somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ঈদ সংখ্যা ২০১৮

০১ লা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এবছর প্রায় ১২টা ঈদ সংখ্যা সংগ্রহ করেছি। যদিও এখনও সব পড়ে শেষ করতে পারিনি। তবে বেশ কয়েকবার নেড়েচেড়ে দেখেছি। রোজার ঈদের সময় প্রায় সব পত্রিকাওয়ালারা ঈদ সংখ্যা বের করে। একটা ঈদ সংখ্যা বের করতে অনেক টাকা খরচ হয়। ধরুন, ৪/৫ শ' পৃষ্ঠার ৩০০০ পিস ঈদ সংখ্যা বের করতে কমপক্ষে সাড়ে তিন লাখ টাকা লাগে। কাগজের দাম, প্রেসের খরচ, বাঁধাইয়ের খরচ, লেখক বিল। খরচের শেষ নেই। বেশির ভাগ পত্রিকাওয়ালাদের'ই বিজ্ঞাপনের অবস্থা ভালো না। শুধু মাত্র প্রথম আলো ছাড়া। ৩/৪ লাখ টাকা খরচ করে, বিজ্ঞাপন দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ইনকাম করতে খবর হয়ে যায়। ঈদ সংখ্যা সবাই'ই আগে বের করতে চায় কিন্তু বিজ্ঞাপনের অভাবে বের করতে দেরী হয়ে যায় সবার। প্রথম আলোর কথা আলাদা। তারা প্রতি বছর সবার আগে ঈদ সংখ্যা বের করে। তাদের বিজ্ঞাপনের রেটও অনেক বেশি। আমার ধারনা পত্রিকা জগতে শুধু মাত্র 'প্রথম আলো'র টাকার অভাব নাই। অন্য সবার অবস্থা নড়বড়ে। কেউ কেউ তো ঠিকভাবে বেতনও দিতে পারে না।

ঈদ সংখ্যায় কি কি লেখা থাকে? গত দশ বছর ধরে দেখছি ঈদ সংখ্যায় এরকম লেখা থাকে। সবাই'ই প্রায় একই রকম। গল্প থাকে, উপন্যাস থাকে, প্রবন্ধ-নিবন্ধ থাকে, কবিতা থাকে, অনুবাদ গল্প থাকে, ভ্রমন কাহিনি থাকে,চিত্রকলা, চলচিত্র, খেলাধূলা, নতুন নতুন খাবারের রেসিপি, সাক্ষাৎকার, থাকে অপ্রকাশিত চিঠি, কবিতা, গল্প বা উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখা থাকবেই। এই লোকটাকে তিতা বানিয়ে ফেলেছে। আমার নিজেরই এখন বিরক্ত ধরে গেছে। নতুন কিছু নাই। ইনিয়ে বিনিয়ে শুধু একই গান বছরের পর বছর ধরে। ঈদ সংখ্যায় বেশ কিছু নতুন কবি ও সাহিত্যিকদের আগমন হয়। তারা কবিতা ছাপান, উপন্যাস ছাপান। আমার ধারনা এরা লেখা ছাপানোর জন্য বিস্তর দৌড়াদৌড়ী করেন। আবার অনেকের কাছ থেকে লেখা চেয়েও পাওয়া যায় না। ঈদ সংখ্যার দায়িত্ব যাদের উপর থাকে, অনেকেই লেখা ছাপানোর জন্য তাদের তেল দেয়। শেষমেষ ঈদ সংখ্যার দায়িত্ব থাকা ব্যাক্তি তাদের লেখাই ছাপান যাদের দিয়ে তার লাভ আছে। এক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিটি প্রতিষ্ঠানের লাভও দেখেন না। দেখেন নিজের লাভ। আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি এ বছর সবচেয়ে খারাপ ঈদ সংখ্যা হয়েছে 'মানব জমিন' নামে পত্রিকার। লেখার মান খারাপ, সব মনে হয় টাকার বিনিময়ে লেখা ছাপিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা একদম বাজে কাগজে লেখা ছাপিয়েছে। এছাড়া সবাই মোটামোটি ভালো করেছে।

সমকাল ঈস সংখ্যায় 'সৈয়দ শামসুল হকে'র স্ত্রী ও কন্যার কাছে লেখা চিঠি গুলো ছাপিয়েছে। পড়ে বেশ মজা পেয়েছি। সিরাজুল ইসলামের প্রবন্ধ প্রায় সব ঈদ সংখ্যা'ই আছে। প্রতি বছরই থাকে। তার লেখায় নতুন কিছু নাই। ঘুরেফিরে একই কথা বারবার। আমার ধারনা পত্রিকাওয়ালারা তার কাছ থেকে জোর করে লেখা নেয়। সমকাল ঈদ সংখ্যায় হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস 'বেত্রবতী তীরের কুটিরবাসিনী মালবিকা' পড়ছি। পড়া এখনও শেষ হয় নাই। সেলিনা হোসেনের উপন্যাস 'বসন্ত ফুলের দিন।' হরিশংকর জলদাসের আত্ম জৈবনিক লেখাটা বেশ ভালো লেগেছে। নাসরীন জাহানের গল্প 'বুনো মোরগের সোনার ডিম' মোটামোটি লেগেছে। যতীন সরকার এবং ড আতিউর রহমান এবং পূরবী বসু রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লিখেছেন। তাদের লেখায় নতুন কিছু পাইনি। ফরিদুর রেজা সাগরের সৃতি কথা আছে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে ঈদ সংখ্যা গুলোতে ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা খুব চোখে পড়ছে। মঞ্জু সরকারের উপন্যাস 'বিদায়ী চুম্বন' পড়ছি। এখন পুরোটা শেষ করতে পারিনি। সমকাল ঈদ সংখ্যায় অনুবাদ আছে। অনুবাদ করেছেন আন্দালিব রাশদী। ভ্রমন কাহিনি আছে। মোহিত কামালের লেখা আছে। মঈনুল আহসান সাবের উপন্যাস 'একটি সাময়িক গল্প'। বেশ ভালো লিখেছেন। পড়ে ফেলেছি। শাহনাজ মুন্নির গল্প আছে। এখনও পড়ি নাই। তার কোনো লেখাই আজ পর্যন্ত আমি পড়িনি। এ বছর বেশ কয়েকটা ঈদ সংখ্যায় তার লেখা আছে। ধ্রুব এষ এর উপন্যাস 'সব ছায়ার পাখি। ধ্রুব এষের লেখাও প্রায় সব পত্রিকায় আছে। সুমন্ত আসলাম এর 'অদ্ভুত এক ছেলে' গল্প টা পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। উনার লেখা আমার কাছে ভালো লাগে। উনি খুব সহজ সরল সুন্দরভাবে লিখেন। উনার লেখা পড়ে আরাম পাই। আনোয়ারা সৈয়দ হক এর গল্প 'নিঃসঙ্গ পিরামিড।

বনিক বার্তা ঈদ সংখ্যায় ইমতিয়ার শামীম এর উপন্যাস 'মৃত জোনাকির শবযাত্রী' পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। আর ধ্রুব এষ এর রহস্য উপন্যাস 'কু ঝিক ঝিক' পড়ে খুব বিরক্ত লেগেছে। মনে হলো সময়ের অপচয় হলো। অনন্যা ঈদ সংখ্যায় হাসান আজিজুল হক এর প্রবন্ধ 'মত প্রকাশের স্বাধীনতার সীমারেখা' খুব সুন্দর হয়েছে। স্বকৃত নোমান এর উপন্যাস 'আদুরি' পড়ে ভালো লেগছে। উম্মে মুসলিমার গল্প 'য়েট টু ব্রুট' ভালো লেগেছে। কুলদা রায় এর গল্প মধুশ্রীর খোঁজে। মুগ্ধ হয়ে পড়েছি। প্রবীর বিকাশ সরকার এর ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে লেখাটি খুব সুন্দর হয়েছে। বিধান রিবেরু এর অনুগল্প প্রশ্ন অ অন্যান্য এটাও বেশ ভালো হয়েছে। আমাদের সামুর ব্লগার রেজা ঘটকের গল্প ' সিদ্ধান্তহীন অবুঝ সময়' পড়েছি। খুব ভালো লিখেছেন।
কালের কন্ঠ ঈদ সংখ্যায় ইমদাদুল হক মিলনের 'যুদ্ধকাল' উপন্যাস পড়ছি। এখনও শেষ করতে পারিনি। মোস্তফা কামাল এর উপন্যাস 'অগ্নি মানুষ। এখনও পড়িনি। শাহনাজ মুন্নীর উপন্যাস 'মৃত্যুভূমি' এখনও পড়িনি। শেখ আবদুল হাকিম এর রহস্য উপন্যাস 'অন্ধ কুমারী' এটাও পড়িনি। তবে খুব শ্রীঘই পড়বো। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সৃতি কথা 'মনের ছায়া মতের ছবি' পড়িনি, পড়বোও না। সায়েন্স ফিকশন ধ্রুব এষ এর 'অতি প্রাকৃত কাহিনি শীতাবিবি' পড়িনি, পড়বোও না। তবে হাসান আজিজুল হক এর গল্প 'বসতি' পড়েছি, খুব ভালো লেগেছে।

ইত্তেফাক সংখ্যায় ভ্রমন কাহিনি 'সৈকত থেকে বোটে ভেসে নির্জন দ্বীপে' লিখেছেন মঈনুস সুলতান, এটা পরে বেশ ভালো লেগেছে। মঈনুল আহসান সাবের এর উপন্যাস 'প্রেমের রুপ কথা' পড়েছি। মোটামোটি ভালৈ লিখেছেন লেখক। কুলদা রায় এর গল্প 'দি র‍্যালে সাইকেল' পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। স্বকৃত নোমান এর গল্প 'সুরের মহিমা' পড়ে ভালো লেগেছে। অন্যদিন ঈদ সংখ্যায় মঈনুল আহসান সাবের এর উপন্যাস 'কয়েকটি প্রেমপত্র' খুব ভালো লেগেছে। সুমন্ত আসলামের উপন্যাস 'এক মায়াবতী আমার' পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। সাদাত হোসাইন এর উপন্যাস 'মেঘেদের দিন' এখনও পুরোপুরি শেষ করিনি। তবে খুব শ্রীঘই শেষ করে ফেলব। বাংলাদেশ প্রতিদিন ঈদ সংখ্যায় সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস 'যখন এমন হয়' এখনও পড়িনি। পড়বো। মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর গল্প 'আজব ছেলে' পড়ে ফেলেছি। খুব ভালো লেগেছে। তসলিমা নাসরিন এর গল্প 'নূপুর আর যমুনার গল্পের শেষটা' পড়িনি পড়বো। মানব জমিন ঈদ সংখ্যায় নঈম নিজাম এর উপন্যাস 'অন্ধকার জগতের কাহিনী' টা পড়ার ইচ্ছা আছে।

আমাদের সময় ঈদ সংখ্যায় ধ্রুব এষ এর উপন্যাস 'রাস্তা হাঁটে, আমি হাঁটি না' এই লোকতা কি লেখে আমি বুঝি না। তার লেখা পড়ে আরাম পাই না। বরং বিরক্ত লাগে। আমার মনে হয় তার চেয়ে আমি ভালো লিখতে পারবো। মঈনুল আহসান সাবের এর গল্প ' জালাল ও মলির আশ্চর্য প্রদীপ' খুব ভালো লেগেছে। এই লেখকের মধ্যে যথেষ্ঠ রসবোধ আছে। সুমন্ত আসলাম এর গল্প 'মুক্তি' পড়েছি। ভালো লেগেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৫৭
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চেয়ারের আত্মকথা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩০


চেয়ারের আত্মকথা

চেয়ারটি নাকি একদিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, "মানুষ আমাকে যতটা ভালোবাসে, আমাকে বানানো কাঠটাকেও যদি ততটা ভালোবাসত, তবে পৃথিবীতে এত অহংকার জন্মাত না।"

আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"

চেয়ারটি বলল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×