-দাওয়া করে, বিকেলের জম্পেশ আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যায় গিয়েছিলাম সেই আসাহিয়ামা মেমোরিয়াল পার্কে। রাতের সাপ্পরো দেখতে। সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে ঈদের স্পেশাল চটপটি আর সেমাই খেয়েছি।
অন্য আরেকদিন গিয়েছিলাম অনেকটা দূরের চেরি বাগানে। এন্ট্রি-ফি দিকে ঢুকতেই ওরা হাতে বাস্কেট ধরিয়ে দেয়। যত ইচ্ছে নিজ হাতে পেড়ে খাও। শুধু নিয়ে আসা যাবে না। আমরা অবশ্য চেরি খেয়ে শেষটায় স্ট্রবেরিতে মনোনিবেশ করেছিলাম। বিকেলটায় কাটিয়েছি ক্যাল্ডেরা পার্কে খাওয়াদাওয়া আর আড্ডা দিয়ে।
এভাবেই কেটে যাচ্ছে এই গ্রীষ্মকালটা... গরমটা যেন বাংলাদেশের নভেম্বরের শীত... শুধু অন্য সময়ের মত কনফারেন্সগুলো বন্ধ। করোনার মানা..

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪৮
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×