somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিচ্ছু অবশিষ্ট নেই!!

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক মাস আগের কথা, করোনায় লকডাউন হলো ঢাকা শহর।
অপরিচিত এই নতুন শব্দ লকডাউন এর সাথে পরিচয় হলো মানুষের।
সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যার যার যায়গায় থেকে টের পেলো বিচিত্র এক বিপদের।
একটু একটু করে সবাই ক্ষতির সম্মুখীন হলো।

লকডাউন উঠে গেলেও তার রেশ রয়ে গেলো, এখনো সেই রেশ চলছে।
ধনীদের লস হলেও জীবন ধারণে তেমন ব্যাঘত ঘটলো না।

মধ্যবিত্তরা ব্যাপক বিপাকে পরলো। প্রথমে শখের জিনিস বাদ দিলো, পরে সঞ্চয় খরচ করে চলতে হলো, শেষে প্রয়োজনের জিনিস কিনতেও হিমশিম খেলো। শহরের অনেকেই কাজ হারালো, ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাবসা বন্ধ করে দিয়ে গ্রামে চলে গেলো।

দরিদ্রদের, দিন-আনি-দিন খাই লোকেদের বিপদটা ধুম করে এসে পড়লো মাথার উপর। কাজ নেই, খাবার নেই। তবে কয়েকদিন পরেই তারা নানান ধরনের সাহায্য পেতে শুরু করলো। তাতে কোনো রকমে চলতে লাগলো তাদের জীবনযাত্র। এখন তারাই সবার আগে কাটিয়ে উঠেছে বিপদ।

আমার কিছু আধাপাকা ঘর ভাড়া দেয়া আছে। যেখানে নিম্ন আয়ের লোকেরাই ভাড়া থাকে। তাদের অনেকে রুম ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো। বেশ কয়েকমাস সেগুলি আর ভাড়া হলো না। কেউ কেউ কিছু না জানিয়ে চুপচাপ পালিয়ে গেলো। কেউ কেউ গ্রামে যাচ্ছি, বেরাতে যাচ্ছি বলে বেরিয়ে গেলো, আর ফিরে এলো না।

পালিয়ে যাওয়া এইসব ভাড়াটিয়া তাদের ঘরে একটা চৌকি, কিছু থালা-বাসন আর জামা কাপর রেখে গেলো। বিশেষ করে শীতের জামা কাপর। মোটামুটি ৩ বস্তা হয়ে ছিলো।

বাসার ছেলেটা সেগুলি বিক্রি করে চা খাওয়ার পয়সা জোগাড়ের চেষ্টায় ছিলো। আমি ধমক দিয়ে বলেছি - "রেখে দে, শীতের সময় লোকজনকে দিয়ে দিবো।"
মনে মনে সন্দেহ ছিলো- "কেউ নিবে না এই পুরনো কাপড়'। তবুও কারো যদি লাগে।

এরমধ্যে এতো দিনে সেগুলির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। বাসার ছেলেটা মনে করিয়ে দিলো। ওকে বললাম বাসার সামনে রাস্তায় একটা পাটি বিছিয়ে কাপড় গুলি বিছিয়ে দিতে। যদি কারো লাগে নিয়ে যাবে।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই লোকজড় হলো। প্রথমেই পাতলা কম্বলগুলি শেষ হয়ে গেলো চোখের নিমিশে। একেকজন ২-৩টি করে নিতে শুরু করলো। তখন বললাম "একই জিনিস কেউ একটার বেশী নিতে পারবে না।" যারা একাধিক কম্বল নিয়েছিলো, তারা সাথে সাথে অতিরিক্তটা রেখে দিলো। আমি সরে গেলাম অন্য দিকে। কিছুক্ষণ পরে এসে দেখি কিচ্ছু অবশিষ্ট নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১২
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×