
দেশ স্বাধীন করার যুদ্ধে ১৯৭১ এ ঝাপিয়ে পড়েছিলো সব শ্রেনীর মানুষ। এই দেশের মানুষের পাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ছিলেন কিছু ভিনদেশী মহামানব ও মহামানবী। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তাদের সম্পর্কে বলতে হবে। আমরা স্বার্থপর জাতি নই। সেই সব মহা মানব- মানবীর হলেন- ভারত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, কনসার্ট ফর বাংলাদেশের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন, প্রখ্যাত সেতারবাদক পন্ডিত রবিশংকর, সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি কসিগান, যুক্তরাষ্ট্রের রিচার্ড টেইলর, মুম্বাইয়ের তৎকালীন প্রথম সারির নায়িকা ওয়াহিদা রহমান প্রমূখ।
৭১ এ ভারত আমাদের সহযোগিতা না করলে আমাদের খবর ছিল। সেই সময় প্রায় এক কোটি লোককে আশ্রয় দিলো ভারত। থাকার জায়গা দিলো, খাবার দিলো। ইন্দিরা গান্ধী দেশ বিদেশ ঘুরে ঘুরে আমাদের উপরে অত্যাচারের কথা জানাতে লাগলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ- আমাদের অনেক বড় পাওয়া। মহান মুক্তিযুদ্ধ দুঃসময়ে আমাদের সাহস দেয়- শক্তি দেয়। যে কোনো বাঁধার মুখে আমাদের বারবার মুক্তিযুদ্ধের কাছে ফিতে যেতে হবে।
স্বাধীনতার যুদ্ধ- বাঙ্গালী জাতির অনেক বড় পাওয়া আর প্রতিটা যোদ্ধা আমাদের কাছে এক আকাশ ভালোবাসা এবং সম্মানের পাত্র। তার মানে এই না যে- মুক্তিযুদ্ধকে যত্র-তত্র বেঁচে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে পুজি করে- নিজের আখের গোছাতে হবে। আমি অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে দেখেছি- তারা কোথাও গেলে- পরিচয় দেয়, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি এই বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে (টিসিবি থেকে) তেল-চিনি ডাল নিতে পারব না। লাইনে না দাঁড়িয়ে আমি সদাইপাতি নিবো।
আমার ছেলেকে চাকরী দিতেই হবে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা... অথবা আমার ছেলেকে ছেলেকে লেখাপড়ার সুযোগ দিতে হবে। সব জাগায় কেন বারবার নিম্ম মন-মানসিকতার মানূষের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিতে হবে? সামান্য একটা চাকরী অথবা একটু সুবিধা পাওয়ার জন্য? একজন মুক্তিযোদ্ধা কি চাকরী অথবা লাইনে না দাঁড়িয়ে ডাল আটা-চিনি নেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন? আবার কিছু কিছু লোক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বড় বড় কথা বলে বেড়ায়- নিজে মহান সাজতে চায় কিন্তু আড়ালে তার সূর্য হাসে না। তবে খোশ মেজাজে দিন চলে যায়। কাজেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সকল ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।
দেশ স্বাধীন হলো।
বঙ্গবন্ধু ছাড়া পেলেন কারাগার থেকে। তিনি দেশে ফিরে আনন্দে আত্মহারা হলেন। তিনি দেশ গড়ার কাজে মন দিলেন। তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরে এতটাই খুশি হলেন যে, তার মাথা আউলায়ে গেল। তিনি রাজাকারদের একে একে ক্ষমা করে দিতে লাগলেন। এই ক্ষমা করে দেওয়াটা অনেক বড় ভুল ছিল। দুষ্টলোক সারা জীবন দুষ্ট'ই থাকে। তারা গোপনে গোপনে বদমাশি শুরু করে দিল। সেদিকে বঙ্গবন্ধুর খেয়াল নেই। তার হাতে অনেক কাজ। একটা ভাঙ্গা দেশকে সোজা করা তো মুখের কথা না। এদিকে তার কাছের মানূষেরা দূর্নীতি শুরু করলো। সেদিকে তিনি মোটেও নজর দিলেন না।
একসময় বঙ্গবন্ধুকে আক্রমন করা হলো।
তিনি কাঁচা ঘুম থেকে উঠে এলেন বীরের মতন। ভেবেছিলেন বিরাট এক ধমক দিবেন। এই ভোর রাতে কারা ফাজলামো শুরু করেছে। এই দেশের মানুষের উপর বঙ্গবন্ধুর সীমাহীন আস্থা ছিল। তিনি কোনো দিনও ভাবতে পারেন নি এই দেশের লোক তাকে হত্যা করবে। একজন গ্রেট বাঙ্গালীকে হত্যা করা হলো। তার হত্যার মাধ্যমে প্রতিটা বাঙ্গালীর কপাল পুড়তে শুরু করলো। জিয়া উর রহমান ক্ষমতায় বসলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যা নিয়ে কোনো কথা বললেন না। তিনি তার মতো কাজ করে যেতে থাকলেন। ক্ষমতায় গেলে মানুষের মাথা ঠিক থাকে না। জিয়া সাহেবও পাগলের মতো বেশ কিছু ভুল করে ফেললেন। যে সমস্ত রাজাকাররা এত দিন পালিয়ে ছিলেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনলেন জিয়া। তাদের বড় বড় পদে বসালেন। ক্ষমতাবান ভুল গুলো জাতিকে বহু বছর পেছনে ফেলে দেয়।
সব কিছু মূলে হলো দেশভাগ।
দেশভাগ না হলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



