somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোন আক্ষেপের জ্বালা মেটাচ্ছে মিডিয়া, সরকার, প্রতিদ্বন্দ্বীরা? কিসের শত্রুতা জবির সাথে?

২০ শে নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিচ্ছিন্ন এক ঘটনায় ঘটে যাওয়া বিশ্বজিৎ হত্যা নিয়ে মিডিয়ার তুলকালাম কাণ্ড বাধানো, শান্তিপূর্ণ ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনকে খাটো করা, সদাসর্বদা এই দেহে ছোট মানে সুবিশাল ক্যাম্পাসকে হেয় করা-ই প্রমান করে দেয় জবির আজকের দুরাবস্থার পেছনে আছে রাঘব বোয়ালদের হাত। বলতে পারেন কিভাবে একটি হত্যাকাণ্ড যেটা সবার সামনে ঘটে সেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়। আসলেই কি বিচ্ছিন্ন নয়? এইতো সেদিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক দিনে দুপুরে খুন হলেন, শুধু তিনিই নন, এই একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে মাত্র ১৪ বছর পার না হতেই রাবিতে ৩জন শিক্ষক খুনের ঘটনা ঘটেছে। রয়েছে আরও খুনের ঘটনা। ২০০২ সাল- ছাত্রফ্রন্ট নেতা সুশান্তকে প্রকাশ্য দিবালকে খুন, ২০০৪ সাল- অধ্যাপক মোঃ ইউনুসকে ফজরের নামাজ পড়তে যাবার সময় কুপিয়ে হত্যা, ২০০৬- রাবির ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবু তাহেরকে হত্যা। ২০১০-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক
হোসেনকে হত্যা করে ম্যানহোলের মধ্যে ফেলে রাখে।

এবার আসি দেশের সর্বচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাবির দিকে।
২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী একুশে বই
মেলা থেকে ঘরে ফেরার পথে ডঃ হুমায়ুন আযাদের উপর
বর্বরোচিত হামলা চালায়। তাঁর মত একজন শিক্ষকের উপর তাঁরই ক্যাম্পাসে হামলা সত্যিই মানা যায় না।
২০০৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল ছাত্রদলের নেতা মাহাবুবুল ইসলাম খোকন।
২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ-পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নির্মমভাবে খুন হন নিরীহ ও মেধাবী ছাত্র আবু বকর।
এছাড়াও ঢাবিতে আরও নানান অঘটন নিয়মিতই ঘটছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, লুট, চুরি এমনকি পর্ণ ভিডিও ও বাদ নেই।

আসি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এখানে সবচে বড় যে ক্রাইম তা সবার জানা, আর তা হল ছাত্রছাত্রী লাঞ্ছনা যাকে ইংরেজিতে বলা হয়ে থাকে র‍্যাগিং। র‍্যাগিং এর অর্থ কী আর কিভাবে করে তার কোনটাই ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ ছাত্রদের জানা আছে বলে মনে হয় না। এখানে না কেউ দেখে যে ইনি নারী না পুরুষ না দেখে নারীর সাথে কিভাবে, পুরুষের সাথে কিভাবে বা শিক্ষকের সাথে কিভাবে আচরন করে। এসব ছাড়াও খুনের ঘটনাও কম ঘটেনি। ৮ জানুয়ারি ২০১০ ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ খুন হয়।

চবির অবস্থাও খুব ভাল নয়। কিছুই বলার নেই, শুধুমাত্র ২০১০সালেই ৬জন খুন হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা তো ডাল ভাত।

এ গেল কেবল এই শতাব্দীর কিছু ঘটনা মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের। এছাড়াও নিয়মিতই ঘটছে নানান ঘটনা। সেখানে বাদ নেই চুরি ছিনতাইয়ের মত নিকৃষ্ট ঘটনাও। সেই তুলনায় জবির এই খুদ্র ক্যাম্পাসে বৃহৎ কর্মকাণ্ডেও তেমন কোন ঘটনাই ঘটে না। তবুও মিডিয়া ও সরকার একত্রে এই এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বাসের দুর্গন্ধের ও ছাড় দেয় না, কেন?

এছাড়াও অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪০ বছরে দেশের চারটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন সব মিলিয়ে ১২৯ জন ছাত্র। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়জন ছাত্র মারা যান।(১৮-০৩-২০১২ পর্যন্ত)

শিক্ষকও কিন্তু কম খুন হয়নি ঐসব ক্যাম্পাসে। তবে কেন শুধুই জগন্নাথকে সন্ত্রাসী বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়ে থাকে? এর ভেতর কোন রহস্য লুকিয়ে আছে? কারা আছে এর পেছনে? মিডিয়া? সরকার? নাকি আর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্ববিদ্যালয়?
ছাত্রছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থা নেই, নেই শিক্ষকদেরও। পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, যানবাহন নেই পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষকদের, নেই পর্যাপ্ত শ্রেনি কক্ষ, নেই সরকারের সুদৃষ্টি। সবকিছুতেই অভাব এখানে। কিন্তু এতো অভাবের ভিড়ে ভাল ছাত্রছাত্রীর কিন্তু কোন অভাব নেই। এটিই আমাদের এগিয়ে যাবার সহায়ক বার্তা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৫৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীকে ধন্যবাদ। তিনি একটি ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জন্মদিন উপলক্ষে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এই খবর প্রচার হওয়ার পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×