somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলিশের নির্মম নির্যাতন মিজান দাঁড়াতেই পারছেন না, জামিন হয়নি

২৩ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান সরকার ও তাদের দোসর পুলিশ বাহিনীর নির্মম কর্মকান্ড বিবেকবান মানুষকে আহত করছে প্রতিনিয়ত। পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়ে মারা যাচ্ছে অহরহ। তাতেই আমারা ধিক্কার জানাতে জানাতে হাফিয়ে উঠেছি, তার উপর আবার যোগ হয়েছে বাকশালী পুলিশের রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাস। একজন নিরপরাধ সাংবাদিকের উপর যেভাবে নির্যাতন চালিয়ে পুলিশ তার নিন্দা জানানোর সঠিক ভাষা আমার অন্তত জানা নেই। কোন বিশেষণই যথেষ্ঠ নয় ওই বেহায়া পুলিশদের জন্য। এলজ্জা শুধু পুলিশের নয়, এ লজ্জা হাসিনারও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি এসব পুলিশদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারবেন? ঘটনাটি ব্লগের সচেতন পাঠকদের জন্য প্রথম আলো অন লাইন থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো।

সঙিন অবস্থায় আদালতে সাংবাদিক মিজানুর রহমান l দাঁড়ানোর শক্তি নেই, হাঁটা তো পরের কথা। চোখে-মুখে তীব্র যন্ত্রণার ছাপ। কাঠগড়ার মেঝেতে বসে পড়া সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে দেখতে চাইলেন বিচারক। কিন্তু উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না তিনি। বিচারক আইনজীবীদের বললেন, ‘আপনারা তাঁকে ধরে ওঠান’। দুই-তিনজন আইনজীবী মিজানকে ধরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করলে তিনি আর্তনাদ করে ওঠেন। এরপর গায়ের জামা খুলে বিচারককে পুলিশি নির্যাতনের চিহ্ন দেখানো হয়। আদালতে উপস্থিত সবাই এ দৃশ্য দেখে হতভম্ব।
অবশ্য আদালত দুই পক্ষের শুনানি শেষে মিজানের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠান। আর তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য জেল সুপারকে আদেশ দেন।
পুলিশকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৭ মার্চ রাতে প্রথম আলোর বাউফল প্রতিনিধি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে থানায় নিয়ে রাতভর নির্যাতন করা হয়। পরদিন পাঠানো হয় কারাগারে।
গতকাল রোববার ছিল তাঁর জামিনের শুনানির দিন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মিজানকে আদালতে নেওয়া হয়। প্রথমে তাঁকে হাজতখানায় রাখা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে কাউকে কথা বলা বা দেখা করতে দেওয়া হয়নি। হাজতখানার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান, ওপরের আদেশ আছে, মিজানের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া যাবে না।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পটুয়াখালীর বিচারিক হাকিম এ এস এম তারিক শামস এজলাসে ওঠেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হাজতখানা থেকে মিজানকে আদালতকক্ষে নেওয়া হয়। এ সময় তিনি দাঁড়াতে ও হাঁটতে পারছিলেন না। পুলিশের দুই সদস্য তাঁকে দুই পাশ থেকে ধরে কিছু পথ চ্যাংদোলা করে আর কিছু পথ টেনেহিঁচড়ে আদালতকক্ষে নিয়ে যান।
জানতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বলেন, মিজান স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে পারছেন না। এ কারণে তাঁকে এভাবে আনা হচ্ছে।
আদালতকক্ষে সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় ছিল। বিচারক এজলাসে এসেই আইনজীবী ছাড়া সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন। সবাই বের হয়ে গেলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।
আদালতে পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল খালেক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, এই মামলায় আসামি মিজানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল রাস্তার ওপর, সেখানে যানজটের সৃষ্টি হয়। এরপর এজাহারকারী হালিম অন্য একটি মোটরবাইকের চালককে গাড়ি সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে বলেন, এ সময় মিজান গিয়ে হালিমকে মাথায় ঘুষি মারেন। পরে ফাঁড়ি থেকে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এতে প্রতীয়মান হয়, মামলাটি সৃজিত ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।
আইনজীবী লুৎফর রহমান আদালতকে বলেন, আসামি মিজান পুলিশকে মেরেছে, এ ধরনের কোনো চিকিৎসা সনদ আদালতে নেই। আসামি মিজানকে নির্যাতন করা হয়েছে, তার প্রমাণ মিজানের চিকিৎসাপত্র। তিনি পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দিয়েছেন, এমন কোনো বক্তব্য নেই। আসামি গুরুতর অসুস্থ, তাঁর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার আদালতকে বলেন, এ ঘটনার সময় এজাহারকারী হালিম দুটি ভাড়ায়চালিত মোটরবাইক নিয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে যাচ্ছিলেন। এজাহারকারী অন্য একটি বাইকের চালককে গাড়ি সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে বলেন। তখন মিজান পেছন থেকে এসে হালিমকে ঘুষি মারেন বলে দাবি করা হয়। মারধর করার একপর্যায়ে এজাহারকারী হালিম পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন করেন। ফাঁড়ির পুলিশ এসে তাঁকে ও মিজানকে থানায় নিয়ে যান। তাঁর প্রশ্ন, মামলায় ঘটনার সময় দেখানো হয়েছে সন্ধ্যা সাতটা পাঁচ মিনিট। মামলা করা হয়েছে, নয়টা ৩০ মিনিটে। আসামি মিজানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখানকার রেকর্ডে দেখা যায়, মিজানকে রাত সাড়ে আটটায় ভর্তি করা হয়। তাহলে এই সময়টুকু কোথায় ছিলেন। পুলিশ হেফাজতে, ওই সময় তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে। তার প্রমাণ তাঁর সারা শরীরে রয়েছে। বিজ্ঞ আদালত তা নিজেই দেখেছেন। তিনি উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে আদালতকে বলেন, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হলে তাঁর পরিবারের সদস্যকে জানাতে হবে। অথবা আটক ব্যক্তির পরিচিত ব্যক্তিকে জানাতে হবে। কিন্তু মিজানকে আটকের পর কাউকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি পুলিশ। আসামি মিজান পরিস্থিতির শিকার। তাই জামিন পেতে পারেন।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুলিশকে মারধর করেছে। আসামি যদি জামিন পায় তবে পুলিশ কীভাবে কাজ করবে?
শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে তাঁর চিকিৎসার আবেদন করা হলে আদালত পটুয়াখালী জেল সুপারকে কারাবিধি অনুযায়ী সুচিকিৎসার আদেশ দেন।
হাজতে নেওয়ার পথে মিজান সাংবাদিকদের বলেন, বাউফল থানার ওসি নরেশ চন্দ্র কর্মকার, সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান ও কালাইয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম তাঁকে নির্যাতন করেন। গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ সময় সবাই তাঁকে লাঠি ও বেত দিয়ে পেটান। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। নির্যাতনের আগে পিছমোড়া দিয়ে তাঁকে হাতকড়া পরানো হয়। তিনি আরও বলেন, মারধরে অসুস্থ হলে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল থেকে একজন চিকিৎসককে ডেকে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশ একবার তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু লোকজন দেখে ফিরে আসে।
মিজানকে এভাবে নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে পটুয়াখালীর মানুষ। জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পটুয়াখালীর সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা সাজানো মামলা প্রত্যাহার ও ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সকালে পটুয়াখালী প্রেসক্লাব আয়োজিত এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১:৩০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×