লিখতে হলে পড়তে হবে- প্রচুর পড়তে হবে
একজন ভালো লেখক হওয়ার জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে। প্রখর কল্পনাশক্তি থাকতে হবে। সর্বদা হাস্যমুখি থাকতে হবে। মন থেকে হিংসা সম্পূর্ণ দূর করতে হবে। দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি এক আকাশ ভালোভাসা থাকতে হবে। কৃপণতা ধুয়ে ফেলে দিতে হবে জীবন থেকে। সমালোচকদের গালাগালি করা যাবে না। নিয়মিত পাঠকদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। সন্তানের প্রতি মায়ের যেমন টান সাহিত্যের প্রতি ঠিক তেমন টান থাকতে হবে। একজন লেখকে সব সময় বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। লেখকের কাছে ধর্ম কোনো ব্যাপার না। লেখকের ধর্ম হবে মানবধর্ম। বাংলা একাডেমীর একজন বললেন, শেখ হাসিনা একজন বিশিষ্ট লেখক হিসাবে বই-মেলা উদ্বোধন করছেন; তখনও গা কাঁপে, অন্য কারণে। তখন আমরা গা দুলিয়ে হাসি, নইলে হাসিটা ঠিক জমে না।
ইদানিং দেখা যায় ব্লগে এবং ফেসবুকে একজন আরেকজনকে কবি বলে ডাকছেন। তখন খুব হাসি পায় এবং রাগ লাগে আমার। আরে ভাই আমি তো প্রায় হাজার খানিক কবিতা লিখেছি- তাই বলে আমি কি কবি হয়ে গেলাম? বেশ কয়েকটা বইয়ে আমার বেশ কিছু কবিতাও ছাপা হয়েছে। যদু-মধু একজন কবি আবার নির্মলেন্দু গুন বা মহাদেব সাহাও কবি। কই যদু-মধু আর কই নির্মলেন্দু গুন আর মহাদেব সাহা। সস্তা দশ/বিশ কবিতার বই বের হলেও সহজে কবি হওয়া যায় না রে পাগলা। সত্যিকারের কবি এবং কবিতা অন্য জিনিস।
বাংলা একাডেমি নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। শুধু একটা কথা বলি- আমের ভেতর থেকে একটা পোকা বের হয়ে বলছে ভাই ভাই- আম দেখতে কেমন। বাংলা একাডেমি নিয়ে সবারই কম বেশি ধারনা আছে। বাংলা একাডেমি'র সব কর্মকর্তাদের উপর আমার অনেক অভিযোগ। বাংলা একাডেমির লোকজন ইচ্ছা করলে মানে তাদের স্বচ্ছতা এবং মেধা দিয়ে তারা অনেক ভালো ভালো কাজ করতে পারেন। বাংলা একাডেমি হতে পারে লেখক এবং পাঠক বানাবার কারিগর।
আইসল্যান্ড দেশটিতে প্রত্যেক ১০জন লোকের মধ্যে একজনকে পাওয়া যাবেই যিনি বই প্রকাশ করেছেন। দেশটিতে লোকসংখ্যা মোটে ৩ লাখ। পৃথিবীতে কবি হচ্ছে একমাত্র অবিনাশী সত্তা—রাজা, সম্রাট তাঁর কাছে কিছু নয়। তাই কবি বা লেখক হতে গেলে যেমন পড়াশোনা জরুরি, তেমনি দরকার লেখকের স্বাধীন সত্তা। কারও পরামর্শ নিয়ে কেউ কোনো দিন কবি হতে পারে না। ন্যূনতম মান বজায় রেখে বই প্রকাশ করা উচিত।
কিছু লিখতে হলে শিখতে হবে। আর শিখতে গেলে অবশ্যই পড়তে হবে। তুমি কিছু একটা লিখতে চাও, তাহলে লিখে ফেল। কি ভাবছ? যদি ভুল হয়! হোকনা ভুল। আমাদের জীবনে কত ভুল হচ্ছে আমরা কি তা ঠিক শুধরে নিচ্ছি না? ভুল হোক ভুরি ভুরি। আগে লেখাটা লেখ, তারপর কেটেছেটে শুধরে নেবে। প্রয়োজনে লাইনে লাইনে পরিমার্জন করবে। দেখবে সেই ভুল লেখাটাও ঠিক হয়ে গেছে। মনে রাখবেন প্রথম লেখার সময় সব লেখকেরই বিস্তর কাটাকাটি হয়, পরে এক সময় তা বশে চলে আসে। রবীন্দ্রনাথ আজ বিশ্ব কবি, তিনি প্রথম যে কবিতাটি লিখেছিলেন তার মধ্যেও বিস্তর কাটাকাটি হয়েছিল।
আজকাল লেখক হওয়াটা কোন বিষয়ই নয়। অধ্যবসায়ের কোন প্রয়োজন নেই, পড়াশোনার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই চিন্তা-ভাবনার। লেখক হবার মূলশক্তি এখন অর্থবিত্ত। আমলার বউ, মন্ত্রীর ড্রাইভার আর এমপির মেয়েরা এখন লেখকের তালিকার শীর্ষে। এসব মৌসুমী লেখকদের জন্য প্রস্তুত থাকে মৌসুমী প্রকাশকরা। সামনের মাসে শুরু হচ্ছে একুশে বইমেলা। গত বছর বইমেলাতে দেখলাম- দুইজন বয়স্ক ভদ্রলোক একজন আরেকজনকে বলছে- এবছর আমার চারটা বই বের হয়েছে। আপনার কয়টা বের হয়েছে? আরেকজন মুচকি হাসি দিয়ে বললেন আমার সাতটা।
আদিম কাল হতেই মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য, মনের আকুতি মানুষের কাছে জানানোর জন্য কখনো পাহাড়ের গুহায়, পাহাড়ের চূড়ায়, ভূর্জপত্র, কাঠ, গাছের চামড়া, ভেলাম, কডেক্স, প্যাপিরাস, তালপাতা, কাঁদামাটির ফলকসহ আরো নানাবিধ উপকরণে লিখে রাখতো। যার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো তার পরবর্তী প্রজন্মকে তা জানানো। এভাবে লেখক তাঁর লেখার মাধ্যমে মানুষকে জানাতো। লেখার মাধ্যমে লেখক অন্য একজন মানুষকে বুঝানো, শেখানো সত্যিই কষ্টের ব্যাপার।
নিজের লেখা হোক বা অন্যের লেখা হোক বার বার পড়লে তার ভুলত্রুটি ও অসঙ্গতি ধরা পড়বে। লেখায় কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে তা বার বার সংশোধন করুন, পরিবর্তন করুন, পরিমার্জন করুন। এতে কোনো দোষের নেই। বার বার ভালো করার চেষ্টা করলে ভালো না হয়ে উপায় নেই। এভাবে লেখার কাজ চালিয়ে যাবেন। লিখতে লিখতেই আপনি লেখার কৌশল পেয়ে যাবেন। একটা নিয়মের ফ্রেমের ভেতর দিয়ে আপনার কলম এগোবে। এছাড়াও লেখালেখি নিয়ে সিনিয়র লেখকদের সাথে পরামর্শ করবেন।
একজন ভালো পাঠক সব সময় ভালো লেখকে পরিণত হয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। লেখকের মৃত্যু নেই, লেখক অমর। লেখক হওয়ার আরেকটি অন্যতম উপায় হলো দেশ ভ্রমণ। দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ চাক্ষুষ বা বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে। তার এই লব্ধ অভিজ্ঞা লেখালেখিতে উপস্থাপনের মাধ্যমে লেখালেখিকে আরো সহজে প্রাণবন্ত করতে পারে। সুতরাং লেখালেখির জন্য দেশ ভ্রমণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
=মনের হিংসা দূর করো রব=

তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।
স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন
সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব
আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...
বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....
বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন
খালিদ বিন ওয়ালিদের জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন বদর যুদ্ধের সাহাবী হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.)
প্রথমেই বলে নিতে হবে, ইসলামে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। মুসলমানদের যখন খুবই খারাপ অবস্থা, তখন এই বদর যুদ্ধে নবীজির নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেন একদল মুষ্টিমেয় সাহাবী। সেই বদর... ...বাকিটুকু পড়ুন
রম্য: পর্নের সেকাল একাল!
গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।