১৯৮৬ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন গুন্টার গ্রাস। ছিলেন এক সপ্তাহ। সঙ্গে স্ত্রী উটে গ্রাস। পশ্চিম বাংলা ঘুরে তারপর বাংলাদেশ। শাঁখারিবাজার থেকে জেনেভা ক্যাম্প, পুরান ঢাকার অলিগলি, সদরঘাটের ভাসমান রেস্তোরাঁ সবখানেই ছিল গুন্টার গ্রাসের পদচারণা। সোনারগাঁর পানাম নগরীতেও গেছেন। দ্বিতীয়বার ঢাকায় আসেন ২০০১ সালে।
‘টিনড্রাম’ উপন্যাসের জন্য ১৯৯৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। জন্মেছেন পোল্যান্ডের বাল্টিকে। জন্মসূত্রে জার্মানি এই লেখক লিখেছেন দশটি উপন্যাস, বেশ ক’টি নাটক ও কয়খানা ভ্রমণকাহিনী।
সাতদিনের এই বর্ণাঢ্য ভ্রমণে সঙ্গী করেছিলেন কখনও কবি বেলাল চৌধুরী, কখনও শিল্পী এসএম সুলতান। ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরায় বন্দি করেছিলেন আলোকচিত্র সাংবাদিক নাসির আলী মামুন।
১৯৫৪ সালে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু দুই যুগ পর এই সংসার ভেঙ্গে যায় তার। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে আবার বিয়ে করেন তিনি।
তার উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে_ দ্য টিন ড্রাম (১৯৫৯), ক্যাট অ্যান্ড মাউস (১৯৬১), ডগ ইয়ার্স (১৯৬৩), দ্য ফ্লাউন্ডার (১৯৭৩), ক্র্যাবওয়াক (২০০২), দ্য র্যাট (১৯৮৬), দ্য বক্স (২০০৮), শো ইউর টাং (১৯৮৬), টু স্টেটস ওয়ান নেশন (১৯৯০)।
তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক গুন্টার গ্রাস সাহিত্যে নোবেল ছাড়াও গেওর্গ ব্যুশনার পুরস্কার, অনারারি ফেলো অব দ্য রয়েল সোসাইটি অব লিটারেচার এবং প্রিন্স অব অস্ট্রিয়াস পুরস্কার লাভ করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। মার্কিন সেনাদের হাতে ধরা পড়ে ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই বছর তিনি বন্দী ছিলেন। পরে মুক্তি পেয়ে তিনি খামার শ্রমিকের কাজ করেন। পরবর্তীকালে তিনি চিত্রকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন ডুসেলডর্ফ ও বার্লিনে।
‘যতই বছর যাচ্ছে আমার উপলব্ধি হচ্ছে, দিন কে দিন আমাদের স্বয়ং বিনাশের সম্ভাবনা প্রকটরূপ ধারণ করছে, এমন অবস্থা কিন্তু পূর্বে বিরাজমান ছিল না : এটা বলা হচ্ছে যে প্রকৃতি দুর্ভিক্ষ, খরা সৃষ্টিকারী অথচ দায় রয়েছে অন্যত্র, দায়ী মানুষ, এই আমরাই। তিনি বলেন, এখন আর প্রকৃতি নয় প্রথমবারের মতো আমরাই দায়ী, মানুষের অপার সম্ভাবনা এবং ক্ষমতাও রয়েছে এই আমাদের নিজেদের স্বয়ং ধ্বংস বা বিনাশকরণে এবং আমরা এখনো কিছুই করছি না এই বিপদ এড়াতে। এ সবকিছু একসঙ্গে আমাকে উপলব্ধি করিয়েছে যে আমাদের সব কিছু সসীম অথচ আমাদের হাতে অফুরন্ত সময় নেই।' কথাগুলো যিনি বলেছেন তিনি গুন্টার গ্রাস। শেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথাগুলো জানিয়েছেন মিডিয়াকে।
তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস টিন ড্রামে তিনি কৌতুক, বিস্ময়, প্রতিবাদ ও হিউমারের সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন জার্মানির যুদ্ধ অভিজ্ঞতাকে। গ্রাসের প্রায় প্রতিটি উপন্যাসে মাছ কিংবা প্রাণিজগতের সদস্যরা বিশেষ ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। মূলত শিল্পী ও স্থপতি আবার একই সঙ্গে কবি ও নাট্যকার; যার অতীত স্মৃতিময়, নাৎসিদের ব্যাখ্যাতীত নিষ্ঠুরতায় বিপর্যস্ত যে ছেলেবেলা। বাবা ছিলেন ছোট মাপের মানুষ, স্বল্প আয়ের সামান্য এক মুদি দোকানের মালিক; মা ভিন্ন সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূ; প্রিয় শহর ডানজিগে জন্ম ও বেড়ে ওঠা; 'টিন ড্রাম' ও 'ক্যাট অ্যান্ড মাউস' উপন্যাসে গভীর বেদনা ও গর্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এ শহরটি।
গুন্টার গ্রাস তার একটি উপন্যাসে সভ্যতার বিবর্তন দেখিয়েছেন যুগ যুগ ধরে মানুষের খাদ্য স্বভাবের মধ্য দিয়ে। মানুষ প্রথমে কাঁচা মাংস খেত, পরে আগুন আবিষ্কারের পর পুড়িয়ে খেতে শিখল, তারপর লবণের স্বাদ পেল। এভাবে স্বভাবের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সভ্যতার বিবর্তন ঘটেছে। রোমক সভ্যতার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তার অহমিকা। খাদ্য স্বভাবের মধ্য দিয়ে তার এই অহমিকা প্রকাশ পেত। গুন্টার গ্রাসের বক্তব্য হচ্ছে সভ্যতাকে ধরে রাখা যায় না, সে সামনের দিকে এগোতে থাকে এবং কখনও কখনও সে পুরানো ধারায় প্রত্যাবর্তন করে।
আলোচিত ব্লগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহসের পরিচয় দিয়েছেন
সৌদি আরব - তুরস্ক - পাকিস্তান জোটে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাত করেছেন। এ এক অসাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৯

শেখ হাসিনা ভারত চলে যাওয়ার পর, দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়।
ক্ষমতায় আসেন, ইউনুস। ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর সারা দেশ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। দেশের সমস্ত খারাপ লোকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাইনকা চিপা

এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে

বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে
রেডিওর ক্র্যাকল শব্দ ভেদ করে ভেসে আসা "আমার সোনার বাংলা", কিংবা কোনো বর্ষার সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলামের "কারার ঐ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।