somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভার্চুয়াল থেকে রিয়েল ফ্রেন্ড (ব্লগার সাদা মনের মানুষ)

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ব্লগার সাদা মনের মানুষ পুরো নাম কামাল উদ্দিন


সারা জীবন অন্যের ছবি, প্রকৃতির ছবি, পাহাড়-পর্বতের ছবি, নদী-নালার ছবি, গ্রামের ছবি, জীব জন্তুর ছবি, দেশ-বিদেশের ছবি তুলে সবসময় ব্লগে প্রকাশ করে ব্লগ মাতিয়ে রাখলেও নিজের ছবি খুব একটা ব্লগে প্রকাশ করেন না।


ভ্রমণে তিনি জলছবি বাতায়ন থেকে পুরুষ্কার পেয়েছেন।


ঘুরে বেড়ানো এবং ছবি তোলা যার ছোট থেকেই নেশা তবে পেশা নয়। এই ছবি তোলা এবং ঘুরে বেড়ানোর পিছনে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেন।


সদালাপি হাস্যরসে সবসময় থাকেন।


ইনিও ব্লগার। নিজের বইয়ের দোকানে বসে দুইজনে আড্ডা দিচ্ছেন।


দুইজনের পিছনেই সাজানা সারি সারি বই।


ট্রেনে উঠার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন।


কনচেন দেহি এই স্টেশনটা কোন দেশে?


সাদা মনের মানুষটির ভ্রমণ এবং ছবি তোলা নেশা হলেও সৌখিনও বটে। ডাইনিং টেবিলের নিচে মোটা কালো রংয়ের বস্তুটি ফার্নিচারের অংশ নয় এটি একটি বিড়াল। ফার্নিচারের রংয়ের সাথে রং মিলিয়ে তার সখের কালো বিড়াল। এখন মাথার মধ্যে একটি প্রশ্ন আসে বিড়ালের রং দেখে ফার্নিচার রং করেছে না ফার্নিচারের রংয়ের সাথে ম্যাচ করে বিড়াল পালন করছে?


বিড়ালের এরকম জ্বল জ্বল করে জ্বলে উঠা চোখ দেখলে যে কেউ অন্ধকারে ভয়ে আৎকা চিৎকার দিয়ে উঠে। যে কারণে ভুতের গল্পের সাথে বিড়ালের কাহিনী জড়িত।


সৌখিন লোক। নিজের ড্রয়িং রুমটি কি সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো গুছানো।


খালি ঘুরে বেড়ালে তো হবে না কিছু তো করে খেতে হবে। তা না হলে ভ্রমণের এত টাকা আসবে কোথা থেকে। রড সিমেন্টের বিশাল দোকানে স্তুপীকৃত রাখা সিমেন্টের একাংশ।


এই মোবাইলের দোকানটিও তার। রড সিমেন্টের পাশাপাশি অল্প কিছু দিন হলো এ ব্যাবসাটিও শুরু করেছেন।

ভার্চুয়াল থেকে রিয়েল ফ্রেন্ড হওয়ার গল্পটি এবার বলি।
ব্লগে রেজিষ্ট্রেশন করে যার তোলা হাজার হাজার ছবি দেখে মুগ্ধ হতাম তিনি হলেন এই সাদা মনের মানুষ। ছবিতে মন্তব্য করতে করতেই ভুর্চুয়াল বন্ধুত্বে পরিণত। এরপর একদিন মন্তব্য করতে গিয়ে মোবাইল নাম্বার চেয়ে বসলাম। সাথে সাথেই দিয়ে দিলেন। মোবাইল নাম্বার পেয়ে টেলিফোনে আলাপ আলাপে ঘনিষ্ঠতা। এরপর ঢাকার বায়তুল মোকাররমে ক্যামেরা কিনতে এলে দেখা। ঐ দেখাতেই আমীর হোসেনসহ তিনজনে হাঁটতে হাঁটতে বায়তুল মোকাররম থেকে কারওয়ান বাজার প্রথম আলো অফিস। সেখানে গিয়ে আড্ডা। ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব থেকে কি ভাবে যে দুই জনের মধ্যে এত ঘনিষ্ঠতা হলো বুঝতেই পেলাম।
গত মাসে জলছবি বাতায়ন থেকে তাকে ভ্রমণের জন্য পুরুস্কৃত করা হয়। ছড়ায় পুরুস্কার আমিও পেয়েছি। আমার পুরুষ্কার গ্রহণ করার সময় জলছবির সম্পাদক নাসির উদ্দিন কাবুল ভাই বললেন প্রমানিক ভাই, আপনার পুরুষ্কার তো দিলাম কিন্তু সাদা মনের মানুষের পুরুষ্কারটা কি ভাবে পৌঁছাই? আমি সাথে সাথে তার কাছে ফোন দিয়ে ইয়ার্কি করে বললাম, কামাল ভাই আপনার পুরুষ্কার ঢাকায় এসে নিবেন না আমরা গিয়ে দিয়ে আসবো। ইয়ার্কি করে দিয়ে আসার কথা বললাম না ফেঁসে গেলাম। সাথে সাথেই উনি বললেন, আমি আর যাবো না আপনারা কবে আসবেন সেই ডেটটা আমাকে দেন। কোনভাবেই তাকে আর ঢাকায় আসতে রাজি করাতে পারলাম না। শেষ পর্যন্ত আমাকে গত আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি মঙ্গলবারে তার বাড়িতে যেতে হলো। আমি যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর ফোন করে আমার অবস্থান জেনেছেন আমি কোথায় আছি। আমি বাস স্টেশনে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি বাস স্টেশনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি তার বাসায় যাওয়ার পর কমাল ভাই, ভাবী এবং তার বাচ্চারা আমাকে কি পরিমাণ আদর আপ্যায়ন করেছে সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। খাওয়ার টেবিলে তিনি যে পরিমাণ খাওয়ার আয়োজন করেছিলেন তা একটু একটু করে খাওয়ার পরও সব আইটেম শেষ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় নাই। আমি সারা জীবনেও তাদের এই আপ্যায়নের কথা ভুলতে পারবো না।
শুধু আতিথেয়তা করেই ক্ষান্ত হলেন না তিনি আমাকে বিকালে হলিডে ড্রিম পার্কে নিয়ে গেলেন। টিকিট কাটা ঘুরে বেড়ানোর সব খরচই তিনি বহন করলেন। আমাকে পকেটে হাত দিতেই দিলেন না। আমি তার বন্ধুত্বে মুগ্ধ।
পরিশেষে শুধু এটাই বলতে চাই ভার্চুয়াল জগৎ থেকে আমার এবং কামাল ভাইয়ের মধ্যে যে ভাবে রিয়েল বন্ধুত্ব শুরু হয়েছে ভার্চুয়াল জগতের সবার মধ্যেই এমন বন্ধুত্ব শুরু হোক বিধাতার কাছে এই কামনা করি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৫০
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: বাহাদুর পাকিদের আসল চেহারা (রিপোস্ট)

লিখেছেন অর্ক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×