somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জামায়াত ও পাকিস্তানের গোপন অভিসন্ধি: স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য

২৭ শে আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জামায়াত ও পাকিস্তানের গোপন অভিসন্ধি: স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য

সম্প্রতি ‘দ্য ক্যাচলাইন’ পত্রিকায় প্রকাশিত East Pakistan Must Return: Pakistan’s Hour of Reckoning After 54 Years শীর্ষক নিবন্ধে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি জামায়াত ও পাকিস্তানি রাজনৈতিক মহলের অপশক্তির চক্রান্ত। ছবিতে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আজমিকে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের ব্যাজ পরানো হচ্ছে। এ দৃশ্য শুধু একটি সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানের প্রতি জামায়াতের আনুগত্য ও তাদের গোপন রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর প্রতীক হিসেবেই দেখা উচিত।

গোলাম আযম ও পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি

স্বাধীনতার পরপরই গোলাম আযম ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’ গঠন করেছিলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে টিকতে না দেওয়া। তিনি বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে সফর করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য সরকার ও প্রভাবশালী মহলের কাছে আহ্বান জানান। পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ভেঙে যাওয়াকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে, তাঁর এ প্রচেষ্টা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজিত মনোভাবের ধারাবাহিক প্রকাশ।

পাকিস্তানের কৌশল ও জামায়াতের ভূমিকা

পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল এখনও বাংলাদেশে জামায়াতকে ব্যবহার করে তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালের পরাজয়ের দগদগে ক্ষত ঢাকতে তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে না পারলেও জামায়াতকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক খেলা চালিয়ে আসছে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ের রাজনীতিতে—

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কখনওই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের গণহত্যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। বরং জামায়াত ও পাকিস্তানপন্থী মহল সিমলা চুক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দায় এড়িয়ে যায়।

জামায়াতের প্রচারযন্ত্র এখনও পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ভাঙনকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে থাকে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক অভ্যন্তরে এখনো “Lost East Pakistan” ফেরানোর কল্পনা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পুনরায় প্রভাব বিস্তারের স্বপ্ন লালিত হয়।

জামায়াতের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্য

বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি কখনোই কেবল ধর্মভিত্তিক নয়, বরং এর গভীরে পাকিস্তানপন্থী একটি রাজনৈতিক রূপরেখা লুকিয়ে আছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো—

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে পাকিস্তানপন্থী প্রজন্ম তৈরি করা।

গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেশের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করা।

পাকিস্তানের সঙ্গে একটি আদর্শিক ও রাজনৈতিক সেতুবন্ধন জিইয়ে রাখা।

পাকিস্তান ও জামায়াত আসলে কী চায়?

স্পষ্টতই বোঝা যায়, পাকিস্তানের জন্য জামায়াত হলো ‘প্রক্সি শক্তি’। পাকিস্তান সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারলেও জামায়াতের মাধ্যমে তারা এদেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। অন্যদিকে জামায়াতের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ধ্বংস করা এবং পাকিস্তানপন্থী আদর্শ কায়েম করা।

উপসংহার
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে। পাকিস্তান ও জামায়াতের ষড়যন্ত্র কেবল ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং এই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই বাংলাদেশের জনগণের কাছে এ প্রশ্ন জোরালোভাবে রাখা জরুরি— আমরা কি আবার পাকিস্তানি ভাবধারার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে চাই, নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই?ত ও পাকিস্তানের গোপন অভিসন্ধি: স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য

সম্প্রতি ‘দ্য ক্যাচলাইন’ পত্রিকায় প্রকাশিত East Pakistan Must Return: Pakistan’s Hour of Reckoning After 54 Years শীর্ষক নিবন্ধে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি জামায়াত ও পাকিস্তানি রাজনৈতিক মহলের অপশক্তির চক্রান্ত। ছবিতে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আজমিকে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের ব্যাজ পরানো হচ্ছে। এ দৃশ্য শুধু একটি সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানের প্রতি জামায়াতের আনুগত্য ও তাদের গোপন রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর প্রতীক হিসেবেই দেখা উচিত।

গোলাম আযম ও পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি

স্বাধীনতার পরপরই গোলাম আযম ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’ গঠন করেছিলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে টিকতে না দেওয়া। তিনি বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে সফর করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য সরকার ও প্রভাবশালী মহলের কাছে আহ্বান জানান। পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ভেঙে যাওয়াকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে, তাঁর এ প্রচেষ্টা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজিত মনোভাবের ধারাবাহিক প্রকাশ।

পাকিস্তানের কৌশল ও জামায়াতের ভূমিকা

পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল এখনও বাংলাদেশে জামায়াতকে ব্যবহার করে তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালের পরাজয়ের দগদগে ক্ষত ঢাকতে তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে না পারলেও জামায়াতকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক খেলা চালিয়ে আসছে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ের রাজনীতিতে—

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কখনওই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের গণহত্যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। বরং জামায়াত ও পাকিস্তানপন্থী মহল সিমলা চুক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দায় এড়িয়ে যায়।

জামায়াতের প্রচারযন্ত্র এখনও পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ভাঙনকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে থাকে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক অভ্যন্তরে এখনো “Lost East Pakistan” ফেরানোর কল্পনা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পুনরায় প্রভাব বিস্তারের স্বপ্ন লালিত হয়।

জামায়াতের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্য

বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি কখনোই কেবল ধর্মভিত্তিক নয়, বরং এর গভীরে পাকিস্তানপন্থী একটি রাজনৈতিক রূপরেখা লুকিয়ে আছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো—

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে পাকিস্তানপন্থী প্রজন্ম তৈরি করা।

গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেশের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করা।

পাকিস্তানের সঙ্গে একটি আদর্শিক ও রাজনৈতিক সেতুবন্ধন জিইয়ে রাখা।

পাকিস্তান ও জামায়াত আসলে কী চায়?

স্পষ্টতই বোঝা যায়, পাকিস্তানের জন্য জামায়াত হলো ‘প্রক্সি শক্তি’। পাকিস্তান সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারলেও জামায়াতের মাধ্যমে তারা এদেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। অন্যদিকে জামায়াতের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ধ্বংস করা এবং পাকিস্তানপন্থী আদর্শ কায়েম করা।

উপসংহার
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে। পাকিস্তান ও জামায়াতের ষড়যন্ত্র কেবল ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং এই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই বাংলাদেশের জনগণের কাছে এ প্রশ্ন জোরালোভাবে রাখা জরুরি— আমরা কি আবার পাকিস্তানি ভাবধারার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে চাই, নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই?

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:৫৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×