
আমেরিকাতে 'হোমলেস' শব্দটি খুব পরিচিত। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায়। যাদের বাড়িঘর নেই, চাকরিবাকরি নেই, থাকার জায়গা নেই, খাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই, তাদেরই হোমলেস বলে। হোমলেসদের জন্য এখানে বিভিন্ন রকম আশ্রয়কেন্দ্র আছে। সরকারিভাবে এই হোমলেসদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়। তাদের বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। এই হোমলেসদের সাথে একজন বাঙ্গালী নেশাগ্রস্ত তরুনী মিশে গিয়েছি। মাঝে এই তরুনী জ্যাকসন হাইটস আসতো। একবার স্বামী এবং একবার প্রেমিকের কাছ থেকে আঘাত পেয়ে এই তরুনী নেশায় বুঁদ হন। তারপর প্রায় পাগল-পাগল। এখন এই তরুনী প্রায় বুড়ি হয়ে গেছেন। তার ভাই বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য।
আমেরিকার জ্যাকসন হাইটস যেন এক ছোট্ট বাংলাদেশ!
চায়না টাউন আমেরিকার যেকোনো বড় নগরীর এক পরিচিত নাম। তেমনি নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস হয়ে উঠেছে বাংলাদেশিদের পরিচয়ে এক পরিচিত নাম। অনেকে ঢাকারে গুলিস্তান বলে জ্যাকসন হাইটসকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে খুব ভীড়। আর ছুটির দিনে আপনি এখানে গাড়ি পার্ক করার জায়গা'ই খুজে পাবেন না। ফুটপাত দিয়েও আপনি শান্তিতে হাঁটতে পারবেন না। দোকান বসে যায়। পান থেকে শুরু করে ঝালমুড়ি, চটপটি, হালীম, বিরানী, কাচ্চি বা তেহারী সব পাওয়া যায়। বাংলাদেশ থেকে আসা সব রকম তরিতরকারী পাবেন। দোকানের সাইনবোর্ড গুলোও বাংলায় লেখা। দূর দূরান্ত থেকে দেশের খাবারের স্বাদ নিতে অনেকেই ছুটে আসেন এ এলাকায়।

জ্যাকসন হাইটস এখন মূলত নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ঠিকানা। এখানে সবাই বাংলায় কথা বলে। যার যেখানে ইচ্ছা গাড়ি পার্কিং করে রেখেছে। রাস্তায় খাম্বার মধ্যে বাংলায় লেখা টুলেট লাগানো অথবা রুমমেট আবশ্যক বিজ্ঞাপন। বাংলাদেশী মিষ্টির দোকানে নকল মিষ্টি পাওয়া যায় পাঁচ ডলার এক কিলো। আসল মিষ্টি খেতে চাইলে আপনাকে ইন্ডিয়ান মিষ্টির দোকানে যেতে হবে। দশ ডলার এক কিলো। অরজিনাল মিষ্টি। বাংলাদেশীদের মতোন চালের গুড়ি মিশায় না। জ্যাকসন হাইটস এ জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। দোকান ভাড়া অনেক বেশি কিন্তু কোনো দোকান খালি নেই। তিন দশক ধরে জ্যাকসন হাটসে বাংলাদেশী কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাঙ্গালী রেস্টুটেন্ট গুলি মূলতঃ জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ম্যানহাটান এই এলাকাগুলিতে ছড়িয়ে আছে।
বাংলাদেশ থেকে কেউ আমেরিকা বেড়াতে এলে জ্যাকসন হাইটসে একবারের জন্য হলেও ঢুঁ মারে। ঈদের সময় বাংলাদেশে ঈদে ঢাকা ছেড়ে মফস্বলমুখী হয় মানুষ। আর এখানে আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে নিউইয়র্কে আসে সবাই ঈদ করতে। জ্যাকসন হাইটস মেয়েরা হাতে মেহেদি দেয়। অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা চলে। ঈদের কেনাকাটা করতে ভীড় লেগে যায়। নিউইয়র্ক শহরে বর্তমানে পাঁচ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি থাকে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ মুসলমান। জ্যাকসন হাইটসে যেসব বাঙ্গালী ব্যবসা করেন, তাদের একটা সমিতি আছে। (জেবিবিএ)

জ্যাকসন হাইটসকে বলা হয় মৌসুমী ফলের বাজার। সারা পৃথিবীর আমের রাজধানীও জ্যাকসন হাইটস। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের সেরা আমগুলো পাওয়া যায় এখানে। আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় আম হলো ফ্রান্সিস। এর দাম অন্য আমের চেয়ে চড়া। আমেরিকাতে বাঙ্গালীরা কি কাজ করে? রেস্টুরেন্টে কাজ করে। হোটেলে কাজ করে। ট্যাক্সি চালায়। কারো কারো হাস মূরগীর ফার্ম আছে। ফার্মেসী চালায়। ডাক্তারী করে, কেউ নার্স। বয়স্করা সিকিউরিটি কোম্পানীতে কাজ করেন। ফাস্ট ফুডের দোকানে কাজ করে। এদের বেশির ভাগ'ই মেয়ে। কেউ ব্যাংকে চাকরি করে, ব্যবসা করে। আমেরিকায় বাঙ্গালীরা দুর্নীতি করে না, ঘুষ খায় না। কেউ কিন্তু থেমে নেই, বসে নেই। বাঁচার জন্য কিছু না কিছু করতেই হয় মানুষকে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



