somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অ্যানেকডট 1 ।। জর্জ ওয়াশিংটন ও তার দাঁত

১২ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জর্জ ওয়াশিংটন ও তার দাঁত

আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ( 1789-1797, যার পোট্রর্েটগুলি না হাসতে পারনের দুঃখে অমর হইয়া আছে) নকল দাঁতের স্বাদহীনতায় অতিষ্ঠ হইয়া একবার চাইর সেট নকল দাঁত পোর্ট ওয়াইনে ডুবাইয়া রাখছিলেন। উনি আসল দাঁতগুলি হারায়ছিলেন ব্রাজিল নাট ভাঙার বদ অভ্যাসের কারণে। 1789 সালে তিনি যখন প্রেসিডেন্ট হইলেন তখন তার নিজের বলতে দাঁত মাত্র একটাই অবশিষ্ট আছিল। গরু, মানুষ আর অন্য জন্তু-জানোয়ারের দাঁত থিকা তৈরি করা নকল দাঁতের পাটি দিয়া তিনি কাজ চালাইতেন।

ওয়াশিংটন পরে দেখতে সুন্দর দাঁতের সন্ধানে ফিলাডেলফিয়ার এক লিডিং ডেনটিস্টের শরণাপন্ন হইছিলেন। ওই ডেনটিস্ট জলহস্তীর লম্বা দাঁত থিকা এক সেট কৃত্রিম দাঁত তৈরি কইরা দেন তাঁরে। শিল্পসুষমামণ্ডিত নকল দাঁতগুলিরে রক্ষা পাওয়া একমাত্র দাঁত-এর লগে গাঁইথা দেন দন্তচিকিৎসক। দুঃখজনক, সে গ্রন্থন যথাযথ হয় নাই। প্রেসিডেন্টের জীবনে ধারাবাহিক বেদনার সূত্রপাত ঘটে এই দাঁতের সারির কারণে। তিনি লডানাম (laudanum : অ্যালকোহলে দ্রবীভূত আফিম) লইয়া দাঁতের বেদনা ভুলতে থাকেন। বিবিধ নকল দাঁতের স্বত্বাধিকারী হিসাবে তার বেশ ওজনদার (110 গ্রাম) এক সেট সীসার দাঁতও আছিল। তবে ওনার প্রজাবৃন্দের সাধারণ বিশ্বাস আছিল হেগো প্রেসিডেন্ট কাঠের দাঁত দিয়া চাবায়।

জর্জ ওয়াশিংটন ডার্টি জোক শুনতে এবং মাঝে মইধ্যে অশোভন গল্প করতে পছন্দ করতেন। তিনি এবং তার স্ত্রী মার্থা হেগো চিঠিপত্রের বেশিরভাগই নষ্ট কইরা ফালাইছিলেন। তবু দুভর্াগ্যক্রমে কিছু চিঠি রইয়া যায়। 1920 সালের শেষ দিকে মাল্টিমিলিওনেয়ার জে. পি. মরগ্যান এই চিঠির কয়েকটা কিনা নিছিলেন। পরে এইসব চিঠি যে পনের্াগ্রাফিক এই বুঝতে পাইরা তিনি সব চিঠি পুড়াইয়া ফেলান।

ওয়াশিংটন বিশ্বাস করতেন হ্যান্ড শেইক করাটা একজন রাষ্ট্রপতির যোগ্য কাজ হইতে পারে না, তাই হোয়াইট হাউসে আসা অভ্যাগতদের তিনি বাউ কইরা শুভেচ্ছা জানাইতেন। ওয়াশিংটনের মালিকানায় ছয়টা সাদা ঘোড়া আছিলেন। প্রতিদিন ভোরবেলায় ওনাাগো দাঁত ব্রাশ করানের পর্বটা তিনি নিজে উপস্থিত থাইকা পরিচালনা করতেন।

জর্জ ওয়াশিংটনের মরবিড ভয় আছিল যে তার মৃতু্য সম্পর্কে নিশ্চিত না হইয়াই তারে জ্যান্ত কবর দিয়া ফেলতে পারে হারামজাদা প্রশাসনিক কর্মকতর্ারা। এই ভয় থিকা তিনি নির্দেশ দিয়া রাখছিলেন তার মৃতু্যর পরে যেন মিনিমাম তিন দিন...তারে কবর দেয়া না হয়।

সূত্র : আর্ট এন্ড কালচার ম্যাগাজিন, দৈনিক যায়যায়দিন , 27/7/06
ছবি : 1797 portrait of George Washington by painter Gilbert Stuart
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:০৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×