
সারাবিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস।
শুধু আতঙ্ক না, মানুষও মরছে। পৃথিবীর ইতিহাসে ছয়টি ভাইরাসকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এই ছয় ভাইরাসের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালে ইবোলা মহামারিতে আফ্রিকার পশ্চিমাংশের দেশগুলোতে ১১ হাজার ৩৩৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। এইডস মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত কোটি মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। এবং প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ এইচআইভিতে মারা গেছে।
যে কোনো সমস্যার সাথে ধর্মের সম্পর্ক আছে।
পাপের জন্যই বিভিন্ন আজাব ও মহামারী নেমে আসে বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না।’ ধর্ম মতে, করোনা ভাইরাস আল্লাহ প্রদত্ত। পাপাচারের শাস্তি হিসেবে অতীতেও আল্লাহতায়ালা মহামারী দিয়েছেন। অবাধ্য জাতিকে ধ্বংস করেছেন। আমরা জানি, দুনিয়ার সব কিছু আল্লাহর ইশারাতেই হয়। এবং খুব শ্রীঘই আল্লাহর ইশারাতেই কোরআন রিসার্চ করে ইহুদী নাসারারা করোনা ভাইরাসের ওষুধ আবিস্কার করে ফেলবে। এদিকে যারা করোনাতে মারা যাচ্ছেন- তারা যুদ্ধ না করেই শহীদের মর্যাদা পাবেন।
হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘পাঁচ প্রকার মৃত্যুতে শহীদ হওয়া যায়।
১। মহামারীতে মৃত,
২। পেটের পীড়ায় মৃত,
৩। পানিতে ডুবে মৃত,
৪। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং
৫। যে আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করেছে।’
হাদিসে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে ‘বিসমিল্লা-হিল্লাজি লা ইয়াদ্বুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামি উল আলিম'। সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি আকস্মিক কোনো বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর আচমকা কোনো বিপদ আসবে না। যারা করোনাতে অলরেডি মারা গেছেন তারা কেন নবিজির দেখানো পথে গেলেন না? তারা কেন ‘বিসমিল্লা-হিল্লাজি লা ইয়াদ্বুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামি উল আলিম'। পড়লেন না? ডাক্তাররা কেন নবিজির দেখানো পথের কথা বলছেন না? তাহলে তো মৃত্যু সংখ্যা কমে যায়। আসল কথা হলো- সূরা দিয়ে মানুষ বাচানো যায় না। যুগ বদলে গেছে।
প্লেগ মহামারী দেখা দেয় ১৯১০ সালে।
চীনের মাঞ্চুরিয়ায় অঞ্চলে দুই বছরে মারা যায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। কোনো সূরাই তাদের বাঁচাতে পারে নাই। সূরা বা নামাজ দিয়ে রোগ শোক থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। আসলে মনে হয়, পৃথিবীর মানুষ এতই পাপিষ্ঠ হয়ে গেছে যে তাদের মধ্যে কোনো সূরাই কাজ করছে না। কোনো মহান গ্রন্থের বানীও তাদের পাপ থেকে দূরে রাখতে পারছে না। তাই রোগশোক সূরা দিয়ে নির্মূল সম্ভব না। যদি না মহান প্রভু অলৌকিক ভাবে কিছু করেন। যদিও আজ পর্যন্ত প্রভু অলৌকিক কোনো খেলা দেখান নি। তবে দুই একটা অলৌকিক খেলা দেখানো মানুষ পাপ কম করতো। তখন পৃথিবীটা বেশ আনন্দময় হতো।
ধর্ম থেকে জানতে পারি-
মানবজাতি যখন অধিকহারে মাদকে ডুবে যাবে, গান বাজনা ও অশ্লীল কথাবার্তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করবে, তখন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে থাকবে। ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির আগুন, ভাইরাস, মানববিকৃতির মতো নিত্য নতুন মহাদুর্যোগ আমাদের গোনাহ ও নাফরমানিরই ফল। যদি আজাব মোকাবেলার সাহস ও সক্ষমতা আমাদের না থাকে, তাহলে সর্বপ্রকার গোনাহ ও নাফরমানি বর্জন করে আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করাই হবে মানবজাতির জন্য সত্যিকার বুদ্ধিমান ও কল্যাণকর কাজ। অথচ মানুষ ধর্মের দিকে ঝুকেনি। তাই, পৃথিবীতে যুগে যুগে অসংখ্য মহামারীর ঘটনা ঘটেছে এবং এসব মহামারীতে মৃত্যু হয়েছে কোটি কোটি মানুষের। পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ সালে ইবোলা জ্বরে মারা যায় অন্তত ১১,৩০০ জন। ধর্মের বানী মেনে চললে এত গুলো লোক মারা যেত না। মানুষ এত বোকা কেন!
প্রাকৃতিক দুর্যোগে যুগে যুগে শত শত নগর সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে গেছে যেমন।
৪৩০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এথেন্সে মহামারী হয়েছিল টাইফয়েড, টাইফাস জ্বর, গুটিবসন্ত কিংবা অ্যানথ্রাক্সে। পঞ্চম শতকে ইরাক, ইরান তথা মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ মারা যায় প্লেগ রোগে। আমাদের মাথার উপর অনেকগুলো হুমকি: জলবায়ুর পরিবর্তন, পরমাণু যুদ্ধ, মহামারী কিংবা মহাকাশ থেকে ছুটে আসা অ্যাস্টরয়েড বা গ্রহাণুর আঘাত। এর যে কোন একটিই পৃথিবী থেকে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ণ করে দিতে পারে। ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছিল মহাকাশ থেকে ছুটে আসা এক গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানার পর। যদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি থামানো না যায়, তাহলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকানো যাবে না। ভয়াবহ দূর্যোগ নেমে আসবে। আর বিশ্বায়নের যুগে যে কোন রোগ ছড়াতে পারে অতিদ্রুত, কারণ এখন মানুষ বিমানে দিনেই পাড়ি দিতে পারে কয়েকটি মহাদেশ।
আশার কথা হলো-
আজকাল ধর্মের ভয় ভীতিতেও মানুষ ভয় পায় না। আধুনিক মানুষ তো ধর্মের বানী গুলোকে হাস্যকর মনে করে। মানুষের সাথে কেউ পারবে না। মানুষের ক্ষমতা সীমাহীণ। অচিরেই করোনা ভাইরাসের ওষুধ বের হবে। মানুষ সব কিছুকেই জয় করবে। মানুষ অন্ধকার গুহা থেকে জয় করতে করতেই এত দূর এসেছে। মানুষ হারতে জানে না। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে ভড়কে দেবার দিন শেষ। মানুষ আজ সচেতন। ধর্মকে পেছনে ফেলে মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে। জয় হোক, মানুষের। জয় হোক মানবতার। ধর্মকে আকড়ে ধরে কুসংস্কার বিশ্বাসীরা দিনদিন অসহায় হয়ে পড়ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


