somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমরা যারা টাকা ভাগাভাগী করে খাও।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগাল।পর্তুগিজদের শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়েছে প্রায় অনেক বছর আগে।অনেক বিপ্লবের ইতিহাস।তবে দেশের মানুষের সবচেয়ে গর্বের বিষয়বস্তু সে দেশের রাজধানীতে গড়ে উঠা বিশ্ববিদ্যালয় “ডাকার ইউনিভার্সিটি”।আফ্রিকার অক্সফোর্ডও বলা হয়ে থাকে।তবে সেদেশের আরেক আকর্ষন হলেন একজন লেখক।শিশু কিশোর তো বটেই সকল পেশাশ্রেনীর মানুষ তার লেখার গুনমুগ্ধ।বিশেষ করে তার ভাবশিষ্য আরেক প্রখ্যাত লেখক অ্যানিসল হকিন্স তিন চামচ বেশি গুনমুগ্ধ। যদিও তার চাটুকার বৈশিষ্টের জন্য অনেকেই তার বিরোধীতা করেন কিন্তু তারপরেও তার বই পড়া বাদ দিতে পারেন না স্বয়ং মহাবীর রম্যান রাফিন্সের মত লোকেরাও,এমনকি লেখকের বই না পড়ে তার ঘুম নাকি আসে না যদিও তিনি তার চাটুকারিতা বিরোধী।অনেকেই আবার তাকে মীরজাফর বলে ডাকে।তবে সেটা নিয়ে লেখক মোটেও ভাবিত নন।তিনি অনেকটাই “I don’t care what u think of me,I wasn’t born to impress you” নীতিতে বিশ্বাসী।তার বিরোধী যেমন আছে তার অন্ধভক্তও তেমনি আছে।তারা লেখকের সব কথাকেই ঔশীবানী বলে মনে করে।লেখকের বিরুদ্ধে কিছু বললেই হিটলারী ফ্যাসীজম শুরু করে।কারো কারো আবার সেই কারনে আনা ফ্রাংকের মত ডায়রী লেখতে ইচ্ছা জাগে।তার একজন মুগ্ধ পাঠক সে দেশেরই এক মন্ত্রী।অনেক ফর্মুলা তিনি লেখকের কাছ থেকে নিয়েছেন যেগুলো দেশের জন্যই অনেক ক্ষেত্রেই উপকারী ছিল।মাঝে মাঝে অবশ্য নিতান্তই রাজনৈতিক কারনেই কিছু কিছু ফর্মুলা নিতে পারেন নি।তবে তাদের মাঝে সখ্যতা সব সময় প্রবল।যেকোন বিপদে একজন আরেকজনের পাশে এসে দাড়ান।

একবার মন্ত্রী মহোদয় পড়লেন ব্যাপক সংকটে।তার আমলে স্টুডেন্টরা ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’লেভেল লাখে লাখে স্টার মার্ক পেতে থাকল।কিন্তু এ নিয়ে ব্যাপক কানঘুষা।সাবেক মন্ত্রী,শিক্ষাবিদ,চিন্তাবিদ,রাজনীতিবিদ সবাই দুর্নামের ঢেউ তুললেন।লেখাপড়ার মান নিয়ে আলাপ-আলোচনা,সমালোচনা চলতেই থাকল।সেই লেখকও গ্যাড়াকলে পড়ে গেলেন মাউথবুক না কিসে যেন প্রশ্ন আগেই আউট হয়ে যায়,তাই তিনিও কিছু না লিখে পারলেন না।বিপ্লবীদের স্মৃতিসৌধে বসে তিনি অনশন পালন করা শুরু করেছিলেন।তবে তাতে করে সখ্যতা তাদের মাঝে বিলকুল কমে নি।কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় অনড়।তিনিই সেরা।তার আমলে দেশের শিক্ষাঙ্গনে প্রভুত উন্নতি সাধিত হয়েছে।এতে করে নিন্দুকদের কবলে তিনি পড়েছেন।কেননা এদেশে কোন নন্দিতই পরম নয়,পরম নয় কোন নিন্দিতও,সকল খেতাবই আপেক্ষিক।যাই হোক তিনি মারাত্মক গ্যাড়াকলে পড়ে গেলেন বিখ্যাত ডাকার ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার পরে।কারন সেখানে নাকি এ লেভেল পাশ করা স্টার গ্রেড প্রাপ্ত স্টুডেন্টরা পাশ মার্ক-ই তুলতে পারছে না।দেশে বিদেশে উঠতে শুরু করল নিন্দার ঝড়।একের পর এক ঝাপটা তিনি সইতে পারছেন না।তিনি প্রবল ঝড়ে বেকে যাওয়া বটগাছ।অতঃপর তিনি লেখকে সরনাপন্ন হলেন।কারন লেখক গুনী মানুষ,তার লেখা যে কেউ পড়ে,এমনকি তার হেটাররাও,আর মুরীদরা তো মুরীদরাই।বেকায়দার চরম সীমাতে পৌছাতেই তিনি লেখককে ফোন দিলেন।লেখকের মোবাইলে মন্ত্রীর ফোন বাজছে,লেখক ফোন তুলে রিসিব করলেন,

লেখকঃ- কি ভাই?কেমন আছেন।
মন্ত্রীঃ- ভাই,মজা লন।আমার অবস্থা কি আপনে জানেন না।
লেখকঃ-তা তো সবই জানি।কি আর করা একটু সবর করেন।
মন্ত্রীঃ- আরে না,আমার এখন মারাত্নক সমস্যা।আপনে আমার পাশে দাড়ান।আপনে না থাকলে আমার দিন শেষ।
লেখকঃ-যান যান।আমি আপনার সাথে এখন নাই।গত বছর কোন এক অর্বাচীন সংগঠন সচেতন সেন্ট লুসিয়াবাসী না কি একটা সংগঠনরে আপনে সাপোর্ট দিলেন আমার লগে বেইমানি করলেন।আবার আমার কাছেই আসছেন।আপনারা রাজনীতিবিদরা কি লোক মাইরি।যখন তখন রং পাল্টান।
মন্ত্রীঃ-দেখেন পুরান কথা ফালান।এখন আগের ব্যাপার নিয়া নিজেরার মাঝে ঝামেলা কইরা কি লাভ।
লেখকঃ-আপনারে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি।ঠেকা থাইকা উদ্ধার করার পরে আমারে আবার পল্টি দিবেন।সুযোগ পাইলেই তো পল্টি মারেন।‘বাংলাদেশ’ নামে একটা দেশ আছে না সাউথ এশিয়ায়,এর পল্টিবন্ধু এরশাদ থাইকাও আপনে কম যান না।
মন্ত্রীঃ- ভাই,আপনে আমার বাপ লাগেন।আপনে আমার বাচান ভাই।
লেখকঃ-বাপ ডাকলে তো আর কিছু করার থাকে না।আপনে কাইন্দেন না।ব্যাপরটা দেখতাছি।তয় সামনে আমার লগে পল্টি মারতে আসবেন না।আপাতত মিডিয়ার সামনে কথা বলা বাদ দেন।আমি সামলাইতাছি।এখন রাখি।
মন্ত্রী:- জি ভাই।আপনার দয়া।সালামালাইকুম ভাই।

এরপর লেখক সাহেব জ্বালাময়ী এক কলাম লেখলেন।কলামটা প্রকাশিত হল বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায়,অনলাইন পত্রিকা এবং তার নামে খোলা একটা ফ্যান পেজে।মুহুর্তেই অজস্র লাইক,সহস্র কমেন্ট আর শয়ে শয়ে শেয়ার।মহাবীর রম্যান রাফিন্সও তার সেই তথ্যবহুল লেখায় লাইক মারলেন।তিনি খুব চাতুরতার সহিত ইনিয়ে বিনিয়ে শুরু করেছিলেন আম গাছে কেন আম ধরে না সেই প্রসঙ্গ দিয়ে আর শেষ করেছেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে কিভাবে জাম গাছে আম ধারনো যায় তার সমাধান দিয়ে।মাঝে মাঝে অবশ্য আরো অনেক জ্ঞানের কথা বলেছিলেন তা নিয়ে চিন্তা করতে করতে সবাই মন্ত্রী সাহেবের কথা ভুলে গেল।প্রমানিত হল মসীর জোর অসীর থেকে সবসময় শক্তিশালী।
--------------------------------------------------------------------------------
এই লেখাটা আগাগোড়া কাল্পনিক।বাস্তবের কোন ঘটনার সাথে এর কোন মিল খুজে পেলে লেখক দায়ি নন।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাগেনি সুন্দর

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫১

লাগেনি সুন্দর
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তারে দেখিতে লাগেনি সুন্দর
তাঁর কথা শুনে উৎফুল্ল অন্তর!
সে দ্বীনদার কন্যা, সে অনন্যা
তাঁর গুণাবলী জ্যোতি যা প্রেরণা।

ফজরের পূর্বে উঠে করে সিজদা।
বুদ্ধিমতি তাকে জেনে আমি ফিদা।
নিয়মিত আদায় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনূস স্যার ক্ষমতায় থাকলে রোহিঙ্গারা এই বছর ঈদ করত মিয়ানমারে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


সেদিন উখিয়ার তপ্ত বালুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রফেসর ইউনূস যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টানে ঘোষণা করলেন—"তোয়ারা আগামী ইঁদত নিজর দেশত ফিরি যাইবা", তখন মনে হচ্ছিল মুহূর্তের জন্য পুরো বিশ্বটা বুঝি স্ট্যাচু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সজিব কখনো তারেক নয়॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×