somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সাংসারিক

১৩ ই জুন, ২০১৮ রাত ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ নিজের হাতে জীবনে প্রথম গরুর মাংস রান্না করলাম। রান্না করতে গিয়ে বুঝলাম- গরুর মাংস রান্না কঠিন কিছু না। প্রথমে মাংস ভালো করে ধুয়ে নিলাম। তারপর সব মসলাপাতি আন্দাজ (পরিমাণ মতো) মতো দিলাম। অনেকক্ষন কষালাম। বেশিক্ষন না কষালে কাচা মসলার গন্ধ থেকে যায়। ভালো মতো কষানো হয়ে গেলে তারপর প্রচুর পানি দিলাম। আধা ঘন্টা পর তিনটা আলু কেটে টুকরা করে দিয়ে দিলাম। মাংস আলু সিদ্ধ হয়ে গেল। মাংস চুলা থেকে নামানোর আগে জিরার ফাকি দিয়ে দিলাম। এখনও খেয়ে দেখিনি। তবে দারুন গন্ধ ছড়াচ্ছে। গন্ধ'ই বলে দিচ্ছে খেতে ভালো হবে।

সুরভির কয়েকদিন ধরে জ্বর। তাই আমিই বললাম, তুমি বিশ্রাম নাও। রান্নাটা আমিই করছি। অবশ্য সুরভির কাছ থেকে জেনে নিয়েছি কিভাবে রান্না করতে হয়। ভাতও রান্না করে ফেললাম। শুধু মাংস আর ভাত। গতকালের ডাল ফ্রিজে আছে। অবশ্য ফ্রিজের খাবার গরম করে আমি খাই না। ভালো লাগে না। একটা ভাজি করলে ভালো হতো। সমস্যা হলো সবজি কাটতে পারি না। চিন্তা করছি কি করবো? এমন সময় দেখি ভাবী কাচ্চি রান্না করে নিয়ে এসেছে। ভাবী যদি আগেই বলতো সে কাচ্চি রান্না করছে তাহলে আমি মাংস রান্নার ঝামেলায় যেতাম না। মেয়ে মানূষের মাথায় বুদ্ধি কম।

যখন আমার মাংস চুলায় তখন এক গেস্ট এসে হাজির। এদিকে গেস্টকে সময় দিচ্ছি, আবার একটূ পরপর রান্না ঘরে গিয়ে চুলা কমাচ্ছি, বাড়াচ্ছি। গেস্টকে নুডুলস রান্না করে খাওয়ালাম। চা বানিয়ে খাওয়ালাম। গেস্ট বের হলো আর আমি ব্লগ লিখতে বসলাম। ভেবেছিলাম আজ বাজারে যাবো। কিন্তু যাওয়া হয়নি। এখনও ঈদের বাজার করিনি। ছয়টা পাঞ্জাবি কিনেছি, ছয় জনকে দিব। এখনও পাঞ্জাবি দেওয়া হয়নি। টেইলারস থেকে সুরভির জামা আনতে হবে। অথচ সময় কত দ্রুত চলে যাচ্ছে। ঘরের দুইটা সুইচ নষ্ট হয়ে আছে। ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ডেকে আনতে হবে।

গত এক সপ্তাহ ধরে তিনটা লেখা মাথার ভেতর কিটকিট করছে। কিন্তু লেখার সময় পাচ্ছি না। এদিকে বিদ্যুতের মিটারে লাল বাতি জ্বলে আছে। যে কোনো সময় বিদ্যুৎ চলে যাবে। কার্ড ভরতে হবে। আগামীকালই শেষ সময়। এরপর অনেকদিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। ঈদের ছুটি। সুরভিদের বাসায় একদিন ইফতার করতে যেতেই হবে। তা না হলে সুরভির বাবা গাল ফুলিয়ে বসে থাকবেন। সুরভি তাদের জন্য অনেক কেনাকাটা করে রেখেছে শবে বরাতের পরপর। প্রতি বছরের মতো এবারও সুরভি সবার জন্য কেনাকাটা করেছে। তবে বেশির ভাগ কেনাকাটা করেছে অনলাইন থেকে। আমার বেতন বোনাস সব শেষ। বরং জমানো টাকাও ধরতে হয়েছে।

লেখাটা পোষ্ট করে এখন খেতে যাবো। খুব ক্ষুধা লেগেছে। সন্ধ্যায় ইফতারী খেতে পারিনি। সুরভিও পারেনি। গ্রিল চিকেন আর নান রুটি এনেছিলাম। খেতে গিয়ে দেখিম, একদম কাঁচা। ফেলে দিয়েছি। আমার কাছে লেবুর সরবত ভালো লাগে। সন্ধ্যায় ভেবেছিলাম বেশি করে লেবু দিয়ে সরবত বানাবো। সরবত বানাতে গিয়ে দেখি ফ্রিজে লেবু নেই। অবশ্য ট্যাং আছে। ট্যাং আমার কাছে ভালো লাগে না। আগামীকাল অনেক কাজ আছে। তারপর এক সপ্তাহ কোনো কাজ নেই। শুধু খাও, বই পড়ো, টিভি দেখো আর লিখো। টানা সাত দিন কোথাও যাবো না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৮ রাত ১০:৪৫
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক সংকট: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২

প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর। এই স্তরেই শিশুর ভাষা, গণিত, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, সামাজিকতা ও জীবনদক্ষতার ভিত নির্মিত হয়। যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা যত শক্তিশালী, সেই দেশের অর্থনীতি, সামাজিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×