হযরত আলী (রা) কোমায়লকে বললেন "হে কোমায়ল ! জ্ঞান ধন সম্পদ অপেক্ষা উত্তম। জ্ঞান তোমার হেফাযত করে, আর তুমি ধন সম্পদ হেফাজত কর। ধন ব্যয় করলে হ্রাস পায় আর জ্ঞান ব্যয় করলে বেড়ে যায়।
ফাতাহ মুসেলী বলেন: রোগীকে রোজ রোজ খাদ্য,পানীয় ও ঔষধপত্র কিছু না দিলে সে কি মরে যাবে না? লোকেরা বলল নিসন্দেহে মরে যাবে। তিনি বললেন আত্মার অবস্থায় তদ্রুপ। আত্মাকে তিনদিন এলেম ও জ্ঞান থেকে উপোস রাখলে সে মরে যায়।
তাঁর এ উক্তি যর্থাথ। কেননা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা হচ্ছে আত্মার খোরাক; এগুলোর মাধ্যমেই তার জীবন; যেমন দেহের খোরাক খাদ্য। যার জ্ঞান নাই তার অন্তর রুগ্ন। মৃত্যু তার জন্য অবশাম্ভাবী। কিন্তু সংশ্লিস্ট ব্যক্তি তার আত্মার রোগ ও মৃত্যুর খবর রাখেনা। দুনিয়ার মহব্বত ও কাজ কারবারে লেগে থাকার কারনে তার চেতনা লোপ পায়। যেমন ভয় ও নেশার আতিশায্যে জখমের ব্যাথা অনুভুত হয়না; যদিও বাস্তবে ব্যাথা থাকে।
কিন্তু মৃত্যু যখন দুনিয়ার বোঝা ও সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়, তখন সে আত্মার মৃত্যুর কথা জানতে পারে এবং পরিতাপ করে। অবশ্য তখন পরিতাপে কোন উপকার হয়না। ভীত ব্যক্তির ভয় অথবা মাতালের নেশা দুর হয়ে গেলে, ভয় ও নেশার অবস্থায় তার যেসব জখম লাগে, সেগুলো সে হাড়ে হাড়ে টের পেতে থাকে। সত্য উদ্ঘাটিত হওয়ার সেই দিনের ভয়াবহতা থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রথর্না করি।
কেননা মানুষ এখন ঘুমিয়ে আছে। মৃত্যু হলে জাগ্রত হবে।
সালেম ইবনে আবি জাদ বলেন: আমি ক্রীতদাস ছিলাম। প্রভু আমাকে তিনশ দিরহামের বিনিময়ে মুক্ত করে দিলে আমি কি কাজ শিখে জীবিকা নির্বাহ করবে সে সর্ম্পকে ভাবতে লাগলাম। অবশেষে জ্ঞানকে পেশা করে নিলাম। এরপর এক বছর অতীত না হতেই শহরের শাসক আমার সাথে সাক্ষাত করতে এলেন, আমি তাকে ফিরিয়ে দিলাম; কাছে আসতে দিলাম না।
- এহইয়াউ উলুমিদ্দীন থেকে
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৫:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


