somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

শেষ চিঠি

২৪ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মীরা তুমি কেমন আছো জানতে চাইবো না।
তুমি আমার কাছ থেকে চলে গেছো। এই বিষয়টা প্রথম প্রথম আমাকে ভীষন কষ্ট দেয়। দীর্ঘদিন লেগেছে আমার বুঝতে, জানতে- তুমি নেই। সারাদিন নানান কাজে ব্যস্ত থাকি। তোমার কথা খুব একটা মনে পড়ে না। কিন্তু দিনশেষে যখন বাসায় ফিরি তখন মনে পড়ে তুমি নেই। চলে গেছো। চলে গেছো তাও প্রায় দুই বছর হতে চললো। আমি জানি না তুমি কেমন আছো? তোমার ভালো থাকার কথাও না। আমার মতো করে কেউ তোমাকে ভালোবাসতে পারবে না। অবশ্য অন্য সবার মতো নানান রঙ ঢং করে আমি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারিনি কখনও। ইচ্ছা করেই তোমার কোনো খোজ নিই নি গত দুই বছরে। তুমিও কি আমার কোনো খোজ নাও নি? তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। সম্পূর্ন বিনা কারনে তুমি রাগ করে চলে গেলে। অতি তুচ্ছ ঘটনা। এই ঘটনায় রাগ করে চলে যাওয়ার মতো না। বংশগতভাবে আমি প্রচন্ড রাগী। প্রচন্ড জিদ আমার। আমার অপরাধ কি ছিলো আজ তা আমার স্পষ্ট আর মনে নেই।

ইচ্ছা করলে আমি একটা বিয়ে করে নিতে পারতাম।
পুরুষ মানুষ একা থাকতে পারে না। কিন্তু আমি একা আছি। বেশ ভালোই আছি। তবে মিথ্যা বলব না, মাঝে মাঝে বুকের মধ্যে বড্ড হাহাকার করে। আমি তো খারাপ মানুষ ছিলাম না। সবসময় আমার তোমার মনের মতো হয়ে উঠার একটা চেষ্টা ছিলো। এটা ঠিক, আমি ছোট চাকরি করি। আমার সেলারি অল্প। তার জন্য তোমাকে কোনো দিন না খেয়ে থাকতে হয় নি। আমার কেন জানি মনে হয় বিয়ের তিনমাস পরেই আমাকে তোমার বিরক্ত লাগতে শুরু করেছিলো। তবু তুমি মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছে হয়তো। একসময় তোমার বাধ ভেঙ্গে যায়। তাই তুমি চলে গেলে। চলে গিয়ে কিন্তু তুমি ভালো নেই। তবে তোমার যাওয়া উচিত হয় নি। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে অনেক কথাই হয়। কথা কাটাকাটি হয়। তার জন্য ঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে কেন? তুমি নিজের ইচ্ছায় চলে গিয়েছিলে বলেই- ইচ্ছা করেই আমি তোমার খোজ খবর নিই নি। নিবোও না। কিছু কিছু বিষয়ে আমার ঘাড় খুব তেরা।

মেয়েদের বেশি তেজ ভালো না।
তোমার বেশি তেজের জন্য আজ তোমার এই অবস্থা। শুধু আমি বলেই পাচ বছর সংসার করতে পেরেছো। অন্য কোনো লোকের সাথে তোমার বিয়ে হলে তুমি পাচ মাসও সংসার করতে পারতে না। বরং স্বামীর হাতে সকাল সন্ধ্যা মাইর খেতে। দেখো, তুমি কতদিন কত কটু কথা আমায় বলেছো। তবুো আমি তোমার গায়ে কোনো দিন হাত তুলিনি। এ শিক্ষা আমার বাবা মা আমাকে দেয় নি। তুমি তো আমাকে দেখে শুনে জেনেই বিয়ে করেছিলে। দুই বছর প্রেম করেছো। আমার ভালো মন্দ সবই তোমার জানা। কোনো কিছুই তো তোমার কাছে লুকাই নাই। আমাকে ছেড়ে চলে গিয়ে ফেসবুক থেকে ব্লক করলে, আমার নাম্বার ব্লক করলে। কি ভেবেছিলো আমি তোমাকে ফোন করবো? ফেসবুকে ম্যাসেজ দিবো? তুমি আমাকে চিনতে ভুল করেছো। আমি সেই রকম লোক না। আমি অন্য জিনিস। আমি তোমাকে ঘর থেকে বের হতে বলিনি। তুমি নিজের ইচ্ছায় গিয়েছো। তাই তোমাকে আমি আসতে বলি নি। অবশ্য তুমি নিজে থেকে এলে আমি তোমাকে নিশ্চয়ই ঘাড় ধাক্কা দিবো না। থাক, কথা আর বাড়াতে চাই না।

এখন কাজের কথা বলি।
তুমি কই আছো, কি করছো কিছুই জানি না। জানতে চাইও না। জানার চেষ্টাও করি নি। করবোও না। আমার কেন জানি মনে হয়- তুমি ভালো নেই। ভালো না থাকার কারন হলো- তোমার বুদ্ধির ঘাটতি আছে। বুদ্ধিহীন মানুষেরা সমাজে শুধু অবহেলাই পায়। যদি তোমার টাকার দরকার হয়- তাহলে আমাকে জানিও। অনেক টাকা দিতে না পারি। অল্প হলেও কিছু দিতে পারবো। জামা কাপড়, গহনা কিছুই তো নাও নি। অবশ্য তোমার জিনিসপত্র আমি ছুয়েও দেখি নি। এই অভ্যাস আমার নেই। যাই হোক, তুমি ভালো থাকো। সুস্থ থাকো। এটাই চাই। তুমি যদি মনে করো রাগ করে বাসা থেকে চলে গিয়ে তুমি অন্যায় করেছো, যদি তোমার পাপবোধ হয়- তাহলে আমার কাছে ক্ষমা চাও। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিবো। নিজের ইচ্ছায় গিয়েছো। তাই নিজের ইচ্ছায় আসলে আসতে পারো। আই ডোন্ট মাইড। আশা করি গত দুই বছরে চারপাশ থেকে অনেক জ্ঞান অর্জন করেছো। তোমার ভুলও বুঝতে পারেছো।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৩৮
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×