
বাসে করে যাচ্ছি রামপুরা। ভাগ্য ভালো বাসে জানালার পাশেই সিট পেয়েছি। বাস চলছে তো চলছে না। লোকাল বাস খুব ধীরে ধীরে যাচ্ছে। যাত্রী উঠাচ্ছে। নামাচ্ছে। আকাশের অবস্থাও ভালো না। এই রোদ, এই বৃষ্টি! আমি সমানে মোবাইলে গেমস খেলে যাচ্ছি। আমার মোবাইলে অনেক গুলো গেমস নামিয়ে রেখেছি। একটার পর একটা খেলতেই থাকি। গেমস খেলতে খেলতে একসময় আর ভালো লাগে না। মোবাইল বন্ধ করে বাইরে তাকিয়েছি, আর দেখি একটা সিএনজি। সিএনজির উপরে ছোট্র একটা বাগান। ব্যাপারটা ভালোই লাগলো।
গাছ লাগানো ছাড়া বাঁচার আর কোনো উপায় আমাদের নেই। তবু আমরা গাছ লাগাই না। সারাদিন শুধু টাকা টাকা করি। একসময় দেখা যাবে আপনার প্রচুর টাকা আছে, গাড়ি আছে, বাড়ি আছে। তবু আপনি অক্সিজেনের অভাবে মারা যাবেন। কাজেই টাকা ইনকামের পাশাপাশি কিছু গাছ লাগান। এযুগে এসে গাছের উপকারিতা এমন কেউ নাই যে জানে না, বুঝে না। তবু কেন সেদিকে কারো কোনো লক্ষ্য নেই। আসুন প্রচুর গাছ লাগাই। সারা দেশটা গাছ লাগিয়ে ভরে ফেলি। তাতে কারো কোনো ক্ষতি হবে। বরং উপকার আর উপকার পাওয়া যাবে। কোথাও যেন একটূকরো খালি জায়গা পড়ে না থাকে।
আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। যদি শেখ হাসিনা একবার ছাত্রলীগের পোলাপানদের বলে দেন- যে যার এলাকায় গাছ লাগাও। তোমারা গাছ লাগিয়ে সারা বাংলাদেশ ভরে ফেলো। আমার বিশ্বাস শেখ হাসিনার কথা তারা ফেলবে না। মন প্রান দিয়ে গাছ লাগাবে। কম পক্ষে তারা চার কোটি গাছ লাগাবে। এতে সারা দেশের মানুষ উপকার পাবে। তাদের বদনাম কমবে। বিশ্বজিতের কথা ভুলে গিয়ে, তখন তারা ছাত্রলীগের জয়জয়কার করবে। সারা জীবন মানুষ তাদের গাছ লাগানোর কথা মনে রাখবে। তাছাড়া তাদের কাম কাজ তো কিছু নাই। তবে তাদের মাঝে মাঝে দেখা যায় অন্যের হয়ে নির্বাচনের লিফলেট বিলি করতে। লিফলেট বিলি করার চেয়ে হাজার গুন বেশি ভালো গাছ লাগানো।
একজন সিএনজি চালক যদি গাছের মর্যাদা বুঝে, প্রয়োজনীয়তা বুঝে- তাহলে সারা দেশের মানূষ কেন বুঝবে না? আমার খুব ইচ্ছা করে গাছ লাগাই। গাছের যত্ন নিই। কিন্তু আমার কোনো জমি নেই। আমার জমি থাকলে আমি হুমায়ূন আহমেদের মতোন একটা নুহাশ পল্লী বানাতাম। সেখানে সব ধরনের গাছ লাগাতাম নিজের হাতে। গাছ লাগানোর গুরুত্ব কোরআন হাদীসেও আছে। আমার আপন চাচাকে বলেছিলাম, চাচা আপনার বেশ কিছু জমি খালি পড়ে আছে, যদি অনুমতি দেন তাহলে সেখানে আমি নানান রকম গাছ লাগাতে চাই। চাচা অনুমতি দেননি। বলেছেন সেখানে তিনি ঘর বানাবেন। পাঁচ বছর হয়ে গেল সেই জমি আজও খালি পরে আছে। সারা বাংলাদেশে বহু জায়গা জমি খালি পড়ে আছে।
ছোটবেলা থেকেই আমার ভবিষ্যৎ ইচ্ছা- বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায়, কিছু জায়গা-জমি কিনবো। তারপর নিজের ইচ্ছা মতোন অনেক গাছপালা লাগাবো। বিশাল এক লাইব্রেরী বানাবো। মানূষকে সচেতন করবো। গাছের গুরুত্ব তুলে ধরবো গ্রামে গ্রামে, মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে। স্কুলে গিয়ে-গিয়ে বাচ্চাদের বুঝাবো। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো আমার থাকবে বিশ্ব গাছ লাগানোর কেন্দ্র। আমি সারা দেশে বিনা মূল্যে গাছের চারা, সার আর ওষুধ বিলাবো। ইনশাল্লাহ একদিন আমি পারবো আমার মনের ইচ্ছাটা পূরন করতে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




