ধর-ধর শালার চোখ তুলে দে যেন গাড়ি চালাতে রাস্তায় না আসে, আসলে যেন ভিক্ষা করতে আসে । দুই দিন আগে দেখেছি ভ্যান চালাতে আর এখন পিকআপ ড্রাইভার হয়ে গেছে । দে দে শালার চোখ তুলে দে। জ্ঞান হারানোর ভং ধরে পড়ে আছে শালার কিছুই হয়নি ।
আস্তে আস্তে উঠে বসলেন মতিন সাহেব চোখ মেলেই সামনে তার প্রিয় টয়োটা এলিয়ন গাড়িটি দেখতে পেলেন । সামনের ডান পাশের অংশটার উপর একটা লোডেড পিকআপ উঠে আছে, বুকের ভেতরটা যেন মুচড়ে উঠলো কারন নতুন গাড়িটা দু'মাসও হয়নি কিনেছে ।
রাগে-ক্রোধে সামনেই পড়ে থাকা অচেতন দেহটির দিকে এগিয়ে গেলো মতিন সাহেব। আজ নিজের হাতেই তোর চোখ তুলে নেব তোর ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করবো । কাছে যেতেই থমকে যায় মতিন সাহেব, মুখটা তার খুবই চেনা-চেনা মনে হয়! হ্যা গত সপ্তাহেই তো অফিসের সামনের ফটোকপির দোকানি মনির সাহেব এই লোকটিকেই নিয়ে এসেছিলো ড্রাইভিং লাইসেন্স করাতে, ফটোকপির দোকান হল সাইন বোর্ড, সে আসলে BRTA এর দালালী করে । স্যার এই হলো আক্কাস ওর লাইসেন্স করিয়ে দিতে হবে আর ও কোন পরীক্ষা দিতে আসতে পারবে না, কারন ওর প্রতিদিনই ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতে হয় ।
আরে মনির সাহেব এত দিন ধরে কাজ করছি- কারো কি চোখের পরীক্ষা, সাধারণ জ্ঞান বা জিক-জাক ড্রাইভিং পরীক্ষার প্রয়োজন পড়েছে ! শুধু গরু ছাগল চিনতে পারলেই হলো । জানেন না- মতিন ভূইয়াঁ এক কথার মানুষ, আপনি শুধু খেয়াল রাখবেন আমার রেটটা যেন ঠিক থাকে। লার্নার পেপার দিয়ে দিচ্ছি গাড়ি চালাতে থাক লাইসেন্স আসলে জানিয়ে দেব ।
সে দিনের কথা ভাবতে ভাবতে মতিন সাহেব আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আর মনে মনে আওড়াতে থাকে কুত্তার বাচ্চা তোকে সেই দিন কত উপকার করলাম বিনা পরীক্ষায় তোর সব কাগজ পত্রে সই করে দিলাম আর তুই আমার গাড়িটাই ভেঙ্গে দিলি !!
মুঠ পাকিয়ে মতিন সাহেব আক্কাসের টুটি চেপে ধরতে যায় কিন্তু মতিন সাহেবের হাত ফসকে যায় সে আক্কাসকে ধরতে পারে না। উদভ্রান্তের মত এদিক ওদিক তাকাতে থাকে মতিন সাহেব সে কি স্বপ্ন দেখছে ? দেখতে পায় আঘাতে থেতলে যাওয়া তারই দেহ লোক-জন ধরা-ধরি করে পিকআপ ড্রাইভার আক্কাসের পাশে এনে শুইয়ে রাখছে ।
মতিন সাহেব বুঝতে পারলেন কোন বস্তু বা সত্তার প্রতি মায়া, রাগ, ক্ষোভ, ঘৃনা চরিতার্থ করার দিন তার ফুরিয়েছে এখন তিনি সব কিছুর উর্দ্ধে .....
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



