কারো প্রতি সহানুভূতি দেখানো মানেই তাকে আমার দেশে জায়গা দিতে হবে বা জায়গা দিয়ে দিলাম এটা ভাবা খুবই দুর্বল চিন্তা ছাড়া কিছুই না। শেখ হাসিনা এক জন যথেষ্ট দুরদর্শী রাস্ট্র নায়ক আপনার দরদ ভরা স্ট্যাটাস দেখে আপ্লূত হয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেবেন না ।
প্রধান মন্ত্রী সীমান্ত খুলে দিতে পারেন সেই ভয়ে নিপিড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চলছে জোরে-সরে যা খুবই হাস্য কর । মানুষ হিসেবে তাদের বেচে থাকার কোন প্রকার সুযোগ আছে কিনা তা তাদের ভাবনায় আসে না।
বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে আমরা কোন প্রকারে রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারি না । তাছাড়া যে পরিমান রোহিঙ্গা আমাদের দেশে রয়েছে তাদের জ্বালায় আমরা অস্থির এটা শত ভাগ সত্য কিন্তু, মানবতার খাতিরে আমরা কি তাদের জন্য কিছুই করতে পারি না ?
আমাদের দেশে জায়গা না দিয়েও আমরা কিছু করতে পারি । আমরা এই জুলুমের বিরুদ্দে নিন্দা জানাতে পারি।
আমাদের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এখন আর দেশের ভিতর সীমাবদ্ধ নয় তিনি এখন বিশ্বনেত্রী তিনি চাইলে - বিষয়টির জাতিসংঘ, আমেরিকা, ইওরোপিয়ান ইউনিয়ন, অষ্ট্রেলিয়া, চায়না মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলিসহ উন্নত দেশগুলির সামনে তুলে ধরতে পারেন । এতে রোহিঙ্গা সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান হতে পারে ।
মিয়ানমারের আর্মি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের সিমানার দিকে ঠেলে দিচ্ছে যা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের সিমানার দিকে পুশইন করার চেষ্টা বন্ধের কথা বলতে পারে ।
দুক্ষজনক বিষয় হলো কিছু মানুষকে দেখছি তারা বিষয়টা এভাবে প্রচার করছে ---
১ । সৌদিরা ইয়ামেনের মুসলমানদের উপর ভয়াবহ জুলুম করছে এবং
পাকিস্তানি আর্মিরা বেলুচ মুসলমানদের উপর ভয়াবহ নির্যাতন করছে সুতরং মায়ানমারে মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালালে মানবাত বিরোধী হবে কেন ? পারলে আগে সৌদি আর পাকি বাবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর তার পর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এসো ।
আর সব চেয়ে বড় কথা রোহিঙ্গাদের নারী, শিশু, বৃদ্ধ সকলেই ইয়াবা ব্যাবসায় জড়িত । এতটাই জড়িত যে অবুজ, সরল এম.পি বদিকে ফুসলিছে তারই নির্বাচনি এলাকার ভোটার হয়েছে এবং তাকে ইয়াবা ব্যাবসায় যুক্ত করে কোটি টাকার মালিক বানিয়েছে ।
২। পাবনা -রামু -নাসির নগরে ভিন্ন ধর্মী ও সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হলে কোন মুসলমান তো নিন্দা জানাওনি কেদে বুক ভাসাওনি, ও মিয়ারা এখন কান্দো ক্যান ?
জ্ঞানি গুনি বড়দাদের বলছি মিয়ানমারের এখন যা হচ্ছে তা কোন ধর্ম যুদ্ধ নয় ।
বার্মার রাখাইন প্রদেশে যে-সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠী সেখানকার সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ রাখাইনের হাতে গণহত্যা-সহ বিভিন্ন ধরণের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, তাঁরা ‘রোহিঙ্গা’ আত্মপরিচয় দাবী করছেন। কিন্তু বার্মা-সমাজের প্রধান স্রোতধারার মানুষ ও সরকার তাঁদের এই আত্মপরিচয় মানছেন না। বলা হচ্ছে, ওরা বাঙালী।
একই অঞ্চলে বাস করার পরও কামান জনজাতির মুসলমানগণ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হলেও রোহিঙ্গা জনজাতির মুসলমানেরা স্বীকৃত নয় । সুতরং মিয়ানমারে সকল মুসলমানের উপর নির্যাতন, জুলুম হচ্ছে না । সোজা কথা মুসলমান হিসাবে তাদের উপর কোন ম্যাসাকার হচ্ছে না যা হচ্ছে তা হলো বাঙালী হিসেবে ।
মিয়ানমারে বাঙালীদের অভিবাসনের ইতিহাস বলে সেখানে শুধু মুসলমানরাই না বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যেতে বাদ্ধ হয়েছিলো ।
মুসলমান হিসেবে নয়, রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে জায়গা না দিয়েও বাঙালী হিসেবে আমি তাদের প্রতি গণহত্যা-সহ বিভিন্ন ধরণের নিপীড়নের নিন্দা জানাই ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৯:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



