
মেয়েটাকে গাছের সাথে শক্ত করে বাঁধা হলো। তারপর একজন শক্তসমর্থ পুরুষ মোটা একটা লাঠি দিয়ে মেয়েটাকে ইচ্ছামত মারছে। খুব মারছে। মেয়েটা ব্যাথায় চিৎকার করছে, করুন আর্তনাদ করছে। শক্তসমর্থ পুরুষটি সমানে মেরেই চলেছে। কোমরে, হাঁটুতে, গিরায়, গোড়ালিতে। মেয়েটি একটু নড়তে পারছে না। তার দুই হাত শক্ত করে মোটা দড়ি বাঁধা। একসময় হয়তো মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লো। মেয়েটির বয়স আঠারো বা বিশ হবে। তার মাথা ভরতি চুল। লালের মধ্যে ছোট ছোট সাদার ফোটা আঁকা তার জামায়। মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে যাবার পরও আরও কয়েকজন মেয়েটি মেয়েটিকে সেই মোটা লাঠি দিয়ে মারলো। শেষমেষ দু'জন বয়স্ক মহিলা এসেও মেয়েটিকে মারলো। মেরেই চললো।
মেয়েটির পাশে ঠিক এভাবেই একজন পুরুষকে গাছের সাথে বাঁধা হলো। তাকেও একইভাবে ক্রমাগত মারলো। প্রচুর মারলো। হয়তো তাদের পায়ের হাড় ভেঙ্গে গেছে। মাংস থেলতে গেছে। আগামী এক বছর তারা হয়তো উঠে দাঁড়াতে পারবে না। অথবা চিরতরে পঙ্গুও হয়ে যেতে পারে। দুইজন গাছের সাথে ঝুলে রইলো। মরে গেছে কিনা কে জানে! পুরো গ্রামের মানুষ এই দৃশ্য দেখলো। অনেকে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করলো, কেউ কেউ ছবিও তুললো। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলো না। মানুষ এতটা অমানবিক কিভাবে হয়? সৃষ্টির সেরা জীব এতটা অমানবিক হয়! সারা বাংলাদেশের মানুষ আজ অমানবিক হয়ে পড়েছে। কেন মানুষ আজ অমানবিক? শিক্ষার কারণে? ধরে নিলাম। গ্রামের মানুষ গুলো অশিক্ষিত এবং কুসংস্কারে বিশ্বাসী তাই তারা এমন অমানবিক কাজ করেছে। কয়েকদিন আগে যে ছেলেটিকে হাতুড়ি দিয়ে হাড্ডি ভেঙ্গে দিয়েছে- সে তো শিক্ষিত ছেলে। তরুন এবং আধুনিক। সে কি করে পারলো?
যাই হোক, যে কথা বলছিলাম- মেয়েটি এবং পুরুষটি এখন কি অবস্থায় আছে আমি জানি না। গতকাল ফেসবুকে হঠাৎ এই ভিডিওটি আমার চোখে পড়ে। খুবই মর্মান্তিক ভিডিও। আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমি পুরো ভিডিওটি দেখতে সাহস পাইনি। এরকম অমানবিক ভিডিও আমার পক্ষে দেখা সম্ভব না। কাল সারারাত আমি ঘুমাতে পারিনি। ছটফট করেছি। ঘটনাটি নওগা জেলার 'ঘাটনগর' ইউনিয়ন এলাকায়, পোরশা উপজেলায়। কেউ ভিডিওটি দেখতে চাইলে দেখতে পারেন- ইউটিউবে পাবেন। ফেসবুকেও আছে। আমাদের দেশে এত পত্রিকা, এত অনলাইন কোথাও নিউজটি আসেনি। আজকাল অনেক কিছুই পত্রিকাতে আসে না। কেন আসে না? কোন নায়ক বা নায়িকা কোন দল সাপোর্ট করে তা নিয়ে বিশাল ফিচার লেখা হয়। নায়িকা তার প্রিয় দলের জার্সি গায়ে দিয়ে ছবি তলে পত্রিকাওয়ালারা আগ্রহ নিয়ে সেই ছবি তাদের পত্রিকায় ছাপায়। পত্রিকাওয়ালারাও অমানবিক।
এত যে তাদের মারলো- কি অপরাধ তারা করেছে? ধরে নিলাম, তারা চুরি করেছে, ডাকাতি করেছে অথবা পরকিয়া করেছে। তার জন্য তাদের এইভাবে এত অমানবিক ভাবে মারতে হবে? দেশে কি আইন নেই? আইন নিজের হাতে তুলে নিতে হবে? এই সাহস বা ক্ষমতা তাকে কে দিল? ওই নারী পুরুষ যদি কোনো অন্যায় করে থাকে তবে তাদের পুলিশে কেন দেওয়া হলো না? এরকম ঘটনা আগে বছরে দু'চারটা ঘটতো। আর এখন এরকম ঘটনা রোজ ঘটে। প্রশাসন কি করে? নাকি আজ প্রশাসনও অমানবিক? সিলেটের রাজনের কথা নিশ্চয় আপনাদের মনে আছে। বিশ্বজিতের কথা আশা করি ভুলে যান নাই। এই রকম অমানবিক ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলেছে। মানুষ কেন দিনদিন মানবিক না হয়ে অমানবিক হয়ে যাচ্ছে? হুমায়ূন আহমেদের 'চোখ' গল্পটি কি আপনারা পড়েছেন? না পড়লে অবশ্যই পড়ে নিবেন।
'মানুষ' আল্লাহর দোহাই লাগে এতটা নিষ্ঠুর হয়ো না। একটু মানবিক হও। তুমি সৃষ্টির সেরা জীব। এখন, দুই চার লাইন নিজের কথা বলতে চাই। সামুতে আমি দীর্ঘদিন ধরে আছি। কোনোদিন কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করি নাই। কাউকে বাজে মন্তব্য করি নাই। ব্লগে সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থেকেছি। (কেউ যদি প্রমাণ দেখাতে পারেন আমি কাউকে খারাপ মন্তব্য করেছি বা আমি কোনো অশালীন পোষ্ট করেছি তাহলে আমি আমার প্রিয় সামু ব্লগ ছেড়ে চলে যাবো, কথা দিলাম) ছোটবেলা থেকেই আমি খুবই সহজ সরলভাবে জীবন যাপন করি। কাউকে কোনোদিন কটু কথা বলিনি। কেউ আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করলেও আমি চুপ করে সহ্য করেছি। আমি গর্ব করে বলতে পারি এই দুনিয়াতে আমার কোনো শত্রু নেই। এই ব্লগে সবাই আমার আপনজন। তারপরও কখনও যদি কোনো ভুল হয়েই যায়, কেউ ভুলটা ধরিয়ে দিলে আমি সাথে সাথে আমি নিজেকে শুধরে নিই।
আমি স্বচ্ছ ভাবে ব্লগিং করি। খুব সর্তক হয়েই প্রতিটা পোষ্ট দেই এবং মন্তব্য করি। আমার মাথায় সব সময় একটাই চিন্তা থাকে কেউ যেন আমার পোষ্ট বা মন্তব্যে কষ্ট না পায়। তারপরও দেখি আমার পেছনে ফেউ বেজে গেছে। তারা বাজে ভাষা ব্যবহার করছে। এবং আমাকে নিয়ে ব্যঙ্গাতক কার্টুন এঁকেছে! এই কার্টুন বিভিন্ন পোষ্টে মন্তব্যের আকারে দিচ্ছে, দিয়েই যাচ্ছে। কেন তারা এই কাজ করেছে? ওরা কারা? ওদের উদ্যেশ্য কি? নিজেকে যে শুধরে নিবো- হাজার চিন্তা করেও আমার ভুল বা দোষ খুঁজে পেলাম না। দুই তিনজন আবার ওদের সাথে তাল মিলাচ্ছে। এখানে ব্লগ কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিছেন। তারা মন্তব্য গুলো মুছে দিয়েছেন- যা আমাকে মুগ্ধ করেছে! কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি।
বেঁচে থাকুক সামু, বেঁচে থাকুক সামুর সমস্ত ভালো ব্লগাররা। জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




