somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষের চন্দ্রবিজয়- সত্যি নাকি মিথ্যা?

১৬ ই আগস্ট, ২০১৩ সকাল ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসেছি।আমি জানি পক্ষে বিপক্ষে অনেক মতামত থাকবে আর সেটাই স্বাভাবিক।আর আমি সেটাই চাই।কারন কোন জিনিসকে আমি অন্ধভাবে বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস করতে পারি না।আমার যুক্তিতে অনেক ত্রুটি থাকতে পারে যা ভিন্নমত কিংবা সহমতের লোকের মাধ্যমে আমি সচেতন হতে পারি।
আমার আলোচনাটি LANDING ON THE MOON নিয়ে।আমি আমার সহজ যুক্তিবাদী চেতনায় মানুষের ১৯৬৯ সালের চন্দ্রবিজয়কে অবিশ্বাস করি।তবে আমি বিশ্বাস করি মানুষ শুধু চন্দ্র নয় আন্যান্য সব গ্রহ নক্ষত্র এমনকি সুর্যকে জয় করার ক্ষমতা রাখে। LANDING ON THE MOON এর প্রতি অবিশ্বাসটাও চির অবিশ্বাস নয়।উপযুক্ত যুক্তির মাধ্যমে প্রমানিত হলে সেটাকে আমার মেনে নিতে কোন আপত্তি নাই।
অনেকগুলা বিষয় এসেছে এই ব্যাপরে যে মানুষের চন্দ্র অভিযানের ইতিহাসটি মিথ্যা ছিল।যে থিউরীগুলো সর্বপ্রথম এই LANDING ON THE MOON এর বিপরীতে দেয়া হয়েছিল সেগুলোকে conspiracy theory বলে। আমি মুলত এই LANDING ON THE MOON বিষয়টিকে conspiracy theory এর দ্বারা বহুলাংশে প্রভাবিত হয়েছি।যদিও এর সব যুক্তি আমার নিজেরও মনঃপুত হয় নি।আর কোন ভুমিকায় যাচ্ছি না আলোচনা শুরু করে দিচ্ছি।



চাদের পতাকা উড়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মুলত চাদের conspiracy theory টি মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হতে থাকে আর বাস্তবিক অর্থে এই একটা কারনেই মানুষের মাঝে নাসার চন্দ্রবিজয় অগ্রহনযোগ্য হচ্ছে ধীরে ধীরে। conspiracy theory তে বলা হয়েছে,চাদে যেহেতু কোন বাতাস নেই তাই পতাকার উড্ডয়ন কোনভাবেই সম্ভব না।নাসার ফটোতে পতাকার উড্ডয়ন সপ্ষ্টভাবেই দৃশ্যমান। তবে বেশিরভাগ মানুষ এই একটি কারনকে পুজি করে বুঝে অথবা না বুঝে LANDING ON THE MOON কে অগ্রাহ্য করেন।এই ব্যাপারে নাসার দাবিটিকেও বিবেচনায় নিয়ে এসে নিজের মতামত তুলে ধরা উচিত।




ছবিগুলো লক্ষ করলে দেখা যায় পতাকার উপরিভাগে একটি iron bar ঢোকানো আছে,যার কারনে কোন বাতাস ছাড়াই সেটি চন্দ্রপৃষ্ঠের সমান্তরালে দাড়ারে পরেছে।এই যুক্তিটা আসলেই যুক্তিসংগত এবং অকাট্য। conspiracy theory যারা প্রচার করেন তারা নিজেদের theory কে বেশি বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য এই iron bar এর কথাটি এড়িয়ে যান।তাতে করে মনে হয় নাসার চন্দ্রবিজয় সম্পুর্নো বানানো।কেননা বাতাস যদি না থাকে তাহলে পতাকাটি নুইয়ে পড়ে যে আবলম্বনটি মাটিতে লাগানো আছে তার গায়ের সাথে গিয়ে লেগে থাকার কথা।প্রকৃতপক্ষে,পৃথিবীতেও যখন কোন স্থানে বাতাসের বেগ কম থাকে তখন পতাকাকে এইরকম নুইয়ে থাকতে দেখা যায়।তবে পতাকার উপর যদি এইরকম কোন iron bar থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই সোজা হতে বাধ্য। তবে এখানেই শেষ নয়,ছবিগুলোতে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে,পতাকাটি কখনো কখনো কুচকে আছে ,সহজ ভাষায় বললে বাতাসের কারনে পতাকা দুললে যেরকম হয় অনেকটা সেরকম।তবে এখানেও নাসার যুক্তিটি অনেকাংশে নির্ভরযোগ্য তবে পোরোপুরি না।নাসার দাবী,নভোচারীরা পতাকাটি স্থাপনের সময় মাটিতে শক্তি প্রয়োগ করেছিলেন যার কারনে পতাকাটি দোলার বিষয়টা খুবই স্বাভাবিক এবং পতাকাটি দোলার বিষয়টাকে inertia(মুলত গতি জড়তা) হিসেবে বিবেচনা করেছেন।আর চাদে বাতাস সেই দোলন থামানোর জন্য কোন air resistance তথা বায়ুর বাধা ছিল না(যেহতু চাদে বাতাস নাই)।তাই সেটা গতি জড়তার দরুন অব্যাহত দুলতে থাকে ।তারা পতাকার এই movement কে wavingনা বলে fluctuating হিসেবে দাবি করছেন।নাসার পক্ষের সবাই এই যুক্তিটি সব জায়গায় ব্যবহার করেন।কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে বায়ুর বাধা যদি নাও থাকে অন্যান্য অনেক বলতো(চাদের আকর্ষন বল,দন্ডদুটির টান বল) সেখানে সক্রিয় ছিল যা fluctuating(!)কে বন্ধ করতে পারে।প্রায় পুরা সময়টাতে পতাকার fluctuating(!) অব্যাহত ছিল।তাহলে কি এই বলগুলো পতাকার গতি জড়তাকে আটকানোর জন্য যথেষ্ট নয়?এই প্রশ্ন রিলেটেড কোন জবাব আমি কোথাও দেখি নি।বরং বেশিরভাগ নাসাপন্থীরা খুব অল্প কথাতেই দুটো সমস্যার জবাব দেন।কারো এই প্রশ্নের জবাব জানা থাকলে জানাবেন।


প্রথমে যখন conspiracytheory গুলো একটু লক্ষকরেছিলাম তখন lackingof stars বিষয়টা আমাকেখুব নাড়া দিয়েছিল।আর ব্যাপারটিতে নাসার যুক্তি খুবই অদ্ভুত।conspiracy theory তেবলা হয়েছিল চাদে যেহেতু কোন মেঘ নাই তাহলে কোন তারা চাদের ছবিগুলুতে দৃশ্যমান হলনা কেন?প্রসংগত চাদে কোন বায়ুমন্ডল নেই পাশাপাশি নেই কোন পানিচক্র আর মেঘ সৃষ্টি হওয়াতঅসম্ভব।তাহলে অনেক স্পষ্টভাবেই তারাগুলো দেখা যাওয়ার কথা।এর পাল্টাযুক্তিতেনাসপন্থীরা বলেন, নীল আর্মস্ট্রং আর বায আলড্রিন যখন চাদে গিয়েছিলেন তখন চাদে কেবলসকাল হয়েছিল আর যার দরুন তারাগুলোদৃশ্যমান হওয়ার কোন সুযোগ ছিল না।কিন্তু LANDING ON THE MOON এর কাহিনীতে বলা হয়েছে চন্দ্রপৃষ্ঠেতারা ২১ ঘন্টা ৩৭ মিনিট ছিলেন।তাহলে তাদের অবস্থানের পুরোটা সময় আলোর উপস্থতি ছিলনা।



তাহলে খুব সহজেই বুঝা যায় এখানে বড় ধরনের কোন ঘাপলা আছে।আবার অনেকেই বলেনতখনকার ক্যামেরার কোয়ালিটি ভাল ছিল না যার কারনে তারা দৃশ্যমান হয় নি।তবে এই ব্যপারেআলড্রিন ও আর্মস্ট্রং স্পষ্ট বক্তব্য রাখতেন তাহলে বিষয়টা নিয়ে এত গুন্জন উঠতনা।কারন ফটোতে আসুক আর তারা তো ছিলেন চাক্ষুষ প্রমান।সুতরাং বিষয়টা অবশ্যইসন্দেহের যে এই ফটোগুলো সত্যিই LANDING ON THE MOON নামক বিষ্ময়কর কোন কীর্তির চিল নাকি “LANDINGON THE MOON” নামক কোনহলিউডের সিনেমার। এই চিন্তাটা আরো বদ্থমুল হয় যখন চাদের পৃষ্ঠে একাধিক আলোক উৎসদেখা যায়।নাসার তথ্যে চাদে সুর্য ব্যতিত অন্য কোন আলোক উৎস ছিল না।তাহলে এইরকমছায়া কিভাবে সৃষ্টি হল?উত্তর হতে পারে একটাই এখানে অন্যকোন আলোক উৎস ছিল।কিন্তুসেই আলোক উৎস কোথা থেকে এল এর কোন গ্রহনযোগ্য জবাব নাসাপন্থীরা দিতে পারেনি।সুতরাং LANDING ON THE MOONএকটি ড্রামা অথবা সিনেমা হিসেবেই বেশি মনে হতে পারে।(চলবে)


শুধুমাত্র এইসকলকিছু কারনেই যে আমি conspiracy theory কেবিশ্বাস করি তা নয়,তখনকার সময়ে আমেরিকার জন্য বিজ্ঞানের জয়ের থেকে রাজনীতিক জয়েরস্পৃহা স্পষ্ট ছিল।রাজনৈতিক বিষয়টা ঢালাওভাবে আনছি না কারন এই ব্যাপরে লেখতে গেলেআরো এখটা নোট লেখ যাবে।আমার মনে হয় সম্পুর্ন রাজণৈতিক দুরভিসন্ধির কারনেই পৃথিবী একটিমিথ্যাকে আজও বিশ্বাস করে যাচ্ছে।নীল আর্মস্ট্রং,বায আলড্রিন মাইকেল কলিন্সের পরেওনাকি আরো কিছু নভোচারী চাদে গিয়েছিল যদিও আমি তা জেনেছি মাত্র কিছুদিন আগে।সে যাইহোক মজার ব্যপার হচ্ছে প্রথম চন্দ্রবিজয়েরপর আর যাদেরকে চন্দ্রবিজয় করতে শুনেছি তারাও প্রায় সমসাময়িক সময়ে বিশেষত আমেরিকারপ্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সময়ে করেছিলেন।এর পরে আর কখনো হল না কেন সেটাও মাঝেমাঝে প্রশ্ন জাগে?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৩ সকাল ১১:৪৩
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাগেনি সুন্দর

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫১

লাগেনি সুন্দর
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তারে দেখিতে লাগেনি সুন্দর
তাঁর কথা শুনে উৎফুল্ল অন্তর!
সে দ্বীনদার কন্যা, সে অনন্যা
তাঁর গুণাবলী জ্যোতি যা প্রেরণা।

ফজরের পূর্বে উঠে করে সিজদা।
বুদ্ধিমতি তাকে জেনে আমি ফিদা।
নিয়মিত আদায় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনূস স্যার ক্ষমতায় থাকলে রোহিঙ্গারা এই বছর ঈদ করত মিয়ানমারে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


সেদিন উখিয়ার তপ্ত বালুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রফেসর ইউনূস যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টানে ঘোষণা করলেন—"তোয়ারা আগামী ইঁদত নিজর দেশত ফিরি যাইবা", তখন মনে হচ্ছিল মুহূর্তের জন্য পুরো বিশ্বটা বুঝি স্ট্যাচু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সজিব কখনো তারেক নয়॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×