
আমার আরেকটা বিয়ে করতে ইচ্ছা করে।
দুইটা বউ থাকলে তো অনেক সুবিধা। অনেক আনন্দ। সুরভি কাপড় আয়ন করতে পারে না। দোকান থেকে মাসে অনেক টাকার কাপড় আয়রন করিয়ে আনতে হয়। আরেকটা বিয়ে যেটা করবো সেটা আগেই জেনে নিবো মেয়েটা কাপড় আয়রন করতে জানে নাকি। ঘর ধোয়া মুছা করতে জানে কিনা। সুরভি ঘর মুছে না। কাপড়ও ধোয় না। এমন কি থালা বাসনও ধোয় না। এজন্য বুয়া রাখতে হয়েছে। বুয়া রাখা মানে বাড়তি খরচ। কাজেই আরেকটা বিয়ে করতে হবে। স্ত্রীলোক নিজ সংসারের কাজ করবে এটা স্বাভাবিক নিয়ম। অনেক চিন্তা ভাবনা করে দেখলাম- দুইজন থাকলে সুবিধাই- সুবিধা। একটা সংসারে অনেক কাজ থাকে। দুইজন মিলেমিশে ঘরের কামকাজ ভাগ করে নিবে। বাহ!
সুরভি যদি অনুমতি দেয়, তাহলে করে ফেলব।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, আমাদের বুয়া মাসে ১৫ দিন আসে না। হিসাবে ছোট সংসার, বুয়ার কোনো দরকার নাই। দুই বউ যদি মিলে মিশে থাকে তাহলে সংসারে শান্তিই শান্তি। একদিন সুরভির সাথে থাকবো, একদিন নতুন বউয়ের সাথে থাকবো। না আমি বেঈমানি করবো না। দু'জনকে ভরণপোষণ সমান সমান দিবো। মরতে তো হবে, আল্লাহর কাছে কি জবাব দেব- যদি দুই চোখ দুইরকম করি! একটা গ্রামের দরিদ্র মেয়ে বিয়ে করবো। ইন্টার পাশ হলেই চলবে। মেয়েটার ভালো রান্নার গুন অবশ্যই থাকতে হবে। প্রচুর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। কোনো চাহিদা থাকা যাবে না। স্বামীর কথাই হবে তার শেষ কথা।
বাসা ভরতি মেহমান।
এই মেহমান একবেলা খেয়েই চলে যাবে- এরকম না। এরা সাত দিন থাকবে। আমি সাত দিনের জন্য ভরপুর বাজার করেছি। অতি মাত্রায় বাজার করেছি। বাজার এত বেশি করেছি যে সুরভি রেগে গেছে। ফ্রিজেও নাকি জায়গা নেই। শ্বশুর বাড়ির মেহমান কম বাজার করলে হয়! দুই হালি কক মূরগী কিনেছি। সাথে দুইটা ফার্মের মূরগী। তিন কেজি গরুর মাংস। বিশাল এক রুই মাস (বাজার থেকেই কাটিয়ে এনেছি। দুইটা বড় শোল মাছ। লাউ দিয়ে রান্না হবে। দুই কেজি চিংড়ি মাছ (বড় টা)। সব রকমের সবজি। চার রকমের ফল। নানান রকম বিস্কুট। অথচ এইসব আমি খাই না। গত একমাস ধরে রাতে ভাত খাই না। শুধু মুড়ি খাই।
সেদিন মার সাথে খুব ঝগড়া হয়ে গেল।
গত চারদিন মার সাথে কোনো কথা নেই। সেদিন রাতে মার শরীর হঠাত খুব খারাপ করলো। একদম যায় যায় অবস্থা। অবশ্য তখন আমি বাসায় ছিলাম না। রাতে বাসায় ফিরে শুনেছি। সুরভি বলল, যাও মার সাথে দেখা করে আসো। আমি যাই নি। আজ বাসায় কেমন একটা উৎসব উৎসব ভাব। ঘটনা কি? ঘটনা হলো আজ মায়ের জন্মদিন। সুরভি সকালে বিশাল এক ফুলের তোড়া মাকে দিয়েছে। হয়তো মার জন্য একটা শাড়িও কিনে রেখেছে। রাতে দিবে। আমরা চার ভাই। সবাই মাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। শুধু আমি ছাড়া। আমার খুব রাগ। বংশ থেকে লোকজন জমিজমা, টাকা পয়সা পায়। আমি পেয়েছি শুধু রাগ। সীমাহীন রাগ।
এদিকে আমার মন ভালো নেই।
পরী অসুস্থ। মামস হয়েছে। দুই গাল ফুলে গেছে। গলা ব্যথা। বেচারি আরাম করে খেতেও পারছে না। ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার বলেছেন, ভয় নেই। দুই তিন দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। গত দুই দিন পরী স্কুলেও যায় নি। সন্ধ্যায় আরবী পড়তেও যায় নি। এলোহা ক্লাশেও যায় নি। শিশু একাডেমীও যায় নি। সারাদিন বাসায় বন্ধী। বাসায় মেহমানের মধ্যে দুইজন কিউট পিচ্চি আছে। তাদের পেয়ে পরী ভীষন খুশি। ওদের সাথে পরী খেলছে। সুরভি রান্না নিয়ে ভীষন ব্যস্ত। শুধু মেহমানদের জন্য রান্না না, পুরো বাড়ির সবার জন্যই রান্না করতে হচ্ছে। এটা আমাদের বাসার অলিখিত নিয়ম।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১০:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


