
পৃথিবীতে এখন প্রায় সাত হাজার ভাষা রয়েছে।
আমরা শুধু সবকিছুতেই খুব করে উদযাপন করতে শিখেছি। রঙ চোঙ মেখে। বিশেষ দিনে বিশেষ রকম জামা পাওয়া যায়। সেই সব জামা কেনার ধূম পরে যায়। সমাজের বেশির ভাগ লোকজন আধুনিক সাঁজতে চেষ্টা করে। তাদের চেষ্টা বিফলে যায়। ভেতর থেকে না এলে যত চেষ্টাই করুক ফলাফল শূন্য। ভারতবর্ষে প্রতিটি শিশুর তিনটি ভাষা শেখার কথা- একটি হিন্দি, একটি ইংরেজি এবং অন্যটি নিজেদের মাতৃভাষা।
৭৫% এর অধিক লোকেরা বাংলা শুদ্ধরুপে উচ্চারণ করতে পারে না।
কবিতা বলছে ভুল উচ্চারণে, প্রবন্ধ পাঠ করছে ভুল উচ্চারণে আর লিখে যাচ্ছে ভুল বানান। বাংলা ভাষা শেখার পরিবেশ যেন বেগবান হয় সেদিকে দায়ীত্বশীলদের মাথা ঘামাতে হবে। স্কুল কলেজে শব্দ এবং বানানের দিকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া খুব প্রয়োজন। অর্নাস পাস্টার্স পাশ করা লোকজনও অতি সাধারন বানানও ভুল করে। ভাষা নিয়ে আমাদের একটা আবেগ আছে বটে, কিন্তু ভাষা নিয়ে কোনো পরিশ্রম করতে আমরা রাজি নই। বর্তমানে বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারও অনেক সমৃদ্ধ। বাংলা একাডেমির অভিধানই আছে ২৪টির বেশি।
আজকের যে শিশু, আজকের যে কিশোর সে কোথা থেকে জানবে একুশ কী? সে কোথা থেকে বুঝবে ফেব্রুয়ারির মর্মকথা? তার মধ্যে কী করে প্রেম জাগবে? সালাম রফিক জব্বার কারা সে তা কোথা থেকে শুনবে? সে তো সংগ্রাম দেখেনি, যুদ্ধ দেখেনি, ত্যাগ দেখেনি, দাউ দাউ পুড়ে যাওয়া গ্রাম-নগর দেখেনি, তবে সে কেমন করে যা দেখেনি তার প্রতি অনুরাগী হবে, প্রেমময় হবে, ভালবাসায় ব্যথিত হবে? যে শিশুটি তার মা’কে অসুন্দর বাংলায় বা মিশ্রিত বাংলায় কথা বলতে শোনে, যে কিশোর তার বাবাকে স্টারপ্লাস বা ডিসকভারি দেখতে দেখে সারাক্ষণ সে কী করে শিখবে আঁধার আর আধারের পার্থক্য, নীচ আর নিচ এর পার্থক্য?
যতদিন সব বাঙালি সঠিকভাবে পড়তে ও লিখতে পারবেনা, ততদিন শহীদ মিনারে যাওয়া বন্ধ থাকুক। এমনটি হলে কেমন হয়? যারা বাংলায় কবিতা লিখেন, বই লেখেন, বাংলার প্রফেসরেরা শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দেয়, মুল দেয়; যারা বাংলা পড়তে পারেন না, তাদের জন্য কিছুই করেন না, ওখানে গিয়ে ওদের ম্যাঁওপ্যাঁও বক্তৃতা শুনে কি হবে জাতির? ফুল দিয়ে ভাসিয়ে দিলেও কিচ্ছু হবে না। পৃথিবীর কোন ভাষাই ছোট নয়। লোক দেখানো ফুল না দিয়ে দোয়া ও শহীদ পরিবারের জন্য অবদান রাখলে ভালো হতো। ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার হচ্ছে, বস্তির ছেলে বস্তিতে থেকে যাচ্ছে; অথচ জাতির কাছে সম্পদ আছে, ক্যাশ টাকা আছে! কে যাবে শহীদ মিনারে তাদের বস্তাপঁচা বাণী শুনতে? শতকরা কজন শহীদ মিনারে সেলফি তুলতে যায় আর কজন ভালোবেসে যায়, সেটাও প্রশ্ন।
একটি বিশেষ ঘোষনাঃ
আগামী পাঁচ দিন আমি কোনো পোষ্ট দিবো না। অর্থ্যাত এমাসে আর কোনো পোষ্ট দিবো না। শুধু পড়বো আর মন্তব্য করবো।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



