
এই ছবিটা আমার মেয়ে তুলে দিয়েছে। সে আজ সকাল থেকেই পাগলের মতো ছবি তুলছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাত শ' ছবি তুলে ফেলেছে। কিছুক্ষন আগে জানতে পারলাম সে আমার ক্যামেরাটা নষ্ট করে ফেলেছে। আমার একটাই ক্যামেরা। ঈদের দিন মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল। মেয়েকে তো বকা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ওর দোষ নেই। ক্যামেরার দোষ। এটা আমার ৩য় ক্যামেরা। প্রথম ক্যামেরা ছিলতাই হয়েছিল। ২য় টা বাসা থেকে চোর চুরী করে নিয়ে গেছে। ৩য় টা আজ নষ্ট হয়ে গেল। আমার ধারনা ক্যামেরাটা একা একাই নষ্ট হয়েছে। ক্যামেরাটা কিনেছি তিন বছর আগে। তা-ও কম কি, টানা তিন বছর সার্ভিস দিয়েছে। আমার ধারনা লেন্সে সমস্যা হয়েছে। কত টাকা লাগবে ঠিক করতে কে জানে!
ঈদ মোবারক। ঢাকায় আজকের আবহাওয়াটা চমৎকার ছিল। মেঘলা আবহাওয়া। ঢাকার আশে পাশে অনেক জায়গায়'ই বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় এখনও বৃষ্টি হয়নি। তবে আকাশ কালো হতে শুরু করেছে। আমার ধারনা সন্ধ্যার পর বৃষ্টি নামবে। অবশ্য এটা বৃষ্টির মাস। আজ আষাঢ় এর ২ তারিখ। সকাল থেকেই বৃষ্টি হবে- বৃষ্টি হবে, এমন একটা ভাব। আজ আমার ঘরে কোনো রান্না-বান্না হয়নি। সকাল থেকেই দাওয়াত এর উপরে আছি। আজ সারাদিন মার ঘরে দাওয়াত। আগামীকাল ভাবীর ঘরে দাওয়াত। প্রচুর খাওয়া দাওয়া হচ্ছে। মনে হয় প্রচুর খাচ্ছি দেখেই মাথা ব্যাথা শুরু হয়েছে। মাথা ব্যাথা নিয়েই আপনাদের জন্য লিখতে বসেছি। আজ ঈদের দিন। তাই লেখার সাথে নিজের ছবি দিলাম, দয়া করে কেউ রাগ করবেন না।
আজ সারাটা দিন বাসায়। কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না। ছোটবেলা থেকেই আমি ঘরকুনো স্বভাবের। বাইরে গেলে আমার একটাই চিন্তা কখন বাসায় ফিরবো। কাল বাসায় সুরভিদের বাসা থেকে সবাই আসবে। অবশ্য আমাদের যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সুরভি অসুস্থ। কাজেই তাদের সবাইকে চলে আসতে বলেছি। রান্না বান্না করবে ভাবী। গতকাল রাতে খুব সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে দেখি, একতালা দোতালা মিলিয়ে বিশাল এক লাইব্রেরী দিয়েছি। লাইব্রেরী ভর্তি নানান রকম বই। অসংখ্য মানুষ আমার লাইব্রেরীতে বই পড়তে আসে। যারা বই পড়তে আসে তাদের জন্য চা কফির ব্যবস্থা আছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আধুনিক একটি লাইব্রেরী। একজন সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করলো, আপনি মসজিদ না করে লাইব্রেরী করলেন কেন? আমি বললাম, আমাদের দেশে অনেক মসজিদ আছে। প্রতিটা পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় ২/৩ টা করে মসজিদ কিন্তু লাইব্রেরী নাই।
আজ সকালে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘুমিয়ে আছি। কারা যেন আমাকে ডাকছে। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি- খুব সুন্দর একটা মেয়ে সুরভির বয়সী আমাকে ডাকছে। তার পাশে একটা ছোট্র মেয়ে। ছোট্র মেয়েটাও আমাকে ডাকছে। এরা কারা? আমার ঘরে কি করে? সুরভি কই? আমার মেয়ে কই? ছোট মেয়েটা এসে আমাকে চুমু দিল। বলল, বাবা উঠো। আমি অবাক মেয়েটা আমাকে বাবা ডাকছে কেন? আমার মেয়ে কই? আমি চোখ বন্ধ করলাম। ব্যাপারটা কি বুঝতে চেষ্টা করলাম। নাকি আমি ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখছি! না, স্বপ্ন না। সত্য। এরা বাইরের কেউ না। অপরিচিত কেউ না। সুরভি আর আমার মেয়ে। তারা এত সুন্দর করে সেজেছে। চোখে কাজল দিয়েছে। আর আমিও কাঁচা ঘুম থেকে উঠেছি। তাই কিছুক্ষন বিভ্রমে ছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



