somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকার ইরান আক্রমণের প্রস্তুতি ও বৃহত্তর ইসরায়েল

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বন্যপ্রাণীদের মধ্যে একসাথে ডাক দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। নেকড়ে কিংবা শিয়াল দলবদ্ধভাবে ডাকে। সভ্য মানুষের মধ্যে এমনটা দেখা না গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকাকে দিয়ে ইরানের ওপর আক্রমণের প্রশ্নে ইসরায়েলপন্থী লবির আশ্রয়ে থাকা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে এই ধরনের সমস্বরে ডাক দেওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

গতকাল ট্রাম্প-এর স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে, তিনি যখন নেতানিয়াহুর শিখিয়ে দেওয়া কুখ্যাত মিথ্যাটাই পুনরাবৃত্তি করলেন যে, ইরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছে এবং এমন অস্ত্র বানাচ্ছে যা পশ্চিম ইউরোপ ও আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তখন জায়নবাদী অর্থ ও প্রভাবের অধীনে থাকা ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও করতালিতে ফেটে পড়লেন।

এর কিছুদিন আগেই ইসরায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছিলেন, ইসরায়েল যদি পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখল করে নেয়, তাতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই। ঘটনাগুলো একই সুরে বাঁধা একটি রাজনৈতিক ও সামরিক উন্মত্ততার প্রকাশ। এটি আমেরিকার নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাবার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সব ধারণা অর্থ এবং ক্ষমতার রাজনীতির কাছে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়েছে।

ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ১০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এই সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনায় তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল - ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইসরায়েল বিরোধী দলের প্রতি সমর্থন বন্ধ করা, এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা। ইরান বারবার স্পষ্ট করে বলে এসেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং তাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে গোলপোস্ট বদলেছেন; চুক্তির শর্ত ও লক্ষ্য বারবার পরিবর্তন করেছেন।

এই শর্তগুলো ও সময়সীমা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এগুলো ইসরায়েল থেকে ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে ইসরায়েলিদের ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী কারনও রয়েছে। আর কদিনের মধ্যে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পুরিম। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই উৎসব ভিন্নভাবে পালিত হলেও, ইসরায়েলে এটি একটি জাতীয়তাবাদী উৎসব। জায়নবাদী ব্যাখ্যায়, এই সময় পারস্যের রাজা হামানকে উৎখাত করা হয়েছিল। যাকে ইহুদিদের নির্মূলের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। জায়নবাদী শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে পুরিমকে ইরানবিরোধী এক উৎসবে রূপ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ইসরায়েলের দৃষ্টিতে রমজান মাসকে ইরানে হামলার জন্য কৌশলগতভাবে উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার দুটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য পারস্য উপসাগরে প্রস্তুত রয়েছে। ইরাক আক্রমণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এটিই আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি। দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ফিলিস্তিনে গণহত্যা ও অবৈধ বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে আমেরিকাকে ব্যবহার করে আসলেও, এবার তাদের লক্ষ্য আরও বড় - বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করা। এর অর্থ ফিলিস্তিন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া ও ইরাক সহ মিসর ও সৌদি আরবের কিছু অংশ দখল করা এবং এসব দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করা।

আমেরিকার রাজনীতিতে জায়নবাদীদের ক্ষমতা অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বাস্তবে সেটিই এখন আমাদের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। ইসরায়েলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আমেরিকার মূলধারার গণমাধ্যমগুলো ইরানে হামলার পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করতে নিয়মিত লেখা ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করছে।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক ইসরায়েল সফর এবং প্রকাশ্যভাবে এই গণহত্যাকারী, দখলদার, বর্ণবাদী ও উপনিবেশবাদী রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর সমর্থন। ভারতের ১.৪ বিলিয়ন মানুষ ইসরায়েলের পাশে আছে - ইসরায়েলের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য যুদ্ধবাজ প্রাণীকূলের একসঙ্গে ডেকে ওঠার সর্বশেষ অশনি সংকেত।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে মেয়েরা নিরাপদ, শুধু একটু সতর্ক থাকলেই হয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৬


এই দেশে কিছু মানুষ আছেন যাঁরা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তাঁরা ঘুমান না, বিশ্রাম নেন না, নিজেদের সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে সমাজের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রাচীন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার কথা : একুশে বইমেলায় আপনাদের আন্তরিক আমন্ত্রণ।

লিখেছেন সুম১৪৩২, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০৩



অনেক জল্পনা–কল্পনার পর অবশেষে শুরু হলো একুশে বইমেলা ২০২৬।
বইপ্রেমীদের এই মহোৎসবে এবার আমার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত—
এই প্রথম আমার দুটি বই একসাথে মেলায় এসেছে।



বই দুটি প্রকাশিত হয়েছে প্রতিভা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসংঘে বাংলাদেশ : নির্বাচনের প্রেক্ষাপট !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০

sb]জাতিসংঘে বাংলাদেশ : নির্বাচনের প্রেক্ষাপট !



জাতীয় নির্বাচনের পর আমারা এখন জাতিসংঘে সকলের দৃষ্টি আর্কষন করতে যাচ্ছি,
তবে আমরা জাতীয় নির্বাচনে সফলতা না পেলে এই সুযোগ সৃষ্টি হতোনা ।
আগামী জুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রোফেসর ইউনুস সম্পর্কে আমি যা বলেছিলাম তাই সঠিক ছিল।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন চ্যানেল ওয়ানে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রফেসর ইউনুস সম্পর্কে উনি যা বলেছেন আমিও ঠিক তাই বলেছিলাম তখন। হয়তো উনি এখনো রাখঢাক রেখে বলছেন, আমি সরাসরি বলেছিলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন যখন শুকায়ে যায়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৩


জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে জানা গেল লিম্বস কলাপসের টেস্টটার খরচ পড়বে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। তমাল কাকাত ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করে গেল পান্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×