
১। সব সময় যারা বই পড়ে আর থিয়োরি কপচায়, তারা দেশের কোনো কাজে লাগে না-ঠিক এই কথা ভাবতে-ভাবতে, একজন কবি শাহবাগের ব্যস্ত রাস্তা পার হচ্ছেন। কবির বয়স এখন পঞ্চাশ, এই বয়সে ভালোবাসা রুপান্তরিত হয়- স্নেহ মমতায়। কবির ধারনা, ভালোবাসার চেয়ে স্নেহ ও মমতার শক্তি অনেক বেশি।
উদ্দেশ্যবিহীন হাঁটতে হাঁটতে কবি নিউ মার্কেট এলাকার দিকে চলে আসছেন-
একা একা তার রাস্তায় হাঁটতে মন্দ লাগে না, অনেক রকম 'মানুষ' দেখা যায়
দুঃখজনক ব্যাপার হলো- নদী কখনও থামে না, মানুষের জীবন হঠাৎ থেমে যায়।
কবির চায়ের পিপাসা পেয়েছে, রাস্তার পাশের দোকান থেকে এক কাপ চা হাতে নিলেন. চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে তার মেজাজ বিগড়ে গেল, চা না গরুর মুত খাওয়াচ্ছে? কবি সহ্য করে গেলেন। কবিদের সহ্য করার ক্ষমতা অসীম। চা ফেলে দিয়ে একটা পান চাইলেন- খয়ার ছাড়া, জর্দা ছাড়া। বিয়ে বাড়িতে তিনি অনেককে দেখেছেন- খাওয়ার পর কেউ কেউ একসাথে তিনটা পান
মুখে দিয়ে জন্তুদের মতো চিবোয় সেই অবস্থায় আবার কথা বলেতে আসে। ছিঃ। পান মুখে দিয়ে কবির মেজাজ আবারও বিগড়ে গেল- পান দোকানদার বিরাট বদ, না করা সর্তেও জর্দা ও খয়ার দু'টোই দিয়েছে। এই দেশের এই জন্যই কোনো উন্নতি হচ্ছে না- কবি মনে মনে বললেন। তার ইচ্ছা করছে পানওয়ালার শার্টের কলার ধরে, কানের নিচে একটা দিতে। ঠিক এই মুহূর্তে কবির মাথায় একটা কবিতার লাইন চলে এলো-'নগরে যারা থাকে, তারা সবাই নাগরিক চেতনাসম্পন্ন হয় না।'
২। মন্দ কথা বলবেন না। মন্দ কথা ছাড়ুন। মন্দ কথায় কোনো লাভ নেই। উপকার নেই। এতে ক্ষতি আছে। এতে ক্ষতি আছে।মন্দ কথা আপনার জবান নষ্ট করে, আপনার ব্যক্তিত্ব বিলীন করে, আপনার মন ও চরিত্রকে কলুষিত করে। মন্দ কথা বন্ধুতা নষ্ট করে, সখ্যতা ছিন্ন করে, মানুষের সাথে সম্পর্কেরহানি করে। যে মন্দ কথা বলে, মানুষ তকে ঘৃণা করে-তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তার থেকে দূরে অবস্থান করে, এমনকি মানুষ তার শত্রু হয়ে যায়।
৩। এক বৃদ্ধা আজরাইলের হাত থেকে বাঁচতে চায়। সে একটা কৌশল বের করলো যেন আজরাইল তাকে খুঁজে না পায়। কৌশল কাজ করলো। আজরাইল তাকে খুঁজে পেল না।
বলুন তো, কৌশল টা কি?
৪। রোযা মাত্র ৩০ টা।
কিন্তু ইফতারি করতে হয় কত মানুষের সাথে। একদিন বন্ধুদের সাথে। একদিন আত্মীয় স্বজনের সাথে। সাবেক কলিগদের সাথে। শ্বশুর বাড়ি তো একদিন ইফতারী করতে হবেই। তা না হলে বউ এর মুখের দিকে তাকানো যাবে না। এলাকার ভাই-ব্রাদারদের সাথে। চাচাদের সাথে, ফুপুদের সাথে, মামাদের সাথে। স্কুলের বন্ধুদের সাথে। একদিন শালার সম্বন্ধীর বাড়িতে। সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে- রোযা ৬০টা হলে ভালো হতো। সবাইকে খুশি করা যেত।
৫। আমি কি তা অন্যরা জানুক। কখনো কারো ক্ষতি যেনো না হয় সেই চেষ্টা থাকুক। গান শুনতে ভালোবাসি। আড্ডা দিতে ক্লান্তি নেই। চা আর সিগারেট হলে আর কিছু মনে থাকে না। চোখে ভালো দেখি। কারো কুটিলতা, জটিলতা, ভণ্ডামী চট করে চোখে পড়ে যায়। খুব করে চাই, চোখটা নস্ট হয়ে যাক, কারণ এসব দেখে ফেলি বলেই ঘুম আসে না।
৬। আমি ত্রিশ জন দুর্নীতিবাজদের তালিকা করেছি। তারা সবাই-ই রাজনীতি করেন। তারা সবাই পাঁচ শো কোটি টাকার মালিক। এদের সবার টিভি চ্যানেল, দৈনিক পত্রিকা আছে...আরও অনেক কিছু আছে এখন। এক সময় তাদের লুঙ্গি ছাড়া আর কিছুই ছিল না।দুদক কি করছে ? প্রতিটা সরকারী অফিসে ( রাজউক, নগর ভবন, সিটি কপোঃ অফিস ) প্রতিদিন ঘুষ আদান প্রদান হচ্ছে। ছোট ছোট ছাত্রনেতারা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে।দরিদ্র মানুষের কপাল বেয়ে কি সারা জীবন ঘাম ঝড়বে? আর নেতারা সংসদে বড় বড় কথা বলবেন
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৮ সকাল ১০:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




