somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ২৪

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জনাব আহাদ সাহেব একজন সফল মানুষ।
অথচ তিনি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করেছেন। তারা দুই ভাই, দুই বোন। তিনিই সবার বড়। লেখাপড়া দূর্দান্ত ছিলেন। দারুন মেধাবী। মেট্রিক-ইন্টার দু'টাতেই সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাস এবং মার্স্টাস করেছেন। এছাড়া বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরো দু'টা ডিগ্রী নিয়েছেন। আহাদ সাহেবের পথ মোটে মসৃন ছিলো না। খেয়ে না খেয়ে তিনি লেখাপড়া করে গেছেন। তার বাপ ছিলেন উড়নচন্ডী স্বভাবের। কখনও সময় মতো স্কুল কলেজের বেতন দিতে পারেন নি। আহাদ সাহেবের অন্য ভাই বোন তার মতো এত মেধাবী নন। তারা গড়পড়তা লেখাপড়া করে গেছেন। আহাদ আমার বন্ধু।

আহাদ সাহেব একজন সৎ মানুষ।
তাকে কোনো দিন মিথ্যা বলতে শুনি নি। অহংকার করতে দেখিনি। নামাজি মানুষ। সহজ সরল জীবন যাপন করেন। অপচয় বা বিলাসিতা তার মধ্যে নেই। লেখাপড়া শেষ করেই তিনি একটা বেসরকারী বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরী পেয়ে যান। টানা পনের বছর ধরে সেখানেই চাকরী করছেন। প্রমোশন পেয়ে-পেয়ে আজ তিনি অনেক বড় স্যার হয়েছেন। অফিস তাকে গাড়ি দিয়েছে। বছরে দুইবার তাকে বিদেশ ভ্রমনে পাঠান পরিবারসহ। আমি আহাদ সাহেবকে দেখেই বুঝেছি সৎ ভাবে থেকেও উন্নত জীবন যাপন করা যায়। বিলাসবহুল জীবনযাপন করা সম্ভব। আহাদ সাহেব ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একটা পাঁচ তলা বাড়ি করেছেন। যথাসময়ে ব্যাংক লোন শোধ করেছেন। অবশ্য বাড়ি জায়গা তার বাবার। তার অন্য তিন ভাই বোনকে একটা করে ফ্লাট করে দিয়েছেন। এখনও ভাই বোনদের বিপদ আপদে তিনি সবার আগে এগিয়ে আসেন।

তার অন্য ভাইবোনেরাও বেশ ভালো আছেন।
তিন বছর আগে আহাদ সাহেব একটা গাড়ি কিনেন। গাড়ি কেনার সময়ও তিনি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছেন। ব্যাংকের টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করেছেন। এই গাড়ি তার ভাই-বোনেরা নিয়মিত ব্যবহার করে। আহাদ আর আমি আমরা একই এলাকায় থাকি। আহাদ সাহেবকে কোনো দিন আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিতে দেখিনি। কোনোদিন রাস্তার পাশের চায়ের দোকান থেকে চা খেতে দেখিনি। কোনোদিন কারো সাথে ঝগড়া করতে শুনি নি। চা, সিগারেট, পান কিছুই খান না। সকালে অফিস যান। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেন। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে ছেলেদের পড়তে বসান। এই তার রুটিন। এই তার জীবন। তবে প্রতি শুক্রবার তিনি মুভি দেখেন। গেমস খেলেন। আমি মাঝে মাঝে তার কাছে যাই। আড্ডা দিতে। শুক্রবার শনিবার তার ছুটির দিন। আহাদ সাহেবের আমার মতোনই বয়স হবে। অথবা এক দুই বছর বড় হতে পারেন তিনি।

আহাদ সাহেবের দুই ছেলে।
শহরের নামীদামী স্কুলে পড়ে। দুইটা ছেলেই দেখতে পুতুলের মতোন। ছেলে দু'টা দারুন মধাবী। ভদ্র। আমি ওদের বাসায় গেলে দুই ভাই একসাথে আমাকে সালাম দেয়। আসসালামু আলাইকুম। ব্যাপারটা আমার খুব ভালো লাগে। আহাদ সাহেবের স্ত্রী সুমি। সুমি চমৎকার হাসি খুশি মানুষ। একটা বেসরকারী টিভি চ্যানেলের নিউজ প্রেজেন্টার। মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেন। সুমি ভাবী চমৎকার রান্না করেন। তার হাতের খিচুরী আর মুরগীর মাংসের ভূনাটা অসাধারন হয়। দারুন পিতজা, বার্গার আর স্যান্ডউইচ বানান। বিশেষ করে সুমি ভাবীর হাতের চা দূর্দান্ত। ঝামেলা বিহীন একটি সুখী পরিবার। আহ! বাংলাদেশের সব পরিবার যদি এমন হতো! তাহলে সমাজটাই বদলে যেত।

ফেব্রুয়ারীতে ইটালি যাচ্ছেন আহাদ সাহেব।
পুরো পরিবার নিয়ে। ইটালি থেকে কানাডা যাবেন। বাকিটা জীবন সেখানেই থাকবেন। মাঝে মাঝে দেশে আসবেন বাবা-মা আর ভাই বোনদের দেখতে। আমার দেখা একজন সফল মানুষ আহাদ সাহেব। মামা চাচার সাহায্য ছাড়া এবং সম্পূর্ন নিজের যোগ্যতায় সৎ ভাবে তিনি এগিয়ে গেছেন। বাবা-মার জন্য করেছেন, ভাই বোনদের জন্য করেছেন। গরীব দুঃখী মানুষদের জন্য করছেন। তার কাছে সাহায্যের জন্য কেউ এলে তিনি তাকে সাহায্য করেন। আহাদ ভাই সত্যিকার একজন ভালো মানুষ। সৎ মানুষ। মহৎ মানুষ। আল্লাহ তার পুরো পরিবারকে ভালো রাখুক।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৫
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চামড়া ও চামড়াশিল্পের কেন আজ এই ভয়াবহ পরিস্থিতি?#২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:২৯


আগের পর্বের জন্য: Click This Link
হাজারীবাগ
১৯৪০ এর দশকে এক ব্যবসায়ী আর.পি. শাহা কর্তৃক নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশের প্রথম ট্যানারি স্থাপন করা হয়েছিল। ট্যানারিটি পরে(১৯৪৫ সালে দিকে- মতান্তর আছে, কোথাও বলা হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুকু ও মুনীরের পরকীয়ার বলি শারমীন রীমাঃ হায়রে পরকীয়া !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩১


পরকীয়া একটি নিষিদ্ধ সম্পর্কের নাম। মানবসমাজে কত ধরণের প্রেমই তো আছে! তবে যত ধরণের প্রেমই থাকুক না কেন ‘পরকীয়া’ প্রেমকে সবাই একটু ভিন্ন চোখে দেখে। নিষিদ্ধ জিনিষের প্রতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেয়েটি চলল প্রবাসের পথে - আগমনী বার্তা (সামু পাগলার নতুন সিরিজ :) )

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪০



এই পোস্টটি মূলত নতুন সিরিজ আসার আগমনী বার্তা। আবার একদিক দিয়ে দেখলে আমার জীবনে প্রবাসের আগমনী বার্তাও বটে।
আমি সাধারণত কোন সিরিজ শুরু করলে শেষ করতে পারিনা। সেজন্যেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈরুত – হিরোশিমার মিনি ভার্সন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৭



বৈরুতকে একসময় প্রাচ্যের প্যারিস বলা হত । ৪০এর দশকে আমাদের এই অঞ্চলের ছেলেরা বৈরুতের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেত । ওখানে চিকিৎসা এবং হাসপাতাল ব্যাবস্থা খুব উন্নত ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্ঘুম রাত

লিখেছেন মিরোরডডল , ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:৫২





আবারও আসলাম কিছু প্রিয় গান নিয়ে ।
সাধারণত মেল ভোকালে বেশী গান শোনা হয় কিন্তু আজ কিছু ফিমেল ভোকালে গান শেয়ার করছি ।

আমি কেমনে কাটাই এ রাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×