
আমি মানুষটা খারাপ।
মার সাথে কঠিন ঝগড়া হয়েছে। কথা বন্ধ প্রায় আড়াই মাস হয়ে গেছে। একই বাসায় থাকি কিন্তু কথা বন্ধ। আমিও এগিয়ে যাই না কথা বলতে, মাও এগিয়ে আসে না। অবশ্য সুরভি অসংখ্যবার আমাকে বুঝিয়েছে। যাও মার সাথে কথা বলো। তুমি কেমন ছেলে মার সাথে রাগ করে আছো? পারো কিভাবে মার সাথে কথা না বলে থাকতে। আমি আমার মার সাথে রাগ করতাম, ঝগড়া করতাম কিন্তু কথা বলা তো কখনও বন্ধ করি নাই। যাও মাকে জড়িয়ে ধরে কথা বলো। মা তো তোমার সাথে ঝগড়া করে নাই। তুমিই ঝগড়া করেছো। দোষ তোমার। আমি আমার দোষ খুজে পাই না। সমস্যা এখানেই। মাতো পারে আমার কাছে এসে স্যরি বলতে। তাহলেই তো ঝগড়া মিটে যায়। এবার আমি নিজ থেকে মার কাছে যাবো না। নো নেভার।

খেয়াল করে দেখবেন কোনো ছবিতে আব্বা নাই।
আব্বা নাই কারন মা আব্বার সাথে কঠিন ঝগড়া করেছে। মা আব্বার সাথে কোনো ছবি তুলতে রাজী না। সারা জীবনই তারা ঝগড়া করেছে। কিন্তু গত দুই বছর ঝগড়া এত বড় মাপের হয়েছে যে কথা বন্ধ। ছবি তোলাও বন্ধ। অথচ একসময় দেখেছি তারা সারা রাত জেগে ভিসিআর এ সিনেমা দেখতো। কত গল্প করতো তারা। কত ঘুরে বেড়ানো। আব্বা দুই হাত ভরতি করে বাজার করতো। মা রান্না করতো। সবাই মিলে খেতাম। মার হাতের রান্না ভালো ছিলো। খেয়ে আরাম পেতাম। এখন মা রান্না করে না। যদি বলি মা আজ তুমি রান্না করো। তাহলে মা বলে রান্না ভুলে গেছি। তাছাড়া রান্না করলে এখন মজাও হয় না। কিন্তু আমি মার রান্না খুব মিস করি। মার মতো রান্না করতে সুরভিও পারে না। অবশ্য সুরভি মার কাছ থেকে অনেক রান্না শিখেছে। মাঝে মাঝে রান্না করে বলে, আজ মার মতো রান্না করেছি। মশলা কম দিয়ে।

মায়ের একটা ঘটনা বলি।
আমার প্রতি মায়ের কতটা ভালোবাসা ছিলো তা এই গল্প থেকে পরিস্কার হবে। বহু আগের ঘটনা। তখন আমি হামাগুড়ি দেই। নতুন হামাগুড়ি দিতে শিখেছি। কোলে থাকি না। সারাক্ষন হামাগুড়ি দিয়ে পুরো বাড়ি ঘুরে বেড়াই। একদিন বাসার কাছে কোথাও আগুন লেগেছে। বাইরে খুব হই চই হচ্ছে। উঠানে আমি হামাগুড়ি দিচ্ছি আপন মনে। নানা নানী বসে আছেন উঠানের কোনে। আমার মা কোথা থেকে ঝড়ের মতো ছুটে এসে আমাকে কোলে করে নিয়ে বাইরে দিলো দৌড়। আগুনের ঝামেলা মিটমাট হলে মা কয়েক ঘন্টা পর বাসায় ফিরে আসে আমাকে কোলে করে নিয়ে। আগুন লেগেছিলো আমাদের পাশের এলাকায়। সামান্য আগুন লেগেছিলো। নানা নানী মাকে বললেন, পুষ্প তুই তোর ছেলেকে নিয়ে দৌড় দিলি- বুড়ো বাবা মায়ের কথা একবার ভাবলি না। তখন মা বলেছিলো- আমার কাছে আগে আমার সন্তান। (মায়ের নাম পুষ্প না। তবু নানা নানী মাকে পুষ্প বলেই ডাকতেন)

মা এখন বেশ ভালো আছেন।
সারা দিন শুয়ে শুয়ে টিভিতে ইউটিউবে মুভি দেখে। গান শুনেন। যখন যা মন চায় দেখেন। তার কাছ থেকে রিমোট নেওয়া যায় না। মাসে দুইবার মা ডাক্তারের কাছে যান। প্রতিদিন অনেক গুলো করে ওষুধ খান। গত ত্রিশ বছর ধরে মাকে ওষুধ খেতে দেখছি। তার ওষুধের বাক্সে সব সময় ওষুধ থাকে। ঢাকা শহরে কোন রোগের জন্য কোন ডাক্তার কোথায় বসে সব মার মুখস্ত। ইদানিং মার সাথে কথা না বলে আমার খুব লস হচ্ছে। মার সাথে কথাবার্তা বন্ধ হবার কারনে- আমার বিরাট আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। কথাবার্তা অব্যহত থাকলে নিয়মিত টাকা পয়সা পেতাম। আড়াই মাসে আমার অনেক টাকা ক্ষতি হয়ে গেল। সামনে ঈদ। কি যে করি। এদিকে আমার হাত প্রায় খালি। মা তো পারে আমার জন্য টাকা পাঠিয়ে দিতে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


