somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আসে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ

১৯ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সারাবিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস।
শুধু আতঙ্ক না, মানুষও মরছে। পৃথিবীর ইতিহাসে ছয়টি ভাইরাসকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এই ছয় ভাইরাসের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালে ইবোলা মহামারিতে আফ্রিকার পশ্চিমাংশের দেশগুলোতে ১১ হাজার ৩৩৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। এইডস মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত কোটি মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। এবং প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ এইচআইভিতে মারা গেছে।

যে কোনো সমস্যার সাথে ধর্মের সম্পর্ক আছে।
পাপের জন্যই বিভিন্ন আজাব ও মহামারী নেমে আসে বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না।’ ধর্ম মতে, করোনা ভাইরাস আল্লাহ প্রদত্ত। পাপাচারের শাস্তি হিসেবে অতীতেও আল্লাহতায়ালা মহামারী দিয়েছেন। অবাধ্য জাতিকে ধ্বংস করেছেন। আমরা জানি, দুনিয়ার সব কিছু আল্লাহর ইশারাতেই হয়। এবং খুব শ্রীঘই আল্লাহর ইশারাতেই কোরআন রিসার্চ করে ইহুদী নাসারারা করোনা ভাইরাসের ওষুধ আবিস্কার করে ফেলবে। এদিকে যারা করোনাতে মারা যাচ্ছেন- তারা যুদ্ধ না করেই শহীদের মর্যাদা পাবেন।

হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘পাঁচ প্রকার মৃত্যুতে শহীদ হওয়া যায়।
১। মহামারীতে মৃত,
২। পেটের পীড়ায় মৃত,
৩। পানিতে ডুবে মৃত,
৪। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং
৫। যে আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করেছে।’

হাদিসে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে ‘বিসমিল্লা-হিল্লাজি লা ইয়াদ্বুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামি উল আলিম'। সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি আকস্মিক কোনো বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর আচমকা কোনো বিপদ আসবে না। যারা করোনাতে অলরেডি মারা গেছেন তারা কেন নবিজির দেখানো পথে গেলেন না? তারা কেন ‘বিসমিল্লা-হিল্লাজি লা ইয়াদ্বুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামি উল আলিম'। পড়লেন না? ডাক্তাররা কেন নবিজির দেখানো পথের কথা বলছেন না? তাহলে তো মৃত্যু সংখ্যা কমে যায়। আসল কথা হলো- সূরা দিয়ে মানুষ বাচানো যায় না। যুগ বদলে গেছে।

প্লেগ মহামারী দেখা দেয় ১৯১০ সালে।
চীনের মাঞ্চুরিয়ায় অঞ্চলে দুই বছরে মারা যায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। কোনো সূরাই তাদের বাঁচাতে পারে নাই। সূরা বা নামাজ দিয়ে রোগ শোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। আসলে মনে হয়, পৃথিবীর মানুষ এতই পাপিষ্ঠ হয়ে গেছে যে তাদের মধ্যে কোনো সূরাই কাজ করছে না। কোনো মহান গ্রন্থের বানীও তাদের পাপ থেকে দূরে রাখতে পারছে না। তাই রোগশোক সূরা দিয়ে নির্মূল সম্ভব না। যদি না মহান প্রভু অলৌকিক ভাবে কিছু করেন। যদিও আজ পর্যন্ত প্রভু অলৌকিক কোনো খেলা দেখান নি। তবে দুই একটা অলৌকিক খেলা দেখানো মানুষ পাপ কম করতো। তখন পৃথিবীটা বেশ আনন্দময় হতো।

ধর্ম থেকে জানতে পারি-
মানবজাতি যখন অধিকহারে মাদকে ডুবে যাবে, গান বাজনা ও অশ্লীল কথাবার্তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করবে, তখন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে থাকবে। ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির আগুন, ভাইরাস, মানববিকৃতির মতো নিত্য নতুন মহাদুর্যোগ আমাদের গোনাহ ও নাফরমানিরই ফল। যদি আজাব মোকাবেলার সাহস ও সক্ষমতা আমাদের না থাকে, তাহলে সর্বপ্রকার গোনাহ ও নাফরমানি বর্জন করে আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করাই হবে মানবজাতির জন্য সত্যিকার বুদ্ধিমান ও কল্যাণকর কাজ। অথচ মানুষ ধর্মের দিকে ঝুকেনি। তাই, পৃথিবীতে যুগে যুগে অসংখ্য মহামারীর ঘটনা ঘটেছে এবং এসব মহামারীতে মৃত্যু হয়েছে কোটি কোটি মানুষের। পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ সালে ইবোলা জ্বরে মারা যায় অন্তত ১১,৩০০ জন। ধর্মের বানী মেনে চললে এত গুলো লোক মারা যেত না। মানুষ এত বোকা কেন!

প্রাকৃতিক দুর্যোগে যুগে যুগে শত শত নগর সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে গেছে যেমন।
৪৩০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এথেন্সে মহামারী হয়েছিল টাইফয়েড, টাইফাস জ্বর, গুটিবসন্ত কিংবা অ্যানথ্রাক্সে। পঞ্চম শতকে ইরাক, ইরান তথা মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ মারা যায় প্লেগ রোগে। আমাদের মাথার উপর অনেকগুলো হুমকি: জলবায়ুর পরিবর্তন, পরমাণু যুদ্ধ, মহামারী কিংবা মহাকাশ থেকে ছুটে আসা অ্যাস্টরয়েড বা গ্রহাণুর আঘাত। এর যে কোন একটিই পৃথিবী থেকে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ণ করে দিতে পারে। ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছিল মহাকাশ থেকে ছুটে আসা এক গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানার পর। যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি থামানো না যায়, তাহলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকানো যাবে না। ভয়াবহ দূর্যোগ নেমে আসবে। আর বিশ্বায়নের যুগে যে কোন রোগ ছড়াতে পারে অতিদ্রুত, কারণ এখন মানুষ বিমানে দিনেই পাড়ি দিতে পারে কয়েকটি মহাদেশ।

আশার কথা হলো-
আজকাল ধর্মের ভয় ভীতিতেও মানুষ ভয় পায় না। আধুনিক মানুষ তো ধর্মের বানী গুলোকে হাস্যকর মনে করে। মানুষের সাথে কেউ পারবে না। মানুষের ক্ষমতা সীমাহীণ। অচিরেই করোনা ভাইরাসের ওষুধ বের হবে। মানুষ সব কিছুকেই জয় করবে। মানুষ অন্ধকার গুহা থেকে জয় করতে করতেই এত দূর এসেছে। মানুষ হারতে জানে না। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে ভড়কে দেবার দিন শেষ। মানুষ আজ সচেতন। ধর্মকে পেছনে ফেলে মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে। জয় হোক, মানুষের। জয় হোক মানবতার। ধর্মকে আকড়ে ধরে কুসংস্কার বিশ্বাসীরা দিনদিন অসহায় হয়ে পড়ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:০২
১৬টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×