somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাক্কাস কোর্সঃ কিছু আনন্দ কিংবা বেদনার গল্প

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক ঝক্কি ঝামেলার পর ঈদ এর ছুটির পর বাড়ি থেকে হল এ ফিরল আনিস। ঈদ শেষ হল প্রায় ১০ দিন হোল কিন্তু বাস মালিকদের মনে হয় ঈদ এখনো শেষ হয় নি। এখনো বাস এ অন্য সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুন ভাড়া। তাই বাধ্য হয়ে ট্রেন এ পুরো পথ দাঁড়ীয়ে আসতে হয়েছে। ট্রেন থেকে নামার পর দেহ আর চলছিল না, তাই মন চাইছিল একটা সিএনজি ভাড়া করে হল পর্যন্ত চলে আসে। কিন্তু এই টুকুন পথ কেউ ২০০ টাকার কম এ যাবে না। কি আর করা, কষ্ট করে লোকাল বাস এ বাদুড়ঝোলা হয়ে হল পর্যন্ত আসা। হল এ আসার পর পরেই আনিস এর বন্ধু স্বপন এর আগমন। দোস্ত আমরা কিন্তু সামনের সপ্তাহেই সুন্দরবন যাবো।বাড়ি যাওয়ার আগে যে বললাম বাড়তি ৩০০০ টাকা করে আনতে, এনেছিস তো?না রে দোস্ত... আনিস এর কণ্ঠ দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। তুই তো জানোস আমার বাবা স্কুল শিক্ষক আর আমরা তিন ভাই বোনই বাইরে পড়াশোনা করি।ঈদ এ তো আর খরচ কম হল না, তাই আসার সময় টাকা চাওয়ার সাহস পাই নি। তোরে যাওয়ার সময় কি শিখাইয়া দিছিলাম? বললাম না তোর বাবাকে বলবি কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হতে হবে, এই জন্য ৩০০০ টাকা লাগবে। একেবারে যে বলিনি এমনটি নয়। একদিন রাতে খাওয়ার সময় কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম।সব শুনে বাবা বলল পরে করিস, এই মাসে টাকা হবে না। তুই কিছু বললি না? আমি আর কি বলব, বললাম ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে, পড়ার চাপ কম, এখন করে ফেললে ভাল হত।আচ্ছা, আর কি করা, তোরে অনেক বেশি মিস করব।


ইকবাল সাহেব যে তার বড় ছেলের আবদার ভুলে গেছেন এমনটি নয়। কিন্তু কি করবেন? ঈদ এ দুই মাসের বেতন আর বোনাস পেয়েছিলেন। কিন্তু ঈদ এর কেনাকাটা এবং ধার শোধ করে টাকা প্রায় শেষ এর দিকে, আগামী মাস কি ভাবে চলবেন আল্লাহ মালুম।কিন্তু ছেলের জন্যও খারাপ লাগছে। ছেলেটা তার কষ্ট বোঝে, তাই তার মানা সত্ত্বেও দুইটা টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ নিজেই চালায়। তিনি তার ঘনিস্ট বন্ধুদের কাছে ধার এর জন্য গিয়েছিলেন কিন্তু ঈদ শেষ এ কারও কাছেই টাকা নেই। তাই ছেলে যাওয়ার সময় টাকাটা দিতে পারেন নি। শেষ পর্যন্ত ইদ্রিস মিয়ার কাছে গিয়েছেন। তিনি দুই দিন পর আসতে বলেছেন। ইদ্রিস মিয়া সুদে টাকা ধার দেন। ৩০০০ টাকা তাকে এক মাস পর ৫০০ টাকা সুদ সহ জমা দিতে হবে।

তিন দিন পরের কথা। আনিস মন খারাপ করে শুয়ে আছে। বন্ধুরা সবাই সুন্দরবন যাচ্ছে, কিন্তু সে যেতে পারছে না। এমন সময় বাবার ফোন আসলো। জানালেন টাকা পাঠীয়ে দিয়েছেন। টাকা কাল পেয়ে যাবে। আনিসের মনটা খুশীতে ভরে উঠল। বন্ধুদের সবাইকে গিয়ে খবরটা দিলো।অনেকদিন পর সবাই মিলে সারারাত আড্ডা দিলো।

পরের দিন আনিস খুশী মনে টাকা তুলতে গেল। কিন্তু টাকাটা যখন হাতে পেলো তখন তার চোখ ছলছল করে উঠলো। কি করে সে পারলো তার বাবার সাথে প্রতারনা করতে?


বিশিষ্ট শিল্পপতি একরামুল খান এর একমাত্র ছেলে রাজিব। পড়াশোনা করছে ঢাকার একটি বিখ্যাত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এ। আজ তার গার্লফ্রেন্ড নিশির জন্মদিন। কয়েকদিন আগে ক্যাফে তে খাওয়ার সময় টিভি তে আইফোন ৫ এর অ্যাড দেখে নিশি খুব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলো। তাই রাজিব ওই দিনেয় ঠিক করল জন্মদিনে তাকে একটা আইফোন ৫ গিফট দিবে। সকালবেলা নাশতার টেবিল এ বাবার সাথে দেখা। বাবাকে গিয়ে বলল, বাবা আমার একটা কোর্সে ৫০০০০ টাকার মত লাগবে। একরামুল সাহেব অফিস এর ফাইল দেখায় ব্যাস্ত ছিলেন। মুখটা ফাইল থেকে না তুলেই বললেন, আমি ম্যানেজার কে বলে দিবো, তুমি টাকা নিয়ে নিয়ো।খুসিমনে রাজিব বেড়ীয়ে পড়ল।

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×