
শরৎ সাহিত্যের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বর্মাকে বাঙালি জেনেছিল প্লেগের দেশ হিসেবে। মায়ানমার, অপরুপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর একটি দেশ। প্রাক্তন নাম বার্মা, প্রাচীন নাম ব্রহ্মদেশ। মায়ানমার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। মায়ানমারের রাজধানী নেপিদ। বার্মার নতুন নামকরণ করে 'মায়ানমার'। (১৯৮৯ সাল পর্যন্ত রেঙ্গুন নামে পরিচিত ছিল) ১৩ শতকের দিকে মায়ানমারে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন রাজ্য সৃস্টি হয়, যেমন- আভা, আরাকান। ১৮শ শতকে ব্রিটিশরা বার্মা দখল করে নেয়। ১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীনতা লাভ করে। মায়ানমারের ৮৫ শতাংশ লোক বৌদ্ধ; বাকি লোকেরা প্রধানত মুসলমান ও খ্রীষ্টান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিয়ানমারে জাপানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। মিয়ানমারের মোট আয়তন ৬৭৬,৫৫২ বর্গকিলোমিটার। মায়ানমারের পশ্চিমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ভারতের মিজোরাম। স্বাদু পানির মাছ পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণে, যা এখানকার খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। মায়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিগত বিদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমনে মায়ানমারকে বহুমুখী সাহায্যের হাত খুলে দেয় চীন। চীনের সমর্থন মায়ানমারের সামরিক জান্তাকে অধিকতর শক্তিশালী করে।

মিয়ানমার অর্থনীতিক ভাবে শক্তিশালী নয়। মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর অফিসিয়াল নাম টাটমাডো। তবে কাগজে-কলমে ‘দ্য মিলিটারি অব মিয়ানমার’ বলেই ডাকা হয়। মিয়ানমারের মোট সৈন্য সংখ্যা পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার। এর মধ্যে চার লাখ ৯২ হাজারই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। বিশ্বে এর চেয়ে বড় সশস্ত্র বাহিনী আছে মাত্র আটটি দেশের। সে হিসেবে মিয়ানমার বিশ্বে নবম। 'অং সান সু চি' সামরিকতন্ত্রের বিপক্ষে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ব্রিটিশ নাগরিক মাইকেল অ্যারিসকে বিয়ে করেন ১৯৭১ সালে। বিয়ের আগে স্বামী মাইকেলকেও বলে রেখেছিলেন সবকিছুর আগে তাঁর দেশ।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গোপসাগরে চারজন বাংলাদেশি জেলেদের উপর মায়ানমারের নৌবাহিনীর গুলি করে হত্যা করে। যাই হোক, বর্তমানে মায়ানমারের আরাকান অঞ্চলে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলছে নৃশংস নির্যাতন। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ থেকে ক্রমেই প্রবল হয়েছে এই নির্যাতন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মায়ানমার সরকার স্বাধীনতার লগ্ন থেকেই নাগরিক অধিকার দিতে অস্বীকার করে আসছে। মায়ানমার সরকার নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য সেদেশে মুসলিম নিধনের পাশাপাশি উগ্র বৌদ্ধদের হাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এ কারণে এই উগ্র বৌদ্ধরা সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে এবং মুসলিম নিধনযজ্ঞে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করছে।

প্রাচীন বাসিন্দারা এটাকে সোনার দেশ বলে ডাকত আর মায়ানমারে অনেক দামি-দামি সম্পদ রয়েছে: তেল ও গ্যাস, তামা, টিন, রুপো, টাঙ্গস্টেন এবং অন্যান্য খনিজ ও সেইসঙ্গে নীলকান্ত, পান্না, চুন্নি ও যসমের মতো মূল্যবান পাথর। মায়ানমারের লোকেরা ঐতিহ্যগতভাবে নম্র ও শান্তিপ্রিয় এবং ভদ্র ও অতিথিপরায়ণ। মায়ানমারে পুরুষ ও মহিলার প্রধান পোশাক হল লুঙ্গি। মায়ানমারের লোকেদের অনেক গুণ রয়েছে কারণ তারা রেশম বোনা, হাতে গড়া গহনা তৈরি ও কাঠের ওপর নকশা করার ব্যাপারে খুবই দক্ষ।

বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা কোন মহিলাকে না ছোঁয়ার জন্য শপথ নেন। তাই সম্মান দেখানোর জন্য মহিলারা সন্ন্যাসীদের খুব কাছে না যাওয়ার বিষয়ে খেয়াল রাখে। বাঙালি নেপাল-ভূটান-ভারত যায়। অথচ মায়ানমার নিয়ে তাদের অতটা উৎসাহ নেই। কিন্তু কেন? কলকাতা থেকে ইয়াঙ্গন সরাসরি বিমান চলাচল করে মাত্র দু-দিন। সরকার যদি সামান্য উদ্যোগীও হয়, তবে নেপাল-ভুটানের পাশাপাশি এই দেশেও পর্যটকের ঢল নামবে। সরকার যদি সামান্য উদ্যোগীও হয়, তবে নেপাল-ভুটানের পাশাপাশি এই দেশেও পর্যটকের ঢল নামবে। সরকার যদি সামান্য উদ্যোগীও হয়, তবে নেপাল-ভুটানের পাশাপাশি এই দেশেও পর্যটকের ঢল নামবে। বাংলাদেশ হতে বিমানে যাওয়া যায়, বিমান রুট হচ্ছে - ঢাকা-ব্যাংকক-মায়ানমার।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



