বেলুচিস্তান: আর কত নীরব থাকবে বিশ্ব?
========================
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক অঞ্চল আছে, যেখানে মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার বছরের পর বছর ধরে সংঘাতের মধ্যে আটকে আছে। বেলুচিস্তান সেই তালিকার অন্যতম। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সেখানে রাজনৈতিক সংঘাত, সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা অভিযানের মধ্যে সাধারণ মানুষ চরম মূল্য দিচ্ছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, গবেষক এবং সংবাদমাধ্যম বহু বছর ধরে বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের অভিযোগ তুলে আসছে। পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগের অনেকগুলো অস্বীকার করেছে এবং নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। তবুও অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ, আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বাস্তবতা হলো, অসংখ্য পরিবার আজও তাদের স্বজনের খোঁজ জানে না। বহু মানুষ বছরের পর বছর নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক পরিবার দাবি করে যে তারা ন্যায়বিচারের আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করছে। সংঘাতের প্রভাব নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু বেলুচ রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন এমন উল্লেখ বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তীকালে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলেও বিভিন্ন লেখক ও গবেষক দাবি করেছেন। ইতিহাসের এসব অধ্যায় আরও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গবেষণার দাবি রাখে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তথ্য সংগ্রহ আজও কঠিন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় সংঘাতে নিহত, গুম, গ্রেপ্তার, নির্যাতিত বা বাস্তুচ্যুত মানুষের কোনো সর্বজনস্বীকৃত পরিসংখ্যান নেই। এই তথ্য-অন্ধকার নিজেই একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।
এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশ্বনেতাদের উচিত বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া, জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে আহ্বান জানানো।
মানবাধিকার কোনো রাষ্ট্রের দয়া নয়; এটি প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। পৃথিবীর যেখানেই অন্যায়, নির্যাতন বা নিপীড়নের অভিযোগ উঠুক, সেখানে নীরবতা কখনো সমাধান হতে পারে না। ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের পথই টেকসই ভবিষ্যতের একমাত্র ভিত্তি।
বেলুচিস্তানের মানুষের জন্য আমাদের প্রত্যাশা প্রতিশোধ নয়,ন্যায়বিচার; সংঘাত নয় শান্তি; দমন নয় মর্যাদা; এবং নীরবতা নয় সত্যের প্রতিষ্ঠা। কারণ, মানবতার পক্ষে কথা বলা কোনো অপরাধ নয়; বরং সেটিই সভ্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

