somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

পথের পাঁচালী

০৩ রা জুন, ২০১৮ রাত ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পথের পাঁচালী মুভির একটি দৃশ্য। দুর্গা তার বাবার কোলে বসে আছে। দুর্গার মা রান্না করছেন।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের রুচিবোধ বদলায়। এই আমার নিজের কথাই বলি, একসময় শুধু মারামারির মুভি দেখতে ভালো লাগতো। এখন মারামারির ছবি দেখতে একটুও ভালো লাগে না। বিয়ের আগে খুব রোমান্টিক মুভি দেখতাম। এখন রোমান্টিক মুভিও ভালো লাগে না। এখন সময় পেলেই সাসপেন্স, রহস্য, গোয়েন্দা ও মনস্তাতিক মুভি দেখি। ভূতের ছবি দেখি না। ভালো লাগে না। গতকাল রাতে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' বহু বছর পর আবার দেখলাম। মুগ্ধ হলাম। কষ্ট পেলাম। স্কুলে পড়ার সময় যখন পথের পাঁচালী বইটি পড়েছিলাম দারুন কষ্ট হয়েছিল মনে। মুভি দেখেও একই অবস্থা। কিছু কিছু দৃশ মাথায় ভেতর ঢুকে বসে আছে। হুটহাট করে সেই দৃশ গুলো চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ধরা দেয়। তখন খুব কষ্ট হয়। খুব।

উপন্যাসটিতে গ্রামের নাম থাকে নিশ্চিন্দিপুর। অপু আর দুর্গা এই দুই ভাই বোন যেন আমার আপন আত্মীয় স্বজন। তাদের আনন্দে আনন্দ পাই, দুঃখ কষ্টে হই ব্যথিত। আমি জানি, সব বাঙ্গালী'ই পথের পাঁচালী বইটি পড়েছেন, যারা বইটি পড়েননি তারা মুভিটি দেখেছেন। অপু আর দুর্গার বাবা হরিহর একজন পুরোহিত। রোজগার অতি সামান্য। তিনি শিক্ষিত সজ্জন ব্যাক্তি। তিনি বউ আর ছেলে মেয়ে নিয়ে সহজ সরল সুন্দর স্বপ্ন দেখেন। হরিহরের মেয়ে দুর্গা আশে পাশের কারো বাড়িতে গেলেই খুব সামান্য কিছু এটা ওটা চুরী করে আনে। হয়তো একটা পেয়ারা অথবা একটা পুতির মালা। দুর্গা মেয়েটি ওষুধের অভাবে মারা যায়। তখন তারা বাবা পাশে ছিলেন না। অপু আর দুর্গার মতো আমাদের দেশে আজও লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ে আছে। তারা এক আকাশ অভাব নিয়ে বড় হচ্ছে। অথচ তাদের দু'চোখ ভরা স্বপ্ন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পথের পাঁচালী উপন্যাসটি পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন।

আমি গত এক সপ্তাহ ধরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে ব্যাপক পড়াশোনা শুরু করেছি। আমার জানার আগ্রহটা খুব বেশি। এজন্য আমি অনেক পরিশ্রম করতে রাজী আছি। বিভূতিভূষনের প্রথম উপন্যাস 'পথের পাঁচালী'। তার বেশির ভাগ লেখায় থাকে গ্রাম, দারিদ্রতা, অভাব, আশা, পাওয়া না পাওয়া, স্বপ্ন, জীবনবোধ আর প্রকৃতি থাকবেই। বিভূতিভূষন সারাটা জীবন খুব সহজ সরল সাধারন ভাবে জীবন যাপন করেছেন। যারা গ্রামে থাকেন অথবা গ্রামে বড় হয়েছেন তারা পথের পাঁচালী মুভির প্রতিটা দৃশ্য দেখে নিজের সাথে মিলিয়ে নিতে পারবেন। উপন্যাস অথবা সিনেমা দু'টোই আপনাকে মুগ্ধ করবে। সত্যজিৎ অসাধারন একজন মানুষ। তার তুলনা হয় না। সব শ্রেণি পেশা এবং বয়সের মানুষ এই মুভিটি দেখতে পারেন। আমি যদি সত্যজিৎ আর আমাদের হুমায়ূন আহমেদেকে একই মাপের মানুষ বলি- সেটা কি আমার ভুল হবে?

পথের পাঁচালী মুভির এই একটা দৃশ্য ইচ্ছা হলে দেখতে পারেন। আমার ধারনা আপনাদের ভালো লাগবে। পথের পাঁচালী মুভির তিন মিনিটের একটা দৃশ্য দেখুন প্রায় ৬৪ বছর আগে এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলেন সত্যজিৎ। এই মুভি নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক ধারদেনা করতে হয়েছিল। স্ত্রী গহনা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল। টাকার অভাবে এই সিনেমা নির্মাণ অনেকদিন বন্ধও ছিল। আমার প্রিয় পরিচালক সত্যজিৎ মোট ৩৬ টি ছবি নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।
ও বলতে ভুলে গেছি, এই উপন্যাসে একজন খুনখুনে বুড়ি আছে নাম ইন্দিরা। এই চরিত্রটি অসাধারন। সিনেমাতে দারুন অভিনয় করেছেন। আমাদের দেশের অনেক অভিনয় শিল্পীর উচিত এই বুড়ির অভিনয় দেখে শিক্ষা নেওয়া। লেখক বিভূতিভূষন তার এই উপন্যাসে যেন বাংলার প্রতিটা গ্রামের দুঃখ-কষ্ট বাস্তব ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই লেখক আমাদের ভাষা আন্দোলনের আগেই ১৯৫০ সালে মৃত্যুবরন করেন।

আমার বিশ্বাস এযুগে এসেও কেউ এই মুভি দেখে বিরক্ত হবে না। বিভূতিভুষনের বাবা কবিরাজ ছিলেন। এটা তাদের বংশ গত পেশা। ১৯১৭ সাথে বিভূতি ভালোবেসে বিয়ে করেন গৌরিকে। বিয়ের এক বছর পর তার স্ত্রী গৌরি কলেরা রোগে মারা যান। তখন তিনি শিক্ষাকতা করতেন। স্কুলের একটি ফাঁকা ঘরে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিভূতি তখন প্ল্যানচেট করে স্ত্রীকে কাছে ডাকতে চেষ্টা করতেন। ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়। শেষ বয়সে তিন আরেকটি বিয়ে করেন।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৮ রাত ১১:১৩
২৭টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্প।। অন্ধ আয়নার গল্প।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৫







অন্ধ আয়নার গল্প
দ্বীপ সরকার


ঘরটা খুব বড় নয়। এর ভেতরে এক ধরনের নীরবতা ছড়িয়ে আছে। দেয়ালগুলোর অবস্থা এমন যে, সিমেন্ট বালু কোথাও ঝুর ঝুর করে পরছে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদীর টানে, সবুজের গানে

লিখেছেন মাকার মাহিতা, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

বয়ে চলে নদী দূর হতে দূরে,
অনন্তকালের শান্ত এক সুরে।
তার দুই কূলে রূপের মেলা,
সবুজ প্রকৃতির মিষ্টি খেলা।
হাওয়ায় দোলে ঘাস আর বন,
আকাশের সাথে মেলায় মন।
নদীর জলে আলোর ঝিলিক,
বাতাসে মেশে পাখির কিচিরমিচির।
গাছের ছায়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×