somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

দেখুন লেখালেখি করা কত সহজ

০৪ ঠা জুন, ২০১৮ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যারা নতুন ব্লগার তারা লক্ষ্য করুন আমি এই পোষ্টটি কিভাবে লিখছি। ব্লগে অনেকেই দেখেছি ৫/৬ বছর ধরে ব্লগে আছেন কিন্তু একটা লেখাও লিখেন নি। লেখা তো কঠিন কিছু না। পড়া ভালো কিন্তু কিছু লেখা কি খারাপ? কাজেই আমি চাই ব্লগে যারা আছেন তারা সবাই লিখবেন। আপনারা কি শুধু অন্যের পোষ্ট পড়েই যাবেন? আর মাঝে মাঝে মন্তব্য করে যাবেন? নো নেভার। আপনারা এখন থেকে লিখবেন। কে কি ভাবলো অথবা কে কি বলল, সেটা গায়ে মাখবেন না। গাইতে গাইতে যেমন গায়ক হয়, তেমনি লিখতে লিখতে লেখক হয়ে যাবেন। দেখুন, আমার লেখার মান খুব খারাপ। বড্ড অগোছালো। লেখা এত খারাপ যে নিজের উপরই রাগ লাগে। জগা খিচুরী টাইপ লেখা। কত মানুষ যে আমার লেখা নিয়ে হাসাহাসি করেছেন। আমাকে অপমান অবহেলা করেছেন তার হিসাব নাই। সামুতে আমার পুরান পোষ্ট গুলোতে তার যথেষ্ট প্রমান আছে। তারপরও আমি গত আট বছর ধরে নানান রকম লেখা লিখে চলেছি। কেউ আমাকে থামাতে পারেনি। কাজেই আপনারা যারা নতুন ব্লগার এবং যারা শুধু পোষ্ট পড়েন আমি তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করবো আপনারা লিখুন। আমরা আপনাদের লেখা আন্তরিকতার সাথে পড়বো এবং মন্তব্য করবো।

আগে তো কাগজ কলমে লিখতাম। এখন লিখি কীবোর্ডে। লিখতে চাইলে লেখার বিষয়ের কোনো অভাব নেই। প্রতিটা মানূষের অনেক কথা থাকে। মানুষ বলতে চায়। আমি বিশ্বাস করি, লিখে লিখে পৃথিবীটা বদলানো সম্ভব। আমার একটা সমস্যা হলো যদি মনে মনে একবার ভাবি, 'অমুক' বিষয়টা নিয়ে লিখব। সেই বিষয়টা না লেখা পর্যন্ত শান্তি পাই না। প্রচন্ড অস্থির লাগে। লেখার পর অস্থিরতা কেটে যায়। চারপাশে যা দেখবেন, তাই'ই লিখে ফেলবেন। যেমন ধরুন আজ সকাল আট টায় বাসা থেকে বের হয়েছি। যাবো উত্তরা। একটা কোম্পানীর সাথে আমার মিটিং আছে ১২ টায়। চার ঘন্টা আগে বাসা থেকে বের হয়েছি। জ্যামের কথা বলার কিছু নেই। সবাই জানে। মালিবাগ মোড় থেকে মগবাজার পার হতে আমার সময় লেগেছে দেড় ঘন্টা। অথচ বাসে তিন মিনিটের পথ। বাসের ভেতরে প্রচন্ড গরম। এদিকে ড্রাইভার সাহেব ওয়াজ বাজাচ্ছেন। খুব মন দিয়ে ওয়াজ শুনছি। আর প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছি। মিথ্যা বলবো না, হুজুদের ওয়াজ আমার কাছে বিনোদনের অংশ। হুজুররা সুর করে টেনে টেনে ওয়াজ করেন। কখনও কখনও চিৎকার করে ওঠেন। আমার মনে হয় কোনো সুস্থ এবং রুচিশীল মানুষের পক্ষে ওয়াজ শোনা সম্ভব না। দেশে আইন করে ওয়াজ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কোনদিন কার উপকার হয়েছে এই সমস্ত ওয়াজ শুনে?

আমার আজকাল জ্যামে বিরক্ত লাগে না। শুধু একটূ বসার জায়গা পেলেই আমি খুশি। মোবাইলে বেশ কিছু বই ডাউন লোড করে রেখেছি। আর গেমস তো আছেই। একটার পর একটা চলে। এই বই পড়ছি, এই গেমস খেলছি, এই আশে পাশের মানূষজন দেখছি। বাসের যাত্রীরা কি নিয়ে আলোচনা করছে মন দিয়ে তা-ও শুনছি। আবার কখনও ভাবি আজ ব্লগে কি লিখব। লেখাটা মাথার মধ্যে সাঁজাই। খুব সুন্দর সময় কেটে যায়। এক কথায় চমৎকার। বাসের ড্রাইভারকে বলতে বাধ্য হলাম, ড্রাইভার সাহেব ওয়াজটা বন্ধ করেন। আর ভালো লাগছে না। এর চেয়ে ভালো একটা রবীন্দ্র সংগীত শোনান। পেছন থেকে এক যাত্রী আমার উপর রেগে গেলেন। তিনি বললেন, অই মিয়া আপনে কি হিন্দু? ওয়াজ না শুনতে চাইলে বাস থেকে নেমে যান। ধর্মের কথা শুনতে ভালো লাগে না? নাস্তিক। ইত্যাদি ইত্যাদি বলে যেতেই লাগলেন। তার সাথে আরও কয়েকজন যাত্রী যোগ দিলেন। আমি চুপ করে থাকলাম। তৃতীয় শ্রেণির মানসিকতার মানূষদের সাথে কথা বলে লাভ নেই। তাদের জগত আলোকিত নয়। সবচেয়ে দুঃখের কথা তাদেরকে আলোকিত করার চেষ্টা করাও বৃথা। আমি কিন্তু ইচ্ছা করলে উবার ডেকে আরামে যেতে পারি আমার গন্তব্যে এসির ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগিয়ে। উবারে গেলে অনেক বিনোদন থেকে বঞ্চিত হতাম।

অবশেষে গন্তব্যে বারোটায় পৌছাতে পারলাম। টানা দেড় ঘন্টা মিটিং চলল। আমাকে তারা কোনো কিছুতেই আটকাতে পারেনি। বাইম মাছের মতো পিছলে বের হয়ে গেছি। হি হি হি। মিটিং ফলপ্রসূ হয়েছে। দেখুন, ভালো করে লক্ষ্য করুন- নতুন ব্লগারবৃন্দ এবং যারা লিখতে ভয় পান বা লিখেন না। লেখা কিভাবে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। আহামরি কিন্তু কিচ্ছু লিখিনি। মনে দাগ কাটার মতোও কিছু লিখিনি। যাই হোক, এইবার আপনাদের একটা ধাক্কা দিব। মিটিং শেষ করে উত্তরা মাসকট প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। পড়েই যাচ্ছে। এখন আমি অফিসে ফিরবো। রোজার জন্য অফিস সাড়ে চারটায় ছুটি দিয়ে দেয়। অবশ্য অফিসে না গেলেও সমস্যা নাই। মিটিং এর সারমর্ম মেইল করে দিয়েছি সিইও'কে। খুব সুন্দর একটা মেয়ে, খুব সুন্দর করে ছাতা মেলে একটু একটু করে ছোট ছোট পায়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। মেয়েটা আমাকে বলল, কেমন আছো? মেয়েটার চোখ খুব সুন্দর। চোখে আবার মোটা করে কাজলও দিয়েছে। মেয়েটির সারা চোখে মুখে এক আকাশ মায়া। মেয়েটা কে আমি কিছুতেই মনে করতে পারছি না! অথচ কি সুন্দর করে আমাকে বলল, কেমন আছো? আমি মনে মনে ভাবলাম আপাতত এই মেয়েটার সঙ্গ কিছুক্ষন উপভোগ করা যাক। সুন্দরী একটা মেয়ে পাশে থাকলেও ভালো লাগে।

আমরা দুইজন মাসকট প্লাজার ভিতরে প্রবেশ করলাম। মার্কেটে প্রচন্ড ভিড়। সুনসান নিরবতার চেয়ে ভিড়ভাট্রা'ই আমার বেশি ভালো লাগে। আর মেয়েটি তো আমার প্রেমিকা না। যে নির্জন জায়গা খুজবো।
মেয়েটি বলল, কত বছর পর দেখা বলতো?
আমি হেসে দিলাম।
মেয়েটি'ই বলল, প্রায় সাত বছর। আমি এখন অস্টেলিয়া থাকি। ঈদের পর আবার সেখানে ফিরে যাবো।
আমি বললাম, তুমি কি বিয়ে করেছো?
মেয়েটা বলল, করেছিলাম। ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আরও হাবিজাবি অনেক কথাবার্তা চলল।
এরপর আমরা ফোন নাম্বার আদান প্রদান করলাম। দুইজন'ই আবার দেখা হবে কথা দিলাম।
মেয়েটা বিদায় নিয়ে চলে যাবার আগে আমি বললাম, ক্যান আই গিভ ইউ অ্যা বিগ টাইট হাগ?
মেয়েটা আমাকে প্রচন্ড বেগে জড়িয়ে ধরলো।
আমার মনে হলো আমাদের চারপাশে কেউ নেই। শুধু আমি আর নীলা ছাড়া।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১৮ রাত ১০:৫৯
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদীর টানে, সবুজের গানে

লিখেছেন মাকার মাহিতা, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

বয়ে চলে নদী দূর হতে দূরে,
অনন্তকালের শান্ত এক সুরে।
তার দুই কূলে রূপের মেলা,
সবুজ প্রকৃতির মিষ্টি খেলা।
হাওয়ায় দোলে ঘাস আর বন,
আকাশের সাথে মেলায় মন।
নদীর জলে আলোর ঝিলিক,
বাতাসে মেশে পাখির কিচিরমিচির।
গাছের ছায়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×