
বাচ্চাটা ছুটির দিন ছাড়া বাবাকে কাছে পায় না।
১। অফিস থেকে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফেরার সময় দেখি- রাস্তার পাশে ফলের দোকানে নানান রকম ফল কি সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে। ঝকঝকে-তকতকে। দেখতে ভালো লাগে। খুব আগ্রহ নিয়ে আপেল কিনলাম, আঙ্গুর কিনলাম। কমলা কিনলাম। বাসায় এসে দেখি- বেছে বেছে আমাকেই সব ফল গুলো নষ্ট ফল দিয়েছে। কিন্তু আমি তো টাকা কম দেইনি। দোকানদার লোকটা বলল, আপনাকে একটা জিনিসও খারাপ দেব না। ব্যবসা একদিনের না। খাবেন আবার আমার কাছে আসবেন। বাসায় এসে বুঝতে পারলাম, লোকটা আমাকে মিথ্যা বলেছে। ফল গুলো কেনার সময় আমি বেছে নিতে পারিনি। আমার হাতের কাছ থেকে অনেক দূরে ছিল। দোকানদার মাপেও কম দিয়েছে। দোকানদার আমার সাথে প্রতারনা কেন করল? ধরে নিলাম লোকটা আমার কাছ থেকে পাঁচ শ' টাকাই লাভ করেছে। এই পাঁচ শ' টাকা দিয়ে তার কি হবে? কতদিন চলবে? আমার তো বাসায় এসে প্রচন্ড মন খারাপ হলো। কিন্তু কথা হলো- আমি যে দেখলাম, কি সুন্দর করে ঝকঝকে ভালো ফল গুলো সাজিয়ে রেখেছে- এই গুলো কারা খাবে? আমি যখনই কেনাকাটা করি- তখনই ঠক'ই। বারবার এমন হয়। ইদানিং কেনাকাটা করতে ভয় হয়। কিন্তু আমার সংসারের কেনাকাটা তো আমাকেই করতে হবে। অন্য কেউ তো এসে কেনাকাটা করে দিয়ে যাবে না।
২। মাছের বাজারে গেলাম। কি সুন্দর করে মাছ গুলো সাজিয়ে রেখেছে। ভয়াবহ দাম। দাম যতই হোক খেতে তো হবে, বাঁচতে হবে। বুকে হাত রেখে, খুব সাহস করে এক কেজি কিনে ফেললাম। বাসায় এসে দেখি- বেছে আমাকেই ছোট ছোট মাছ গুলো দিয়েছে। কিন্তু আমি তো দেখলাম বড় বড় মাছ গুলো কি সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে। মাছওয়ালার এই চালাকির কারন কি? আমি তো টাকা কম দেইনি। যা চেয়েছে তাই দিয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা- আমি নিজের চোখে দেখলাম- সব গুলো বড় মাছ। কিন্তু বাসায় এসে দেখি সব ছোট মাছ। আবার মাপেও কম। আজিব!!! কিন্তু আমি জানতে চাই সাজিয়ে রাখা বড় মাছ গুলো খায় কারা?
এক কেজি চিংড়ি মাছ কিনে বাসায় এসে মেপে দেখি চার শ' গ্রাম কম দিয়েছে। প্রতি সপ্তাহে বাজারে যাই- আর এই রকম ঘটনা ঘটে। এই রকম কি শুধু আমার সাথেই করে না সবার সাথেই এই রকম হয়? আমি তো কাউকে ঠকাই না। যেমন একদিন এক রিকশায় উঠলাম। আমি গন্তব্যে নেমে রিকশাওয়ালাকে বললাম কত? রিকশাওয়ালা ২০ টাকা ভাড়া কম বলল। আমি রিকশাওয়ালাকে বললাম ভাই, এই পথ দিয়ে আমি নিয়মিত যাতায়াত করি- ভাড়া তো ৭০ টাকা আপনি ৫০ টাকা বলছেন কেন? আমি তাকে ৫০ টাকা না দিয়ে ৭০ টাকা'ই দিলাম। তবে ঢাকা শহরের বেশির ভাগ রিকশাওয়ালাই বদ। বিরাট বদ।
৩। সেদিন দুপুরে আমার অফিসের কলিগদের নিয়ে একটা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম। আমরা মোট ৫ জন। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। ফ্রাইড রাইস, ভেজিটেবল, বীফ আর চিকেন ফ্রাই এবং কোক ফানটা। পর্যাপ্ত খাবার নিইনি, যেটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে কমই নিয়েছে। সব মিলিয়ে বিল হওয়ার কথা- ২২০০ টাকা। কিন্তু তারা বিল করল ৫৮০০ টাকা। আমি তো অবাক! সেখানে দেখলাম তারা সার্ভিস চার্জ নিয়েছে ১২০০ টাকা। আরে ব্যাটা সার্ভিস চার্জ কিরে? তোদের এখানে এসেছি তোরা তো খাবার এসে টেবিলে দিয়ে যাবি। এটাই স্বাভাবিক। এই জন্য তোদের ১২০০ শ' টাকা দিতে হবে? তারপর আবার ভ্যাট নিয়েছে প্রায় ৮০০ শ' টাকা। এই ভ্যাট কি সরকার পাবে? তোরা তোদের কাগজে লিখে নিয়ে এসেছিস। আজিব !!! তোদের খাবার না খেয়ে যদি হাজীর বিরানি খেতাম এক হাজার টাকায় আমাদের ৫ জনের ভর পুর হয়ে যেত। খেয়েও আরাম পেতাম। এবং ৪৮০০ টাকা বাচতো। তোদের এক টুকরো চিকেন ফ্রাই খেয়ে আরামও পাইনি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এই রকম স্বেচ্ছাচারিতা দেখার কি কেউ নেই?
৪। টেইলারসে একটা শার্ট এর মুজুরি নেয় ৪০০ টাকা এবং একটা প্যান্টের মুজুরি নেয় ৫০০ টাকা। এখন কথা হচ্ছে, একটা শার্ট বানাতে তাদের খরচ হয় ১২০ টাকা। তাহলে তারা ২৮০ টাকা বেশি নিচ্ছে কেন? এবং একটা প্যান্ট বানাতে তাদের খরচ হয় ১৩০ টাকা তাহলে তারা ৩৭০ টাকা বেশি নিচ্ছে কেন? হুম- তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিয়েছে লাভ করার জন্য। কিন্তু তার জন্য সাধারন মানূষের গলা কেটে তাদের লাভ করতে হবে? সমাজের প্রতিটা ক্ষেত্রে ঢুকে গেছে মিথ্যা ছল-চাতুরি আর প্রতারনা। সততার ভান করে একজন আরেকজনকে ঠাকাচ্ছে। এই গুলো কি কখনো বন্ধ হবে না?
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


