
আজ নিজের হাতে জীবনে প্রথম গরুর মাংস রান্না করলাম। রান্না করতে গিয়ে বুঝলাম- গরুর মাংস রান্না কঠিন কিছু না। প্রথমে মাংস ভালো করে ধুয়ে নিলাম। তারপর সব মসলাপাতি আন্দাজ (পরিমাণ মতো) মতো দিলাম। অনেকক্ষন কষালাম। বেশিক্ষন না কষালে কাচা মসলার গন্ধ থেকে যায়। ভালো মতো কষানো হয়ে গেলে তারপর প্রচুর পানি দিলাম। আধা ঘন্টা পর তিনটা আলু কেটে টুকরা করে দিয়ে দিলাম। মাংস আলু সিদ্ধ হয়ে গেল। মাংস চুলা থেকে নামানোর আগে জিরার ফাকি দিয়ে দিলাম। এখনও খেয়ে দেখিনি। তবে দারুন গন্ধ ছড়াচ্ছে। গন্ধ'ই বলে দিচ্ছে খেতে ভালো হবে।
সুরভির কয়েকদিন ধরে জ্বর। তাই আমিই বললাম, তুমি বিশ্রাম নাও। রান্নাটা আমিই করছি। অবশ্য সুরভির কাছ থেকে জেনে নিয়েছি কিভাবে রান্না করতে হয়। ভাতও রান্না করে ফেললাম। শুধু মাংস আর ভাত। গতকালের ডাল ফ্রিজে আছে। অবশ্য ফ্রিজের খাবার গরম করে আমি খাই না। ভালো লাগে না। একটা ভাজি করলে ভালো হতো। সমস্যা হলো সবজি কাটতে পারি না। চিন্তা করছি কি করবো? এমন সময় দেখি ভাবী কাচ্চি রান্না করে নিয়ে এসেছে। ভাবী যদি আগেই বলতো সে কাচ্চি রান্না করছে তাহলে আমি মাংস রান্নার ঝামেলায় যেতাম না। মেয়ে মানূষের মাথায় বুদ্ধি কম।
যখন আমার মাংস চুলায় তখন এক গেস্ট এসে হাজির। এদিকে গেস্টকে সময় দিচ্ছি, আবার একটূ পরপর রান্না ঘরে গিয়ে চুলা কমাচ্ছি, বাড়াচ্ছি। গেস্টকে নুডুলস রান্না করে খাওয়ালাম। চা বানিয়ে খাওয়ালাম। গেস্ট বের হলো আর আমি ব্লগ লিখতে বসলাম। ভেবেছিলাম আজ বাজারে যাবো। কিন্তু যাওয়া হয়নি। এখনও ঈদের বাজার করিনি। ছয়টা পাঞ্জাবি কিনেছি, ছয় জনকে দিব। এখনও পাঞ্জাবি দেওয়া হয়নি। টেইলারস থেকে সুরভির জামা আনতে হবে। অথচ সময় কত দ্রুত চলে যাচ্ছে। ঘরের দুইটা সুইচ নষ্ট হয়ে আছে। ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ডেকে আনতে হবে।
গত এক সপ্তাহ ধরে তিনটা লেখা মাথার ভেতর কিটকিট করছে। কিন্তু লেখার সময় পাচ্ছি না। এদিকে বিদ্যুতের মিটারে লাল বাতি জ্বলে আছে। যে কোনো সময় বিদ্যুৎ চলে যাবে। কার্ড ভরতে হবে। আগামীকালই শেষ সময়। এরপর অনেকদিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। ঈদের ছুটি। সুরভিদের বাসায় একদিন ইফতার করতে যেতেই হবে। তা না হলে সুরভির বাবা গাল ফুলিয়ে বসে থাকবেন। সুরভি তাদের জন্য অনেক কেনাকাটা করে রেখেছে শবে বরাতের পরপর। প্রতি বছরের মতো এবারও সুরভি সবার জন্য কেনাকাটা করেছে। তবে বেশির ভাগ কেনাকাটা করেছে অনলাইন থেকে। আমার বেতন বোনাস সব শেষ। বরং জমানো টাকাও ধরতে হয়েছে।
লেখাটা পোষ্ট করে এখন খেতে যাবো। খুব ক্ষুধা লেগেছে। সন্ধ্যায় ইফতারী খেতে পারিনি। সুরভিও পারেনি। গ্রিল চিকেন আর নান রুটি এনেছিলাম। খেতে গিয়ে দেখিম, একদম কাঁচা। ফেলে দিয়েছি। আমার কাছে লেবুর সরবত ভালো লাগে। সন্ধ্যায় ভেবেছিলাম বেশি করে লেবু দিয়ে সরবত বানাবো। সরবত বানাতে গিয়ে দেখি ফ্রিজে লেবু নেই। অবশ্য ট্যাং আছে। ট্যাং আমার কাছে ভালো লাগে না। আগামীকাল অনেক কাজ আছে। তারপর এক সপ্তাহ কোনো কাজ নেই। শুধু খাও, বই পড়ো, টিভি দেখো আর লিখো। টানা সাত দিন কোথাও যাবো না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৮ রাত ১০:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



