somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শামসুর রাহমানের প্রয়াণ-মিডিয়ার মানবতাহীন শ্রদ্ধা

১৭ ই আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যুগটাই মিডিয়ার। মিডিয়ার বদৌলতে সংবাদ পৌঁছে যায় ঝড়ের গতিতে---ভালো খবর, খারাপ খবর, আশার খবর, আশাভঙ্গের খবর...।

আজ মিডিয়া জানালো তিনি চলে গেছেন--আমাদের কবি শামসুর রাহমান অবশেষে চলে গেছেন...।

কাল নিশ্চয়ই সংবাদপত্র জুড়ে তাঁর খবর বিরাজ করবে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হবে তাঁকে নিয়ে অনুষ্ঠান। পুরো জাতি নিজেদের মত করে শ্রদ্ধা জানাবে প্রিয় কবির প্রতি, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর ঠিক পরের মুহুর্তে যা দেখলাম, তাকে শ্রদ্ধা নয়, প্রিয় কবির মৃত্যুর সংবাদ বিক্রির চেষ্টা মনে হলো!

লাইফ সাপোর্ট নিয়ে বেঁচে ছিলেন শেষ কটা দিন। তাই অনিচ্ছাতেও মোটামুটি সবাই অনেকটা প্রস্তুত হয়ে ছিলো দু:সংবাদটা শোনার জন্য। মিডিয়া বোধহয় আরো এক কাঠি এগিয়ে। সন্ধ্যা 6:45 এ কবির মৃত্যু, আমি 7 টায় টিভি খুলে দেখি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটের কোরিডোরে একটি টিভি চ্যানেল উপস্থিত। যেকোন মুহুর্তে যেকোন খবর সংগ্রহ করে তা পরিবেশন করাটা মিডিয়ার দায়িত্ব নি:সন্দেহে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এত সরল ছিলো না। ওই চ্যানেলের পক্ষ থেকে সরাসরি সমপ্রচার করা হচ্ছিলো কবি-পরিবারের শোক-মাতমের দৃশ্য! একজন কাঁদছেন, তার মুখের সামনে ক্লোজ করে ক্যামেরা ধরে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এক মহাবেকুব রিপোর্টার বা উপস্থাপক সারাক্ষন মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে খেলার ধারাবিবরণীর মত চিৎকার করে বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছিলো কেমন শোকে আচ্ছন্ন হয়ে আছেন তারা, মাঝে মাঝে ক্রন্দনরত কাউকে কাউকে জোরজারি করে ধরে এনে বলতে বাধ্য করছে কবি কেমন ছিলেন, তাঁর মৃত্যুতে ঐ ব্যক্তির মনের কি অবস্থা, তাঁর সাথে তার কি কি স্মৃতি আছে ইত্যাদি ইত্যাদি! ওই বেকুব উপস্থাপক এও বলছে ডাক্তাররা মানুষজনকে ওই করিডোরে ভিড় না করার জন্য অনুরোধ করেছে, কারন যেহেতু ওটা ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ওখানে আরো অনেক মূমূর্ষূ রোগী আছেন--এই জেনেও ঐ বেকুব চেচিয়ে চেচিয়ে ধারাবর্ণনা দিচ্ছে! শুধু ক্যামেরা থাকলে একটা কথা ছিলো, তাই বলে ধারাভাষ্য?!

আমি ভাবছি, একথা সবাই জানি যে শামসুর রাহমানের মত একজন কবি কেবল একজন ব্যক্তি নন, সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর ঠিকঠাক জানার অধিকার দেশের মানুষের আছে কিন্তু মৃত্যুর পরের অন্তত ক'টা মুহুর্ত কি তাঁর পরিবারের মানুষজন নীরবে কাঁদার অধিকার রাখেন না? অন্তত ওই মুহুর্তে তাদের দিয়ে তাদের শোকের কথা না বলালেই কি নয়? ঐ চরম শোকের মুহুর্তেও কি তাদেরকে আরো আঘাত দেবার কোন দরকার ছিলো?

কতখানি মানবিকতাবর্জিত হতে পারে এখানে মিডিয়া???
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ১১:১৫
৩৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সুখ

লিখেছেন সামিয়া, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে সুমনের, জিপিএ ৫ পেয়েছে জানার পর পুরো দিনটিই বদলে গিয়েছে ওর আনন্দে।যেন পৃথিবীর সব খুশির দরজা একসঙ্গে খুলে গেছে ওর জীবনে।
ছেলেটা ওর বাবা মায়ের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল: আমার বৈষয়িক ভাবনা

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৩০

এবার এসএসসিতে ৬ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। ২২৬ মাদ্রাসায় একজনও পাশ করতে পারেনি। স্কুল মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাশ করেনি, শতভাগ ফেল!

এ নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩



ভেষজ চায়ের সঙ্গে আমার অব্যাহত প্রেম!

জীবনে অনেক কিছুই শেষ করেছি- কিন্তু ভেষজ চায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি!
সবুজ চা, লেবু-আদা-তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ-লবঙ্গ, গোলমরিচ, পুদিনা-রোজেলা, জাফরান, জেসমিন থেকে শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×