somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ঈশ্বর এই চোখে এত জল থাকে কেন?

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিয়ের সময় সব ছেলেরাই সুন্দর মেয়ে খোঁজে। সুন্দর মেয়ে বিয়ে করতে চায়। শুধু ছেলে না, ছেলের মা-বাবা, আত্মীয় স্বজন সবাই সুন্দর মেয়ে খোঁজে। ব্যাপারটা আমার কাছে খুব হাস্যকর লাগে। খুব অল্প সংখ্যাক মেয়ে দেবী প্রতিমার মতো সুন্দর হয়। আমাদের দেশের সব মেয়ে সুন্দর না। কেউ কালো, কেউ মোটা, কেউ বেটে, কেউ রুক্ষ, কেউ বেশি শুকনা, কারো নাক বোচা ইত্যাদি নানান সমস্যা। শেক্সপিয়ার তার 'ম্যাকবেথ' এ বলেছেন- সুন্দরী মেয়েদের মধ্যে সততা আশা করা ভুল।

একটা গল্প বলি- মেয়েটির নাম রুপা। রুপা খ্রিস্টান। একটা নামকরা পার্লারে কাজ করে। আট ঘন্টা ডিউটি। ১৩ হাজার টাকা বেতন পায়। মেয়েটি অনার্স করেছে বাংলায়। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় রুপার একবার কঠিন অসুখ করে, ছয় মাস পর অসুখ ছেড়ে যায় কিন্তু তারপর থেকে রুপা মোটা হতে থাকে। এখন তার ওজন এক শ' সতের কেজি। দেখতে তথাকথিত সুন্দরী নয়। ছেলেরা দেরীতে বিয়ে করলে সমস্যা নাই কিন্তু মেয়েদের দেরীতের বিয়ে দিলে নানান সমস্যা হয়। একটা বয়সের পর মেয়েদের আর বিয়ে খুব একটা হয় না। এরকম বিয়ে না হওয়া মেয়েদের সংখ্য অনেক।

রুপা একটা ছেলের সাথে প্রেম করলো প্রায় চার বছর। ছেলেটা বেকার। নাম- রাজু। ছেলেটা মুসলিম। হাজার বার লক্ষ বার চাকরির চেষ্টা করেছে। খুব ছোট একটা পদের চাকরি জোটাতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। ছেলেটা দরিদ্র বাবার সন্তান। অনেক গুলো ভাই বোন, সবারই একই অবস্থা। ছোট্র একটা বাসায় সবাই গাদাগাদি করে থাকে। ছেলেটার ইচ্ছা একটা চাকরির পেলেই বিয়ে করবে রুপাকে। এদিকে রুপার বাবা মা রুপার জন্য ছেলে দেখছে। যেহেতু রুপা দেখতে সুন্দর না। তার উপর আবার খুব মোটা। গায়ের রঙ কালো। কাজেই ভালো ছেলে পাওয়া যাবে না। যা দুই চারজন আসছে সব বয়স্ক লোক, মাথা টাক। রুপা কেন সুন্দর না এই জন্য রুপার বাবা-মার এক আকাশ কষ্ট।

ঠিক এই রকম অবস্থায় রুপা বেকার ছেলেটাকে বিয়ে করে ফেলল। রুপার বাবা মা রুপাকে বাসা থেকে বের করে দিল। রাজুর বাবা মা বলল- বিয়ে করেছো, ভালো করেছো। এইবার চড়ে খাও। আমার বাসায় তোমাদের জায়গা নাই। রুপা আর রাজু পড়লো ভয়াবহ বিপদে। এই রুপা আর রাজু শীতের মধ্যে খিলগাও রেল লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দুইজন'ই শীতে কাঁপছে। তাদের সাথে কোনো টাকা নেই। দুপুর থেকে তারা না খাওয়া। মাসের শেষ। মেয়েটার কাছে অল্প কয়েকটা টাকা ছিল- তা দিয়েই বিয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন দু'জন কি করবে, কোথায় যাবে কিচ্ছু জানে না।

এই রুপাকে আমি চিনি না। তবে এই রুপা যখন ছোট ছিল- তখন আমি তাকে চিনতাম। আমাদের এলাকায় একটা টিনসেড বাড়িতে ভাড়া ছিল। কি সুন্দর কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে, মাথায় দুইটা ঝুটি করে স্কুলে যেত। এই মেয়ের আজ এই অবস্থা! রুপাকে দেখে আমার খুব খারাপ লাগলো। কি দেখেছি, আর আজ কি অবস্থা!!
আমি রুপা আর রাজুকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে বসলাম তাদেরকে ভাত খাওয়ালাম। রুপা আমাকে সব ঘটনা বলল। আর এই ফাঁকে রাজু আমার সিগারেটের পেকেট থেকে একটার পর একটা সিগারেট শেষ করতে লাগল। আমি তাদের একটা বাড়ির ছাদে থাকার ব্যবস্থা করে দিলাম। ভাড়া পাঁচ হাজার টাকা। প্রথম মাসের টাকা আমিই দিয়ে দিলাম। রুপার হাতে কিছু টাকা দিলাম।

এই ঘটনার তিন দিন পর রুপা আমার বাসায় এসে হাজির। রাজুর একটা চাকরির ব্যবস্থা করেই দিতে হবে। রাজু ছেলেটাকে আমার ভালো মনে হয়নি। মনে হচ্ছে ছেলে অতি দুষ্ট। আর আমি অবশ্যই দুষ্টলোকের জন্য কিছু করি না। এদিকে সুরভির সাথে রুপার খুব খাতির হলো। সুরভি প্রায়ই রুপার সাথে মোবাইলে কথা বলে। রুপা বাসায় এসে থালা বাটি, গ্লাস, বালিশ কম্বল ইত্যাদি অনেক কিছু নিয়ে গেছে।
আমি সুরভিকে বললাম, তুমি এত সব দিতে গেলে কেন? সুরভি বলল, যা শীত পড়েছে, নতুন সংসার- কাথা বালিশ কিছুই নাই। পানি খাওয়ার গ্লাসও নাই। এত মায়া লাগলো।

রুপা আর রাজুর বর্তমান অবস্থা হলো- রাজু সারাদিন বাসায় বসে থাকে। রুপা তার অফিস শেষ করে, বাজার নিয়ে বাসায় ফিরে- রান্না করে। তারপর দু'জন মিলে খায়। বাজার বলতে মাছ মাংস না। আলু অথবা কলমি শাক। এক কেজি চাল। সুরভি প্রায়ই রান্না করে রুপাকে ফোন দেয়- রুপা বাসায় এসে দু'জনের ভাত তরকারি নিয়ে যায়। প্রায় ছয় মাস ধরে এই রকমই চলছে।

আমি সুরভিকে বললাম- আমার ধারনা রাজু রুপার সাথে আর বেশি দিন থাকবে না। আরও কিছু দিন যৌনতা উপভোগ করে ভাগবে। রুপা কাঁদবে। সারা জীবন কাঁদবে। রুপা নির্বোধ। বাবা মার বাসা থেকে বের হয়ে এই ছেলেকে বিয়ে করাটাই রুপার মস্ত বড় ভুল হয়েছে। রুপা ভুল মানূষকে ভালোবেসেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৭
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্প না

লিখেছেন নীলপরি, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩৫




তুলে রেখেছি এক চিলতে কল্পনা
আর অল্প একটু জল্পনা
জেনো , এসবই হোলো গল্পনা!


যখন জ্যোৎস্না-নদী হাত বাড়িয়ে ডাকে
রাত-পাখী চোখ খুলে রাখে
ওরাই তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার অ্যাটাক

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৫০



রাত ১২।০০ বাজে। ঢাকার অদূরে উপশহরের নির্জন এক বাগান বাড়ির হলুদ রঙা তিন তলা বিল্ডিং এর ২য় তলায় জঙ্গিদের সভা বসেছে। বিদ্যুৎ থাকলেও সবক’টা বাতি নিভিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে সভাকক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ভাঙাচোরা স্বপ্ন

লিখেছেন স্রাঞ্জি সে, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৭



নির্ঘুম রাত প্রহরী আমি এক ব্যর্থ কিশোর
ঘোমট তিমির অন্দরে ডুবে থাকা সব স্বপ্ন,
সবি আশার দেনাপাওনা নীলাভ গভীরে প্রোথিত হয়ে
একচ্ছত্র হারিয়ে যাওয়ার শূন্যতার অনুভবে মগ্ন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা এবং ডঃ কামাল হোসেন দ্বন্দ্ব ও আওয়ামী লীগ থেকে কামাল হোসেনের বেরিয়ে আসার সেই দিনগুলো কেমন ছিল ? :(

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৯


শেখ হাসিনা এবং ডঃ কামাল হোসেন দ্বন্দ্ব ও আওয়ামী লীগ থেকে কামাল হোসেনের বেরিয়ে আসার সেই দিনগুলো কেমন ছিল ? :(
১৯৯১ সালের নির্বাচন। সে নির্বাচনে জয়লাভের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ছাড়া কে এমন ভালোবাসবে?

লিখেছেন সামিয়া, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৮




তোমার অদৃশ্য রুপ দেখতে দেখতে একদিন স্পষ্ট বাস্তব,বিশাল সমুদ্রের শূন্যতার ভেতরে উত্তাল তবু একাকীত্ব জীবনের মোড় নিল নতুন জীবনে।
দিগন্ত রেখার বাইরে নিয়ে যায় সে জীবন রোজ রোজ নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×