
শাহেদ লন্ডনের বার্মিংহাম শহরটা দেখে মুগ্ধ!
এত সুন্দর কোনো শহর হতে পারে- এটা তার ধারনার বাইরে ছিলো। সে নোংরা ঢাকা শহরের লোক। শাহেদ জামাল বার্মিংহামের এক গলি থেকে আরেক গলিতে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তার খুব ভালো লাগছে। খুব বেশি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাস্তা ঘাট। রাস্তায় প্রচুর লোকজন। মেয়ে গুলো কি সুন্দর। অথচ তাদের দিকে কেউ কুৎসিত ভাবে তাকাচ্ছে না। একটা মেয়েকে শাহেদের এত ভালো লাগলো যে মেয়েটার পেছন পেছন অনেকক্ষন হাটলো। সোনালী রঙ্গের চুল। স্কার্ট পরা। পা গুলো কি ফর্সা! ভরাট বক্ষ! মেয়েটা একটা বিল্ডং এর ভিরত ঢুকে পড়লো। ভাগ্য ভালো হলে মেয়েটার সাথে হয়তো আবার দেখা হবে। এই শহরে শাহেদ অনেক দিন থাকবে। শাহেদের চা খেতে ইচ্ছা করছে। অথচ রাস্তার ফুটপাতে কোনো চায়ের দোকান খুজে পাওয়া গেলো না। শাহেদ একটা রেস্টুরেন্টে গেলো। চা চাইলো। রেস্টুরেন্টের মেয়েটা বলল, চা নেই। কফি আছে। শাহেদ কফি খায় না। এই দেশে এটাই শাহেদের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের মেয়েটা খুব সুন্দর। নীলার সাথে বেশ মিল আছে।
শাহেদের জেমস ওয়াট সাহেবের বাড়িটা দেখার শখ আছে।
বাষ্পচালিত ইঞ্জিন যে আবিস্কার করেছে। সেই জেমস ওয়াট। যদিও জেমস ওয়াটের জন্ম স্কটল্যান্ডে। বাষ্পচালিত ইঞ্জিন আবিস্কারের পরেই বিরাট ধনী বনে যান। লোকটা দীর্ঘ দিন বেচে ছিলেন। তার বাবা ছিলেন জাহান নির্মাতা। দশ বছর পর্যন্ত জেমস স্কুলে ভরতি হয় নি। বাসায় পড়াশোনা করেছে। যাই হোক, শাহেদ আর তিনদিন পর যাবে লিভারপুল। ট্রেনে করে যাবে। দুই পাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাবে। ট্রেন কোথাও থামলে সে নেমে চা- রুটি কলা খাবে। সে তার বাবার সাথে ছোটবেলা ঢাকার বাইরে গেলেই ট্রেনে করে যেত। ট্রেন কোনো জংশনে থামলেই তার বাবা তাকে সাথে নিয়ে নামতেন। খুব দ্রুত তারা চা আর রুটি কলা খেত। শাহেদের ভালো লাগতো আখাউড়া জংশন টি। একবার রাতের বেলা শাহেদ আর তার বাবা আখাউড়া জংশনে বিরাট বিপদে পড়েছিলো। চা- কলা রুটি খেতে গিয়ে ট্রেন ছেড়ে দিলো। তখন অনেক রাত। শীতের রাত। তারা সারারাত ট্রেনের ওয়েটিং রুমে বসে ছিলো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক বোমা পড়ে এ শহরে।
তছনছ হয়ে গিয়েছিলো পুরো বার্মিংহাম। অবশ্য এখন শহরের কোথাও যুদ্ধের ছাপ নেই। দারুন সাজানো গোছানো শহর। মানুষ গুলোও সুন্দর। হাসি খুশি। ভদ্র। রাস্তার চলাচলরত মানুষদের চোখে মুখে কেমন ব্যস্ততা। শাহেদ দাড়িয়ে আছে এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। খুব সুন্দর মাঠ। বাংলাদেশ থেকে সাকিবরা এসে এ মাঠে খেলে গেছে। হেরে গেছে। এ মাঠেই ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারা অপরাজিত ৫০১ রানের বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছিল। এ মাঠে বাংলাদেশ দল আবার খেলতে এলে শাহেদ খেলা দেখতে আসবে। অবশ্যই আসবে। তার হাতে থাকবে বাংলাদেশের পতাকা। সাকিব চার ছয় পিটালে চিৎকার করে গ্যালারি ভাঙবে। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহেদ ভর্তি হবে তার ইচ্ছা আছে। রোড সেফটিতে আইআরপি কোর্স সে অবশ্যই করবে। কোর্স ফি কত টাকা কে জানে! খোজ নিতে হবে। তাড়াহুড়ার কিছু নেই। শাহেদের হাতে অনেক সময় আছে। এখান থেকে একটা কোর্স করে যেতে পারলে, দেশে অনেক সম্মান পাবে।
চারিদিকে কড়া স্বচ্ছ রোদ।
অথচ রোদের কোনো তাপ নেই। একটু পরপর বাতাস এসে গায়ে লাগে। শাহেদ এখন আছে মিডল্যান্ড এলাকায়। মুগ্ধ চোখে শাহেদ চারদিক দেখছে। হঠাত শাহেদ এই দূর দেশে আযান শুনতে পেলো। যোহরের আযান। তার খুব ভালো লাগলো। আযান শুনে সে মসজিদটা খুজে বের করলো। নাম শাহ জালাল মসজি। ছোট মসজিদ কিন্তু খুব সুন্দর। শাহেদ খেয়াল করে দেখল- অল্প কিছু মানুষ নামাজ পড়তে এলো। এরা বাঙ্গালী কিনা শাহেদ জানে না। চেহারা দেখেও সে কিছু বুঝতে পারছে না। শাহেদ শুনেছে এ শহরে অনেক বাঙ্গালী আছে। এখনও কারো সাথে শাহেদের বন্ধুত্ব হয় নি। বন্ধুত্ব হয়ে যাবে। শাহেদ মানুষের সাথে মিশতে জানে। মানুষকে ভালোবাসতে জানে। শাহেদ বিকেল চারটায় যাবে নাইটিংগেল হাসপাতালে। তার উপরের ডান দিকের মাড়ির একটা দাতের অবস্থা খুব খারাপ। ডাক্তার কি মাড়িতে ইনজেশন দিবে? ভাবতেই ভয় লাগছে।
কে যেন শাহেদের পেটে গুতো দিচ্ছে।
শাহেদ খুব বিরক্ত হয়ে চোখ মেলল। দেখে রমনা পার্কের একজন গার্ড। গার্ড চোখ মুখ খিচিয়ে বলল, পার্কের বেঞ্চে শুয়ে থাকা নিষেধ। গার্ডের বুক পকেটে নাম লেখা রিয়াজ উদ্দিন। শাহেদ বলল, রিয়াজ সাহেব এক মাস কি হয়েছে চাকরিতে জয়েন করেছো? রিয়াজ বলল, না। এক সপ্তাহ হয়েছে। শাহেদ বলল, এই জন্যই আমাকে চিনো না। তোমাদের বস সোলায়মান আমার ছোট মামা। তা কি জানো? রিয়াজ থতমত খেয়ে গেলো। শাহেদ বলল, প্রমোশন চাও? তাহলে এক লাফেই বেতন চার হাজার টাকা বেড়ে যাবে। রিয়াজ বলল, স্যরি ভাই আমি আপনাকে চিনতে পারি নাই। আপনি আরাম করে ঘুমান। প্লীজ সোলায়মান স্যারকে আমার নামে নালিশ দিবেন না। শাহেদ বলল, দুপুর হয়ে গেছে। বড্ড খিদে পেয়েছে। রিয়াজ বলল, কি খাবেন বলুন আমি ব্যবস্থা করছি। শাহেদ বলল, পুরান ঢাকায় কাঠাল পাতাতে বিরানী পাওয়া যায়। সেটা আনো। আর হ্যা সাথে একটা কোক এনো। আর সিগারেটের কথা নিশ্চয়ই তোমাকে বলতে হবে না। যাও। কুইক।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


