
এই ছবিটার ছোট্র একটা ইতিহাস আছে।
অফিসে বসে কাজ করছি। সব রুমে এসি আছে, আমার রুমে এসি নাই। ফ্যানে কাজ হয় না তাই জানালা খুলে রেখেছি। জানালা দিয়ে এই ফড়িং আমার রুমে ঢুকে পড়ল। বেচারা কি করবে বাইরে প্রচন্ড রোদ। মানুষই টিকতে পারে না। আমার সিমফনি পি-৬ দিয়ে ফড়িংটার একটা ছবি তুলে রাখলাম।
১। যে যাই বলুন, আমের মধ্যে সেরা জাত হচ্ছে হিমসাগর। মুখেই দিলেই মনটা খুশিতে ভরে যায়। প্রচন্ড মিষ্টি। দেখতেও খুব সুন্দর। এ পর্যন্ত আমি বাসার জন্য তেইশ কেজি হিমসাগর আমি কিনেছি। আরও কিনব। ফ্রিজ ভর্তি আম। গতকাল রাতে ভাত খাইনি। শুধু আম খেয়েছি। দামও সস্তা। হিমসাগর ছোট গুলো পাওয়া ৬০/৬৫ টাকা কেজি। বড় গুলো ৮০ টাকা কেজি। হিমসাগরের পড়ে আছে ল্যাংড়া আম। এই আমটাও বেশ ভালো। আমার ছাদে একটা আম গাছ আছে। চার বছর হয়ে গেল কিন্তু আম হয় না। বিক্রেতা বলেছিল সারা বছর আম পাবেন। আগামী বছর যদি আম না হয় তাহলে গাছটি ফেলে দিব।
২। ইফতারের আগে বাসায় ফিরতে সবার কি তাড়া! কি ব্যস্ততা! বাসের জন্য অনেক লোক অসহায় মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকে। বাস আর আসে না। এলেও ধাক্কাধাক্কি করে সবাই সফল হতে পারে না।
লোকজন পাগলের মতোন ইফতারি কিনছেন। প্রচন্ড ধাক্কাধাক্কি, হইচই। বিক্রেতারাও পাগলের মতোন বিক্রি করছেন।
ফলের দোকানে কেউ আপেল কিনছেন, কেউ কিনছেন আম। সবাই খুব ব্যস্ত।
সবার এই ব্যস্ততা দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাদের ব্যস্ততা দেখি। মনে হয়, আমাদের দেশের মানুষ গুলো খুব মন্দ নয়।
৩। সরকার বাজেট ঘোষনার আগে যে জিনিসটার দাম বাড়ে তা হলো সিগারেট। গত দুই সপ্তাহ ধরে একটা সিগারেট বারো টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছি। স্বর্নের দামের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে সিগারেটের দাম। সেই সাথে বাড়ছে হাহাকার। হয়তো ২০২০ সালে- সিগারাটের মুল্য বৃদ্ধিতে জেলায় জেলায় হরতাল, মানবন্ধন, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। দাবি মেনে না নিলে দেশ অচল করে দেওয়ার হুমকি আসবে। তা না হলে- ২০২৫ সালে- এক প্যাকেট সিগারেট ভাগাভাগির জের ধরে দুই পক্ষের মধ্য তুমুল সংঘর্ষ হবে।
৪। খিলগা- শাহজাহানপুর ওভার ব্রীজের আগে ছোট্র একটা মাংসের দোকান আছে। দোকানের নাম খলিল মাংস বিতান। প্রতিদিন তারা কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ গরু টা জবাই করে। বিশেষ বিশেষ দিনে গরু জবাইয়ের সংখ্যা দ্বিগুন হয়। খলিলের দোকান থেকে মানুষজন পাগলের মতো মাংস কিনে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ঈদের আগে দেখা যায়- মানুষজন লাইন ধরে মাংস কিনছে। ব্যাংকে বিল দিতে গেলে যেমন লম্বা লাইন ধরতে হয় ঠিক মাংস কিনতে গেলেও লম্বা লাইন ধরতে হয়। অনেক পুরোনো দোকান। এই দোকানের মালিক এখন অনেক টাকার মালিক। সে তার মাংসের দোকানেরর পাশে চার কাঠা জায়গা কিনেছে। সেখানে একটা ছয় তলা বিল্ডিং তুলেছে। এক দুই তোলায় সে ফার্নিচারের ব্যবসা করে। আর উপরের সব ফ্লোর ভাড়া দেওয়া। যাই হোক, অসংখ্য লোক অনেক দূর থেকেও তার কাছে মাংস কিনতে আসে। এই লোক মানুষজনকে ঠকায়। আপনি যদি পাঁচ কেজি গরুর মাংস কিনেন- বাসায় এসে দেখবেন এক কেজি ফেলে দিতে হবে। আপনি যতই সামনে থাকুন। আপনার চোখে ধুলো দিয়ে তেল, চর্বি এবং অপ্রয়োজনীয় হাড় দিয়ে দিবেই। সব মাংস বিক্রেতারা (কসাই) এই কাজ করেই। আর আমার লেখার বিষয়ও এটা না। খলিল মাংস বিক্রি করুক, ফার্নিচার বিক্রি করুক তাতে আমার কিছু যায় আসে না। সমস্যা অন্য জাগায়।
খলিল তার দোকানের সামনে, রাস্তায় ফুটপাতে গরু জবাই করে। প্রতি দুই ঘন্টা পরপর একটা করে গরু জবাই দেয়। এই রাস্তা দিয়ে অসংখ্য লোক প্রতিদিন যাতায়াত করে। মাংসের দোকানের পাশেই কোচিং সেন্টার। ছোট ছোট বাচ্চারা সেখানে পড়ে। আমি দেখেছি, পথচারী ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। ছোট ছোট বাচ্চারা ভয়ে বাবা মাকে জড়িয়ে ধরে। ব্যস্ত রাস্তায় অসংখ্য মানুষের চোখের সামনেই প্রতিদিন ঘন্টায় ঘন্টায় গরু জবাই হচ্ছে। খলিলের টাকার পয়সার উন্নতি দেখে ওই একই রাস্তায় আরও দুইটা মাংসের দোকান দেওয়া হয়েছে। তারাও রাস্তায় গরু জবাই করছে। পুলিশ কিচ্ছু বলে না। কেন কিচ্ছু বলে না তা নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পেরেছেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

