
বেশ ক'বছর ধরেই চারিদিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বেশ হৈ হৈ রব চলছে। এ.আই. জেনারেটেড কন্টেন্ট নিয়ে বেশ মাতমাতি চলছে সবদিকে। কেউ ছবি তৈরী করছেন, কেউ ভিডিও আবার কেউ ক্রিয়েটিভ কাজেও এর ব্যবহার করছেন। পুরো বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচক ভাববে দেখলেও নিরবে এটা কম্পিউটার বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে ফেলেছে। অবশ্য সেটা নিয়ে খুব বেশী মাতামাতি দেখা যাচ্ছে না। যারা নতুন কম্পিউটার বিল্ড করতে চাচ্ছেন বা করছেন অথবা যারা তাদের বর্তমান কম্পিউটারটির কিছুটা আপগ্রেড করতে চাচ্ছেন তাদের অনেকেই বেশ আর্থিক চাপ অনুভব করছেন পণ্যের দামে উর্ধ্বগতির জন্য। এ.আই. এর প্রভাবে বিশেষ করে দু'ধরনের মেমরির ব্যাপক চাহিদা তৈরী হয়েছে।
আদতে যেটা ঘটেছে বা ঘটছে সেটা হলো, এ.আই. ভিত্তিক কোম্পানীগুলো তাদের ডেটা সেন্টারে ব্যবহারের জন্য মেমরী সংক্রান্ত কম্পিউটার এক্সেসরিজ যেমন সিস্টেম মেমরি ও গ্রাফিক্স মেমরি (DRAM) ও তথ্য ধারনের জন্য প্রচলিত এস.এস.ডি. ড্রাইভের (NAND) বিরাট বিরাট অগ্রিম অর্ডার দিয়ে রেখেছে মেমরি চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বিশ্বের বড় বড় মেমরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যেমন স্যামসাং, মাইক্রন, এস.কে. হাইনিক্স, কিয়ক্সিয়া, স্যানডিস্ক, ন্যানিয়া-র মত কোম্পানীগুলোর বেশীরভাগই তাদের উৎপাদন ক্ষমতার চেয়েও কোম্পানীভেদে ১০০-৫০০% বেশী অর্ডার পেয়েছে (সূত্র)। আর খুচরো ব্যবহারকারীদের সমস্যার শুরু এখানেই।
কোম্পানীগুলো তাদের কর্পোরেট ক্লায়েন্ট এর চাহিদা পূরণে এতটাই ব্যস্ত যে খুচরা বাজারের দিকে তারা এখন আর ততটা দৃষ্টিপাত করতে পারেছে না। ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এটাই স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত। কারন তাদের এ.আই. ভিত্তিক কর্পোরেট ক্লায়েন্টগুলোর অর্ডার কয়েক বিলিয়ন ডলারেরও উপরে, সুতরাং তাদের ব্যস্ততাটাও ওদিকেই। তবুও বাজারে যে খুচরো পন্য আসছে না তাও নয়, তবে যা আসছে তার দামও অতীতের দামের তুলনায় ৫-৮ গুণ বেশী চড়া। এতে বিপাকে পড়েছেন, সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা। আর সহসাই এর কোন সমাধানও দেখা যাচ্ছে না।
একটা উদাহরণ দিচ্ছি। গত বছরের প্রথম দিকে আমি একটি নতুন কম্পিউটার বিল্ড করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশে যাওয়ার সময় কম্পিউটারটি সাথে করে নিয়ে যাওয়া যাতে দেশে গিয়ে এটা ব্যবহার করতে পারি। ঐ বিল্ডে ৩২ গি.বা. এর যে মেমরি কিনেছিলাম প্রায় ৯০ ডলার দিয়ে, তার বর্তমান বাজারমূল্য দেখাচ্ছে ৪৬৫ ডলার। কম্পিউটারটিতে ব্যবহারের জন্য মূল ১ টেরা বাইটের যে এস.এস.ডি. ড্রাইভটি ক্রয় করেছিলাম ৭৮ ডলারে তার বর্তমান বাজারমূল্য দেখাচ্ছে ২২৫ ডলার। মূল্য বৃদ্ধির এই প্রভাব পুরোনো যন্ত্রাংশেও পড়েছে। যেমন এই সংকটের আগে উৎপাদিত যে গ্রাফিক্স কার্ডটি ৪০০ ডলারের আশেপাশের দামে ক্রয় করা যেত তা এখন স্থানভেদে ৫৫০-৬০০ ডলারে গিয়ে পৌছেছে।
ধারনা করা হচ্ছে মেমরি সংক্রান্ত এইসব ডিভাসের দাম ২০২৭ সালের শেষ দিকেও কমার কোন সম্ভাবনা নেই। আমার ঢাকার বাসায় ও নিউ ইয়র্কের বেশ কয়েকটি ডেস্কটর ও ল্যাপটপ ব্যবহার হচ্ছে। সবগুলো পিসিতেই আমি ১৬-৩২ গি.বা. মেমরি আপগ্রেড করে রেখেছিলাম ২০২৫ সালের আগেই। সুতরা ওগুলো আগামী আরো ৩-৪ বছর ব্যবহার করা নিয়ে তেমন কোন সমস্যা দেখছি না। বিভিন্ন কারনে বেশ কিছু এস.এস.ডি-ও ক্রয় করেছিলাম যা এখনো মোটাদাগে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। ওগুলো হয়তো আমাকে আরো ৪-৫ বছর টেনে নিয়ে যাবে। তবে সবাই হয়তো অতটা সৌভাগ্যবান নন। বাজারের এই অস্থিরতা কাটানোর মত পরিস্থিতি কবে তৈরী হবে সেটাও কেউ পরিষ্কারভাবে বলতে পারছেন না। তবে মেমরি সংক্রান্ত পন্যের দাম যে আর পূর্বের পর্যায়ে আসবে না তা মোটামুটি নিশ্চিত।
সবার জন্য শুভ কামনা থাকছে। ধন্যবাদ।
ছবি কপিরাইট: সাইটেকডেইলি
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


