somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কিছু শৈশব

২৯ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি যখন ছোট মানে আমার যখন ১০/১২ বছর তখন গরুর মাংসের কেজি ছিল ৬০ টাকা। একটু দামাদামি করলে ৫৫ টাকায় দিত। আর আজ গরুর মাংসের কেজি ৫০০ টাকা। এক সময় ফার্মের মুরগীর ডিমের হালি ছিল ১০ টাকা। আর এখন এক হালি ডিমের দাম ৩০ টাকা। রং চা ছিল এক টাকা আর দুধ চা দুই টাকা। বাসা থেকে রিকশা করে পাঁচ টাকা দিয়ে মালিবাগ মোড়ে গিয়েছি। আজ বাসা থেকে মালিবাগ মোড় যেতে লাগে ৩০ টাকা। মা আমাকে মাঝে মাঝে বাজারে পাঠাতেন। ১২০ টাকা দিয়ে বড় একটা দেশি মুরগী কিনতাম। আজ ৪০০/৫০০ টাকার কমে দেশি মুরগী পাওয়া যায় না। ১ কেজি চাল কিনতাম ১২ টাকা দিয়ে আজ কিনি ৫৫ টাকা দিয়ে।

আজ থেকে ২০ বছর পর হয়তো এক কেজি মাংসের দাম হবে তিন হাজার টাকা। এক হালি ডিমের দাম হবে একশ' টাকা। একটা দেশি মুরগীর দাম হবে পনে শ' টাকা। এক কেজি চালের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বাসা থেকে মালিবাগ যেতে রিকশা ভাড়া লাগবে দেড় শ' টাকা। জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে একটু বেশি'ই বৃদ্ধি পায়। সরকারের সঠিক ব্যবস্থপনার অভাবে দব্য মূল্যের দাম হু হু করে বাড়ছে।

বিশেষ করে রোজার মাসে প্রতি বছর সরকার থেকে ঘোষনা হয়- রোজাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা যেন দব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি করতে না পারে তার জন্য সরকার নানান ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। ফলাফল শূন্য। ঈদের আগে লঞ্চ দুর্ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য সরকার আগে থেকে নানান ব্যবস্থা নেয়। ফলাফল শূন্য। বাসের টিকিট, লঞ্চের টিকিট এবং ট্রেনের টিকিট নিয়ে যেন কোনো সমস্যা না হয়- তার জন্যও সরকার নানান ব্যবস্থা নেয়- টিভিতে এই নিউজ দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত। সরকারের সব ধরনের পদক্ষেপের'ই ফলাফল শূন্য। এটা শুধু আওয়ামীলীগ বা বিএনপি না- যে দল'ই ক্ষমতায় থাকুক। ফলাফল একই।

দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৭ বছর পরও হাজার হাজার গ্রামে একটা স্কুল নেই। লাইব্রেরী তো দূরের কথা। হাসপাতাল নেই। ব্রীজ বা কালভাট নেই। ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে মেয়েরা সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে। কাঁচা রাস্তা। তবে প্রতিটা গ্রামে মসজিদ আছে। তবে মসজিদে নামাজ পড়ার লোক নেই। সরকার বলে দেশে উন্নয়নের জোড়ায় বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কি আসলেই উন্নয়নের জোড়ায় বয়ে যাচ্ছে? তাহলে দেশে এত দরিদ্র মানুষ কেন? তারা কাজ পায় না। তিন বেলা পেট ভরে খেতে পায় না। সরকারি হাসপাতাল গুলোতে গেলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। নোংরা পরিবেশ। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটা কাইকে কাইকে (পায়ে পায়ে) টাকা দিতে হয়। (সব সরকারের আমলে'ই)

ঢাকা শহরের গনপরিবহন অবস্থা কি খুব ভালো? দৌড়ে দৌড়ে বাসে উঠতে হয়। আবার চলন্ত বাস থেকেই নামতে হয়। বাসে সিট পাওয়া যায়, হেন্ডেল ধরে ঝুলে থাকতে হয়। পাচ টাকার ভাড়া দশ টাকা দিতে হয়। তারপরও মন্ত্রীরা কত চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলে। আমরা সবাই জানি, খালি কলস বাজে বেশি। আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা হলো- যোগ্যলোক যোগ্য পদে নেই। বড় বড় পদে যারা বসে আছে- বেশির ভাগ'ই অযোগ্য লোক। বিমান মন্ত্রী বা রেলমন্ত্রীর কথা'ই ধরুন। অথবা শিক্ষা মন্ত্রী, নৌ মন্ত্রী। সব শালা একই।

আজ থেকে ২০ বছর আগে, ছোটবেলায় গুলিস্তান, ফার্মগেট, গাবতলী, নবাবপুর, সদরঘাট অথবা যাত্রাবাড়ি যেমন দেখেছি, তার চেয়ে কি খুব বেশি পরিবর্তন হয়েছে? এসব জায়গা আরও বেশি খারাপ হয়েছে। সেখানে আজও দুষ্টলোক কিলবিল করছে। প্রতিদিন পকেটমার হয়। ফুটপাত দিয়ে হাটা যায় না। রাস্তার পাশে কঠিন সব রোগের ওষধ বিক্রি করছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১:৫৮
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×