somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্মম বাস্তবতা

০২ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আনিস খুব মন দিয়ে পড়ছে। কাল তার বিসিএস এর চূড়ান্ত ভাইভা পরীক্ষা। গতবারও বিসিএস এ সে ভাইভা পর্যন্ত গিয়েছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরি হল না। তবে এইবার সে অনেক আশাবাদী। গতবারের চেয়ে এইবার লিখিত পরীক্ষা অনেক ভাল হয়েছে। তাছাড়া তার বন্ধু আরিফ এর মামা( সড়ক ও জনপথ বিভাগ এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর ) এর সাথে ও এই ব্যাপারে আলাপ হয়েছে। তিনি নিশ্চিন্তে ভাইভা দিতে বললেন। বাকিটা উনি দেখবেন।

আজ আনিস বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে। সকালে সে বিসিএস এর ভাইভা দিলো। ভাইভা তার অনেক ভালো হয়েছে। আরিফ এর মামা বিকেলে দেখা করতে বলল। মামা অনেক ব্যাস্ত, তিনি আনিস কে ওয়েটিং রুম এ বসতে বললেন। আনিস বসে বসে চিন্তা করছে, যাক শেষ পর্যন্ত চাকরিটা মনে হয় হয়েই যাবে। চাকরিটা তার আসলেই অনেক দরকার ছিল। কিছুক্ষণ পর আনিস এর ডাক পড়ল। আসো, তোমার ব্যাপারেই একটু আগে কথা হচ্ছিল, তোমার তো পরীক্ষা অনেক ভালো হয়েছে, আশা করি তোমার চাকরি হয়ে যাবে,তবে......। তবে কি মামা? তুমি তো বোঝো বর্তমানে চাকরি পাওয়া আর সোনার হরিণ পাওয়া একই কথা। তাই কিছু খরচ এর ব্যাপার ও আছে। তুমি এক কাজ কর, ৭ দিনের মধ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা জোগাড় কর। তোমার চাকরি নিশ্চিত হয়ে যাবে। আনিস এর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। কি বলবে ভেবে পেলো না। শেষ পর্যন্ত নিজের মনকে অনেক কষ্টে শান্ত করে বলল, মামা আমার বাবা একজন গরিব কৃষক। আমার জানা মতে আমাদের বসতবাড়ি আর সব জমি বিক্রি করলেও পাঁচ লক্ষ টাকা হবে না। ঠিক আসে, ৭ দিন তো সময় আছে। দেখো জোগাড় করতে পার কি না। আনিস আর কিছু বলল না, সালাম দিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে চলে আসলো।

ব্যাপারটা নিয়ে আনিস অনেক চিন্তা করল, সে আরবি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছে, ইংলিশ ও আরবি ভাষা তার ভালো জানা আছে। হাজি সাহেবের ছেলেকে সে পড়ায়। উনি দুই বছর হল travel agency এর ব্যাবসা খুলেছেন। মুলত হজ্জ এর সময় ই মানুষ সব চেয়ে বেশি আসে। তাই তিনি আনিস কে বলেছিলেন যে মক্কা এবং মদিনায় তার অফিস এ যেন সে যোগ দেয়। শুধু হজ্জ এর মৌসুম নয়, সার্বক্ষণিক ই একজন ভালো আরবি এবং ইংলিশ জানা লোক সৌদি আরবে থাকা দরকার। উনি প্রাথমিক অবস্থায় ২০০০ রিয়াল বেতন দিবেন বলেছেন, পরবর্তীতে ব্যাবসা বড় হলে বেতন ও আরও সুবিধা ও সে পাবে। আনিস চিন্তা করে দেখল, পড়াশোনা শেষ হল আজ প্রায় ২ বছর হল। এখনও একটা চাকরি পেলো না। সবাইকে ছেড়ে দেশের বাইরে যাওয়ার তার ইচ্ছা নেই। কিন্তু কি আর করা, সন্ধায় গিয়ে হাজি সাহেব কে হ্যাঁ বলে আসলো।
আজ ১০ বছর হল আনিস সৌদি আরবে আছে। সচ্ছলতাকে যদি সুখ বলা যায় তা হলে সে সুখেই আছে। আগের চেয়ে তার বেতন অনেক বেড়েছে। থাকার জন্য বাড়ি এবং সার্বক্ষণিক ব্যাবহারের জন্য ড্রাইভার সহ একটা গাড়ি ও সে পেয়েছে।বাবা মা অনেক ভালো আছেন। ভালো ছেলে দেখে বোনের বিয়ে দিয়েছে। ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে গত বছর চাকরীতে যোগ দিয়েছে। বছর পাঁচেক হল আনিস বিয়ে করেছে, তার একটি ছেলে ও আছে। সারাদিনের ব্যাস্ততা শেষে রাতে ফেসবুক এ ঢুকল। দেখল তার এক বন্ধু একটা লিঙ্ক শেয়ার দিয়েছে। আনিস ওই লিঙ্ক এ গিয়ে দেখে মেধা পাচার নিয়ে একটা প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে লিখা কি ভাবে আমাদের দেশ এর মেধাবি ছেলেরা ভালো টাকা এবং উন্নত জীবনের আশায় এই দেশ ছেড়ে অন্য দেশ এ পাড়ি জমাচ্ছে। তারা শুধু নিজের সুখের জন্য বাইরে যাচ্ছে। দেশ এর কথা চিন্তা করছে না। এইবার আনিস কমেন্ট গুলো পড়ল। তার বন্ধুর কমেন্ট এ আনিস এর চোখ গেলো। সে লিখেসে I HATE THOSE GUYS. আনিস কোন কমেন্ট দিলো না। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকলো। আসলেই কি আনিসরা অনেক ভালো আছে?
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×