
ব্লগার সাদা মনের মানুষ পুরো নাম কামাল উদ্দিন

সারা জীবন অন্যের ছবি, প্রকৃতির ছবি, পাহাড়-পর্বতের ছবি, নদী-নালার ছবি, গ্রামের ছবি, জীব জন্তুর ছবি, দেশ-বিদেশের ছবি তুলে সবসময় ব্লগে প্রকাশ করে ব্লগ মাতিয়ে রাখলেও নিজের ছবি খুব একটা ব্লগে প্রকাশ করেন না।

ভ্রমণে তিনি জলছবি বাতায়ন থেকে পুরুষ্কার পেয়েছেন।

ঘুরে বেড়ানো এবং ছবি তোলা যার ছোট থেকেই নেশা তবে পেশা নয়। এই ছবি তোলা এবং ঘুরে বেড়ানোর পিছনে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেন।

সদালাপি হাস্যরসে সবসময় থাকেন।

ইনিও ব্লগার। নিজের বইয়ের দোকানে বসে দুইজনে আড্ডা দিচ্ছেন।

দুইজনের পিছনেই সাজানা সারি সারি বই।

ট্রেনে উঠার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন।

কনচেন দেহি এই স্টেশনটা কোন দেশে?

সাদা মনের মানুষটির ভ্রমণ এবং ছবি তোলা নেশা হলেও সৌখিনও বটে। ডাইনিং টেবিলের নিচে মোটা কালো রংয়ের বস্তুটি ফার্নিচারের অংশ নয় এটি একটি বিড়াল। ফার্নিচারের রংয়ের সাথে রং মিলিয়ে তার সখের কালো বিড়াল। এখন মাথার মধ্যে একটি প্রশ্ন আসে বিড়ালের রং দেখে ফার্নিচার রং করেছে না ফার্নিচারের রংয়ের সাথে ম্যাচ করে বিড়াল পালন করছে?

বিড়ালের এরকম জ্বল জ্বল করে জ্বলে উঠা চোখ দেখলে যে কেউ অন্ধকারে ভয়ে আৎকা চিৎকার দিয়ে উঠে। যে কারণে ভুতের গল্পের সাথে বিড়ালের কাহিনী জড়িত।

সৌখিন লোক। নিজের ড্রয়িং রুমটি কি সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো গুছানো।

খালি ঘুরে বেড়ালে তো হবে না কিছু তো করে খেতে হবে। তা না হলে ভ্রমণের এত টাকা আসবে কোথা থেকে। রড সিমেন্টের বিশাল দোকানে স্তুপীকৃত রাখা সিমেন্টের একাংশ।

এই মোবাইলের দোকানটিও তার। রড সিমেন্টের পাশাপাশি অল্প কিছু দিন হলো এ ব্যাবসাটিও শুরু করেছেন।
ভার্চুয়াল থেকে রিয়েল ফ্রেন্ড হওয়ার গল্পটি এবার বলি।
ব্লগে রেজিষ্ট্রেশন করে যার তোলা হাজার হাজার ছবি দেখে মুগ্ধ হতাম তিনি হলেন এই সাদা মনের মানুষ। ছবিতে মন্তব্য করতে করতেই ভুর্চুয়াল বন্ধুত্বে পরিণত। এরপর একদিন মন্তব্য করতে গিয়ে মোবাইল নাম্বার চেয়ে বসলাম। সাথে সাথেই দিয়ে দিলেন। মোবাইল নাম্বার পেয়ে টেলিফোনে আলাপ আলাপে ঘনিষ্ঠতা। এরপর ঢাকার বায়তুল মোকাররমে ক্যামেরা কিনতে এলে দেখা। ঐ দেখাতেই আমীর হোসেনসহ তিনজনে হাঁটতে হাঁটতে বায়তুল মোকাররম থেকে কারওয়ান বাজার প্রথম আলো অফিস। সেখানে গিয়ে আড্ডা। ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব থেকে কি ভাবে যে দুই জনের মধ্যে এত ঘনিষ্ঠতা হলো বুঝতেই পেলাম।
গত মাসে জলছবি বাতায়ন থেকে তাকে ভ্রমণের জন্য পুরুস্কৃত করা হয়। ছড়ায় পুরুস্কার আমিও পেয়েছি। আমার পুরুষ্কার গ্রহণ করার সময় জলছবির সম্পাদক নাসির উদ্দিন কাবুল ভাই বললেন প্রমানিক ভাই, আপনার পুরুষ্কার তো দিলাম কিন্তু সাদা মনের মানুষের পুরুষ্কারটা কি ভাবে পৌঁছাই? আমি সাথে সাথে তার কাছে ফোন দিয়ে ইয়ার্কি করে বললাম, কামাল ভাই আপনার পুরুষ্কার ঢাকায় এসে নিবেন না আমরা গিয়ে দিয়ে আসবো। ইয়ার্কি করে দিয়ে আসার কথা বললাম না ফেঁসে গেলাম। সাথে সাথেই উনি বললেন, আমি আর যাবো না আপনারা কবে আসবেন সেই ডেটটা আমাকে দেন। কোনভাবেই তাকে আর ঢাকায় আসতে রাজি করাতে পারলাম না। শেষ পর্যন্ত আমাকে গত আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি মঙ্গলবারে তার বাড়িতে যেতে হলো। আমি যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর ফোন করে আমার অবস্থান জেনেছেন আমি কোথায় আছি। আমি বাস স্টেশনে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি বাস স্টেশনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি তার বাসায় যাওয়ার পর কমাল ভাই, ভাবী এবং তার বাচ্চারা আমাকে কি পরিমাণ আদর আপ্যায়ন করেছে সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। খাওয়ার টেবিলে তিনি যে পরিমাণ খাওয়ার আয়োজন করেছিলেন তা একটু একটু করে খাওয়ার পরও সব আইটেম শেষ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় নাই। আমি সারা জীবনেও তাদের এই আপ্যায়নের কথা ভুলতে পারবো না।
শুধু আতিথেয়তা করেই ক্ষান্ত হলেন না তিনি আমাকে বিকালে হলিডে ড্রিম পার্কে নিয়ে গেলেন। টিকিট কাটা ঘুরে বেড়ানোর সব খরচই তিনি বহন করলেন। আমাকে পকেটে হাত দিতেই দিলেন না। আমি তার বন্ধুত্বে মুগ্ধ।
পরিশেষে শুধু এটাই বলতে চাই ভার্চুয়াল জগৎ থেকে আমার এবং কামাল ভাইয়ের মধ্যে যে ভাবে রিয়েল বন্ধুত্ব শুরু হয়েছে ভার্চুয়াল জগতের সবার মধ্যেই এমন বন্ধুত্ব শুরু হোক বিধাতার কাছে এই কামনা করি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



