
১। আলেকজান্ডার বেলায়েভের একটি উপন্যাসের নাম 'উভচর মানুষ'। আমি যে কয়টি ভালো উপন্যাস পড়েছি এটা তার একটা। বইটা কিছু দিন আগেও আমার কাছে ছিল। এখন হারিয়ে গেছে।
বইটির নায়ক 'উভচর মানুষ'। সে স্থলে থাকতে পারে আবার পানিতেও থাকতে পারে। প্রথমবার বইটি পড়ে বইয়ের নায়কের দুঃখে খুব কেঁদেছিলাম। আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম যেন আল্লাহ আমাকে উভচর মানুষ বানিয়ে দেন।
২। মানুষকে তার দীর্ঘ জীবনে নানান অপমানের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। অপমান আগুনের মতো, মানুষকে শুদ্ধ এবং পবিত্র করে।
৩। যে ব্যক্তি নিজেকে জাহির করার জন্য কবিতা রচনা করেন তিনি কবি নামের অযোগ্য। 'কবি' শব্দটাকে তিনি অসম্মান করলেন। মানুষ একমাত্র মনের আনন্দ লাভের জন্যই কাব্য চর্চা করতে পারে, এর অন্যথা হলে বুঝতে হবে তার অন্তরে ব্যাধি আছে।
৪। আপনার বয়স যদি এখন তিরিশ হয়, তবে এখন পর্যন্ত আপনি কমপক্ষে ৫১ মণ চালের ভাত খেয়েছেন।
প্রথম দুই বছর বাদ দিয়ে ২৮ বছর প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২০০ গ্রাম চালের ভাত খেয়েছেন ধরলে, তিরিশ বছরে এসে দাঁড়ায় ৫১ মণ চালের ভাত।
৫। ৫০ বছর আগেও হাওরের মানুষ ছিল প্রকৃতির কাছে অসহায়, আজও তাই।
তাহলে স্বাধীনতার এত বছরে হাওরের মা্নুষদের জন্য কিছু করা হয় নি।
৬। প্রতিদিন শত শত গাছ কাটা হচ্ছে, পাহাড় ধ্বংশ হচ্ছে, নদী দখল হচ্ছে বন জঙ্গল উজার হচ্ছে- প্রকৃতি তার প্রতিশোধ তো নিবেই।
৭। ১৯৩৪ সালে আমি যখন সপ্তম শ্রেনীতে পড়ি তখন ভীষনভাবে অসুস্থ্ হয়ে পড়ি। ছোট সময়ে আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম। খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম। হঠাৎ বেরীবেরী রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। আব্বা আমাকে নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে যান।
১৯৩৭ সালে আমি আবার লেখাপড়া শুরু করলাম। এবার আর পুরনো স্কুলে পড়বো না। কারণ সহপাঠীরা আমাকে পেছনে ফেলে গেছে। আব্বা আমাকে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। আব্বাও আবার গোপালগঞ্জ ফিরে এলেন।
আমি ভীষন একগুঁয়ে ছিলাম। আমার একটা দল ছিলো। কেউ কিছু বললে আর রক্ষা ছিলো না। মারপিট করতাম। আমার দলের ছেলেদের কেউ কিছু বললে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়তাম।
অসমাপ্ত আত্মজীবনী # শেখ মুজিবুর রহমান,অনুচ্ছেদ- ৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

